৯ মাসে বাংলায় ২৪০ মৃত্যু! চরম আবহাওয়ার ভয়াবহ পরিসংখ্যান

কলকাতা: অতিবৃষ্টি, বন্যা, বজ্রপাত ও তাপপ্রবাহের (West Bengal Weather) মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনায় ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে পশ্চিমবঙ্গে ২৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৩৪। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় সাত গুণ। শুধু মৃত্যুই নয়, চরম আবহাওয়ার প্রভাবের দিনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। Centre for Science and Environment (CSE) প্রকাশিত ‘Climate India 2026: An Assessment of Extreme Weather Events’ শীর্ষক রিপোর্টে উঠে এসেছে এই তথ্য।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ১৩০ দিন চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৭৩ দিন। ২০২২ সালে প্রথম ৯ মাসে এমন আবহাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল ৫৬ দিন। অর্থাৎ গত চার বছরে চরম আবহাওয়ার প্রকোপ এবং তার প্রভাব দুটোই বেড়েছে।
অতিবৃষ্টি ও বন্যায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু
CSE-র রিপোর্টে বলা হয়েছে, অতিবৃষ্টি, বন্যা এবং সংশ্লিষ্ট বিপর্যয়ে পশ্চিমবঙ্গে ৮৫ দিনে ১২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, ৭১ দিন বজ্রপাত ও প্রবল ঝড়ের ঘটনা ঘটেছে। তাতে প্রাণ হারিয়েছেন ১১২ জন।
তাপপ্রবাহের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে দু’দিন। এর জেরে মৃত্যু হয়েছে চারজনের। পাশাপাশি রাজ্যে একদিন শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাব শুধু প্রাণহানিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৩,৯৪০ হেক্টর কৃষিজমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৮,৩৩৪টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ৫৩৪টি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার কৃষিনির্ভর পরিবারগুলির আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা বাড়িয়েছে এই পরিস্থিতি।
২০২২ থেকে বাড়ছে চরম আবহাওয়ার প্রকোপ
রিপোর্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল ৫৬ দিন। সেই সময়ে মৃত্যু হয়েছিল ১৪ জনের। ২০২৬ সালে একই সময়সীমায় এমন আবহাওয়ার দিনের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩০ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ২৪০।
অর্থাৎ আবহাওয়ার চরম পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন তৈরি হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানির সংখ্যাও বেড়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পরেও মৃত্যুর এই বৃদ্ধি উদ্বেগ তৈরি করেছে।
দেশজুড়েও বিপর্যয়ের প্রভাব
CSE-র হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতের ২৭৩ দিনের মধ্যে ২৫১ দিনই কোথাও না কোথাও চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ বছরের এই সময়ের প্রায় ৯২ শতাংশ দিন দেশের কোনও না কোনও অংশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সারা দেশে মোট ৩,৩২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
CSE-র ডিরেক্টর জেনারেল সুনীতা নারায়ণ এই বিপর্যয়গুলিকে জলবায়ু পরিবর্তনের মানবিক প্রভাব হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ব তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এই সীমা অতিক্রম করলে আগামী দিনে জলবায়ু সঙ্কটের প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
প্রকৃত ক্ষতির চিত্র আরও বড় হতে পারে
রিপোর্টে মৃত্যুর যে পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে, বাস্তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তার চেয়েও বেশি হতে পারে বলে মনে করছে CSE। সংস্থার রিচার্ড মহাপাত্রের বক্তব্য, বহু রাজ্যে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নথিভুক্ত করার নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা নেই। ফলে সরকারি পরিসংখ্যানে প্রকৃত ক্ষতির সম্পূর্ণ চিত্র উঠে আসে না।
তিনি জানান, রাজ্যগুলি নিয়মিত তথ্য সরবরাহ করে না। আবহাওয়া বুলেটিন থেকে চরম আবহাওয়ার ঘটনার সংখ্যা ও সময়কাল জানা গেলেও, তার প্রকৃত প্রভাব বুঝতে নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্যভান্ডার প্রয়োজন।
CSE-র এই রিপোর্ট পশ্চিমবঙ্গের বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থা, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা এবং গ্রামীণ এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পাশাপাশি মৃত্যু, কৃষিক্ষতি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিয়মিত নথিভুক্ত করার জন্য আরও কার্যকর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।
The latest news from Kolkata, including traffic updates, civic issues, weather, accidents, administrative decisions, and other important information for daily life, is published in this section. Stay tuned regularly to keep up with all the latest updates from the city.



