৩০ নভেম্বরের মধ্যে ৪ হাজার কোটি টাকা ডিএ মেটানোর ঘোষণা

কলকাতা: রাজ্য সরকারি (West Bengal) কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা DA-র ৪ হাজার কোটি টাকা আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়া হবে। বুধবার নবান্নে সাংবাদিকদের…
কলকাতা: রাজ্য সরকারি (West Bengal) কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা DA-র ৪ হাজার কোটি টাকা আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়া হবে। বুধবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকারি কর্মীদের মোট বকেয়া DA-র পরিমাণ ১২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে আগের সরকার এবং বর্তমান সরকার মিলিয়ে ইতিমধ্যেই ৮ হাজার কোটি টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৪ হাজার কোটি টাকাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মীদের হাতে পৌঁছে যাবে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মীদের DA তাঁদের অধিকার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বকেয়া অর্থ মেটানোর প্রক্রিয়া চলছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন কমিটি আগামী ১৪ ডিসেম্বর কলকাতায় আসবে। তবে তার আগেই ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বকেয়া DA মিটিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্য সরকার।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই বকেয়া মেটানোর উদ্যোগ
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের DA কোনও ঐচ্ছিক অনুদান নয়, এটি তাঁদের আইনগত অধিকার। সেই নির্দেশে আদালত বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ২৫ শতাংশ দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি, বাকি অর্থের হিসাব খতিয়ে দেখা এবং তা মেটানোর সময়সীমা নির্ধারণের জন্য প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ওই কমিটির কাছে নিজেদের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিয়েছে। কমিটির নির্দেশ পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচনা করা হবে। তবে ১৪ ডিসেম্বর কমিটির কলকাতা সফরের আগেই বকেয়া ৪ হাজার কোটি টাকা মেটানোর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সরকারি কর্মীদের জন্য Salary Advance Scheme
DA নিয়ে ঘোষণার পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের জন্য নতুন Salary Advance Scheme চালুর কথাও সামনে এসেছে। রাজ্যের অর্থ দফতরের এই প্রকল্পে গ্রুপ A, B, C ও D-সহ সমতুল্য শ্রেণির নিয়মিত সরকারি কর্মীরা ডিজিটাল মাধ্যমে আগাম বেতন নিতে পারবেন। জরুরি চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের পাশাপাশি পরিকল্পিত বড় খরচ মেটানোর জন্যও এই সুবিধা দেওয়া হবে।
এই প্রকল্পে দু’ধরনের অগ্রিমের ব্যবস্থা রয়েছে। স্বল্পমেয়াদি সুবিধায় কর্মীরা মাসিক বেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নিতে পারবেন। সেই টাকা সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে ফেরত দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত দিলে কোনও সুদ, প্রসেসিং ফি, প্ল্যাটফর্ম ফি বা কনভিনিয়েন্স ফি দিতে হবে না।
অন্যদিকে, মাল্টি-মান্থ অ্যাডভান্সের ক্ষেত্রে ২ থেকে ৬০ মাসের মধ্যে কিস্তিতে টাকা ফেরত দেওয়ার সুযোগ থাকছে। তবে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ কোনওভাবেই কর্মীর অবসরের তারিখের পরে গড়াতে পারবে না। এই ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ মাসিক গ্রস বেতনের ৩০ গুণ পর্যন্ত অগ্রিম পাওয়া যেতে পারে। তবে মাসিক EMI গ্রস বেতনের ৫০ শতাংশের বেশি হবে না। কর্মীর ডিজিটাল সম্মতি নেওয়ার পর বেতন থেকে সরাসরি কিস্তির টাকা কেটে নেওয়া হবে।
বাইক ও স্কুটার কেনার অগ্রিমের সীমা বাড়ল
সরকারি কর্মীদের মোটরসাইকেল, স্কুটার এবং ইলেকট্রিক দু’চাকার গাড়ি কেনার জন্য অগ্রিমের আর্থিক সীমাও বাড়িয়েছে রাজ্য। এখন সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম পাওয়া যাবে।
তবে চূড়ান্ত অনুমোদিত অর্থ নির্ধারিত হবে তিনটি অঙ্কের মধ্যে যেটি সবচেয়ে কম, তার ভিত্তিতে। এই তিনটি হল ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, কর্মীর পাঁচ মাসের মূল বেতন এবং সংশ্লিষ্ট গাড়ির সম্ভাব্য ক্রয়মূল্য।
DA-র বকেয়া মেটানোর সময়সীমা এবং নতুন Salary Advance Scheme, দুই ঘোষণাতেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের আর্থিক সুবিধার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এবার নজর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বকেয়া DA-র অর্থ কর্মীদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছয় কি না, সেদিকে।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business



