সন্ধ্যা রায় এবং তরুণ মজুমদারের সংসার কেন ভেঙে গেল?

কিংবদন্তি ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক তরুণ মজুমদার 2022 সালের জুলাই মাসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তরুণ মজুমদার এবং সন্ধ্যা রায়ের নামের অর্থ হল একগুচ্ছ উজ্জ্বল বাংলা চলচ্চিত্র। ‘পলাতক’, ‘আলোর পিপাসা’, ‘কুহেলি’, ‘শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’, ‘দাদার কীর্তি’, ‘ভালোবাসা ভোলাশা’। প্রতিটি ছবিই বাংলা সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে। কিন্তু তরুণ মজুমদার ও সন্ধ্যা রায়ের হৃদয় ছিল সিনেমার বাইরেও ভালোবাসা ঘিরে। আর সেই কারণেই সিনেমার শুটিংয়ের সময় প্রিয় পরিচালকের সঙ্গে বসেছিলেন অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায়। আর একে অপরের যত্ন নেওয়ার পর দুজনে বাঁধা পড়েন। শোনা যাচ্ছে, তরুণ মজুমদার ও সন্ধ্যা রায়ের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল দেখার মতো। তরুণ-সন্ধ্যার বিয়েতে এসেছিল গোটা টলিউড। এলাহীও আয়োজন করা হয়।
সেই সময় বাংলা সিনেমার বিখ্যাত পিআর ছিলেন বাগীশ্বর ঝা। অনেক সুপারহিট বাংলা সিনেমার প্রচারের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ঝা উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন, সৌমিত্র চ্যাটার্জির মতো তারকাদের প্রিয় ছিলেন। তরুণ মজুমদার তার ক্যাম্পেইন এজেন্সিতে শিক্ষানবিশ হিসেবে কিছুদিন কাজ করেন। দুজনের খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। বাগীশ্বর ঝা যেমন তরুণ মজুমদারকে ছেলের মতো ভালোবাসতেন, তেমনি তরুণ মজুমদারও পিতৃপুরুষকে ভুলতে পারেননি। এই বাগীশ্বর সন্ধ্যা ও তরুণ মজুমদারের বিয়ের অনুষ্ঠান করেছিলেন।
সে সময় পরিচালক ও অভিনেত্রীর মধ্যে প্রেমের নানা গুঞ্জন শোনা গেলেও বিয়েতে সেই প্রেমের শুভ পরিসমাপ্তি, এটা ছিল গুজবের একেবারেই নতুন বিষয়। সে ক্ষেত্রে সন্ধ্যা ও তরুণ ছিলেন উজ্জ্বল উদাহরণ। এমনকি যখন টলিউডের রোম্যান্স নিয়ে আলোচনা হয়, তখন সন্ধ্যা এবং তরুণ মজুমদারের প্রসঙ্গ উঠে আসবে।
কিন্তু নিয়তি দেখুন, এত ভালবাসা, এত ভালবাসা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন বিচ্ছেদ ছিল তরুন ও সন্ধ্যার। শোনা যায়, তরুণ মজুমদারের বাড়ি থেকে রাতারাতি বেরিয়েছিলেন তিনি। তবে কেন তাদের বিচ্ছেদ হয়েছে তা নিয়ে বরাবরই নীরব রয়েছেন দুজনই। গুজব রয়েছে যে তারা নীরবে বিবাহবিচ্ছেদ করেছেন। আবার অনেকে বলছেন, ডিভোর্স না নিয়েই তারা আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনেকে বলছেন, তরুণ মজুমদারের পাগলামির কারণে সন্ধ্যা তাকে ছেড়ে যাওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এমনকী, শোনা যায়, বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই সন্ধ্যা থেকেই উড়ে যায় যুবকের মন। তরুণদের জন্য কাজ ছিল প্রথম অগ্রাধিকার। আর সেই কারণেই সন্ধ্যার, তরুন বাড়ি ছেড়েছে। পাড়ায় গুঞ্জন উঠেছিল যে সন্ধ্যা রায় বাড়ি ছাড়ার পর অনেক কেঁদেছিলেন। কিন্তু এতসব কথার মধ্যেও সন্ধ্যা রায় এ নিয়ে মুখ খোলেননি। যৌবন ও তার বিয়েকে তিনি কখনোই সামনে আনতে চাননি। আর তাই সে সময়ের বিভিন্ন গসিপ ম্যাগাজিনে রঙিন গল্প আছে।



