‘সাধারণ মানুষ যেন ভোগান্তিতে না পড়েন’, রাজ্য হারিয়ে পুরসভা আগলাচ্ছেন মমতা

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক কাজকর্ম ও নাগরিক পরিষেবা নিয়ে বাড়ছে নানা জল্পনা। সেই পরিস্থিতিতেই সাধারণ মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। পুর পরিষেবায় কোনওরকম ব্যাঘাত যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই সোমবার কালীঘাটে কলকাতা পুরসভার মেয়র ও মেয়র পারিষদদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন তিনি।
পুরসভার কাজে সাধারণকে অগ্রাধিকার মমতার (Mamata Banerjee)
কলকাতা পুরসভার দায়িত্ব এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের হাতেই রয়েছে। তাই নাগরিকদের দৈনন্দিন পরিষেবা যাতে নির্বিঘ্নে চালু থাকে, সে বিষয়ে দলের জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন মমতা। দলীয় সূত্রে খবর, বৈঠকে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন পানীয় জল সরবরাহ, নিকাশি ব্যবস্থা, রাস্তা মেরামত এবং বর্জ্য অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলির উপর। সূত্রের খবর, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য কাউন্সিলর ও মেয়র পারিষদদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।
প্রশাসনিক কাজে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কলকাতা পুরসভার বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিষেবা ব্যবস্থাকে সচল রাখতেই হবে। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস।
সেই নির্বাচনের পর দ্বিতীয়বারের জন্য কলকাতার মেয়র হন ফিরহাদ হাকিম। বিরোধী দলগুলি পর্যাপ্ত আসন না পাওয়ায় পুরসভায় কোনও স্বীকৃত বিরোধী দলও তৈরি হয়নি। যদিও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের জেরে পুর প্রশাসনের অন্দরমহলে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

আরও পড়ুন : সম্পত্তি নিয়ে বাড়ছে চাপ! অভিষেককে নোটিশ কলকাতা পুরসভার, তলব করা হল একাধিক নথি
পুর কমিশনারের সময়ের অভাব দেখিয়ে মেয়র পারিষদদের বৈঠক বাতিল হওয়া নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সাম্প্রতিক প্রশাসনিক টানাপোড়েন ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে কলকাতা পুরসভার পরিষেবা ব্যবস্থা সচল রাখাই এখন তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই আগাম সতর্কবার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী দিনে পুর প্রশাসনের কাজে এই বার্তার কতটা প্রভাব পড়ে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।



