0%

‘সিজেপিকে টাকা দিচ্ছে মোদি-বিরোধী আমেরিকানরা’, বিস্ফোরক দাবি মেরি মিলবেনের

নিট প্রশ্নফাঁস আন্দোলন হোক কিংবা ভোটচুরির অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন। সবখানেই প্রথম সারিতে অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে ককরোচ জনতা পার্টি। এবার তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেন। তিনি দাবি করলেন, মোদি-বিরোধী মার্কিনিরা টাকা দিচ্ছে সিজেপি। সেই আর্থিক মদতেই ভারতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। যদিও এই বিষয়ে কোনও প্রমাণ দেননি বিখ্যাত গায়িকা। ইতিমধ্যে বিস্ফোরক অভিযোগের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা দীপকে।

ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং ‘স্বেচ্ছাচারী’ এসআইআর কার্যক্রমের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবিতে আন্দোলের মধ্যেই বিদেশি ষড়যন্ত্রের গুঞ্জন জোরালো হচ্ছে। ঠিক সেই সময় বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মেরি মিলবেন। সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নাম না করে মার্কিন গায়িকা বলেন, আমেরিকার বেশ কিছু ব্যক্তি বিশ্বজুড়ে রক্ষণশীল নেতাদের নিশানা করছেন। সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে আমেরিকায় পড়াশোনা করা ব্যক্তিদের বেছে নিয়ে তাঁদের প্রভাবিত করছেন। দেশে ফেরার পরে তাঁদের মাধ্যমে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর চেষ্টায় কোটি কোটি ডলার অর্থসাহায্য করছেন।

এক্স হ্যান্ডেলে মেরি লিখেছেন, “বিশ্বজুড়ে এই নির্বাচিত দাতাদের একটি নির্দিষ্ট ধরন রয়েছে। তারা রক্ষণশীল বিশ্ব নেতাদের লক্ষ্যবস্তু বানায়। সেই দেশ থেকে আমেরিকায় শিক্ষিত কোনও ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে। তাঁকে চরমপন্থী করে তোলে। এরপর সেই দেশে ফেরত পাঠায় এবং বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করার জন্য অর্থায়ন করে।” যোগ করেন, এই ধরনের ষড়যন্ত্র অনেকাংশেই ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দেশের উন্নয়ন ও শাসনব্যবস্থার ওপর এগুলোর প্রভাব পড়ছে।

উল্লেখ্য, আগেও মোদির পাশে দাঁড়িয়েছেন মার্কিন গায়িকা। ভারতের জাতীয় সঙ্গীত এবং দেশাত্মবোধক গান পরিবেশনের সূত্রে পরিচিতি পেয়েছেন মেরি। ২০২৩ সালে আমেরিকায় মোদির সফরের সময় তিনি ভারতের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এর আগেও একাধিক বার প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। সম্প্রতি মোদির দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রশংসা করে তাঁকে ‘ভারতীয় স্বপ্নের উজ্জ্বল প্রতীক’ বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন গায়িকা। ফলে সিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর সাম্প্রতিক আক্রমণকে মোদি সরকারের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনের ধারাবাহিকতা হিসাবেই দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

প্রসঙ্গত, অভিজিৎ দীপুকে আমেরিকার বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর করা একটি ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলার পর, বিশেষ করে ইনস্টাগ্রামে কোটি কোটি নেটিজেন যখন তাঁকে অভূতপূর্ব সমর্থন জানান, তখনই তিনি ভারতে ফিরে আসেন। এরপরেই একাধিক আন্দোলনে নামেন তিনি। মেরির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। অতীতেও অর্থের উৎস তাঁর বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠেছে। এর জবাবে দীপকে জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি ও শিক্ষাঋণের মাধ্যমে পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন তিনি। চলতি মাসের ১০ তারিখে এক সাক্ষাৎকারে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা দাবি করেন, সংগঠনের কাজ চালাতে তিনি নিজে এবং তাঁর বন্ধুরা টাকা জোগাড় করেন।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker