সাতবার আইভিএফ, একাধিক গর্ভপাতের পর সুখবর! যমজ সন্তানের মা হলেন সম্ভাবনা শেঠ

দীর্ঘ প্রতীক্ষা, অসংখ্য ব্যর্থতা এবং একের পর এক মানসিক লড়াইয়ের শেষে অবশেষে সুখবর পেলেন টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সম্ভাবনা শেঠ এবং তাঁর স্বামী অভিনাশ দ্বিবেদী। সারোগেসির মাধ্যমে যমজ সন্তানের বাবা-মা হয়েছেন এই তারকা দম্পতি। তাঁদের পরিবারে এসেছে এক পুত্র ও এক কন্যাসন্তান। বহু বছরের স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আনন্দে ভাসছেন দু’জনেই।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সুখবর ভাগ করে নিয়ে সম্ভাবনা ও অভিনাশ লিখেছেন, “এবার যেন দীপাবলি আগেভাগেই চলে এসেছে। আমাদের ঘরে একসঙ্গে লক্ষ্মী আর গণেশের আগমন ঘটেছে। আমরা কৃতজ্ঞতায় ভরে গেছি। হর হর মহাদেব।” মুহূর্তের মধ্যেই শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় ভরে যায় তাঁদের পোস্টের কমেন্ট বক্স।
এ বছরের শুরুতেই সম্ভাবনা জানিয়েছিলেন যে তাঁরা সারোগেসির মাধ্যমে সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছেন। সেই সময় তিনি লিখেছিলেন, “আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গল্পটি এখন তৈরি হচ্ছে-ভালোবাসা, আশা এবং সারোগেসির হাত ধরে।” এরপর থেকেই অনুরাগীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন তাঁদের নতুন অধ্যায়ের জন্য।
Pahlaj Nihalani: ভারতীয় সিনেমার এক অধ্যায়ের অবসান, প্রয়াত প্রাক্তন সেন্সর বোর্ড প্রধান পহলাজ নিহালানি
তবে এই সুখের পথ মোটেও সহজ ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে মাতৃত্বের স্বপ্ন পূরণের জন্য সংগ্রাম করেছেন সম্ভাবনা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, বিগত কয়েক বছরে তাঁকে সাতবার আইভিএফ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। পাশাপাশি একাধিকবার গর্ভপাতের যন্ত্রণাও সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। চিকিৎসার শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিক চাপও ছিল অত্যন্ত কঠিন।
সম্ভাবনার কথায়, “প্রতিবার ব্যর্থতার পর নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না। শরীর যেমন ক্লান্ত হয়ে পড়ত, তেমনই মানসিকভাবেও ভেঙে পড়তাম। কিন্তু আশা ছাড়িনি।” তিনি আরও জানান, আইভিএফ চিকিৎসার কারণে তাঁর শরীরে নানা পরিবর্তন আসে এবং দীর্ঘ সময় ধরে সেই ধকল সামলাতে হয়েছে।
ধোঁয়ায় ভরা ঘরে মৃত্যুভয়! ‘মনে হয়েছিল আর বাঁচব না’, কঠিন সময় কীভাবে পার করলেন মনোজ?
এই কঠিন সময়ে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন স্বামী অভিনাশ। সম্ভাবনা বলেন, “অভিনাশ কখনও আমার উপর সন্তানের জন্য চাপ সৃষ্টি করেনি। বরং সে সবসময় বলত, ‘তুমি সুস্থ থাকলেই আমি খুশি। সন্তান না হলেও কোনও সমস্যা নেই।’ ওর এই সমর্থনই আমাকে বারবার নতুন করে লড়াই করার সাহস দিয়েছে।”
আজ সেই সমস্ত কষ্ট, হতাশা এবং অশ্রুর বদলে তাঁদের জীবনে এসেছে নতুন আনন্দের আলো। যমজ সন্তানের আগমনের মাধ্যমে সম্ভাবনা ও অভিনাশের পরিবারে শুরু হয়েছে এক নতুন অধ্যায়, যা তাঁদের দীর্ঘ সংগ্রামের সবচেয়ে সুন্দর পুরস্কার হয়ে রইল।



