0%

দীপাবলির আগে শেষ রবিবারে কলকাতার বাজারে উপচে পড়ল ভিড়

কলকাতা: আর মাত্র এক সপ্তাহের অপেক্ষা। তারপরই দীপাবলি ও কালীপুজো। তার আগে শেষ রবিবারে উৎসবের কেনাকাটায় (Diwali Shopping) জমজমাট হয়ে উঠল কলকাতার বিভিন্ন বাজার। বড়বাজারের ভিড় ঠাসা গলি থেকে এজরা স্ট্রিট ও চাঁদনি মার্কেটের আলোর দোকান, সর্বত্রই ছিল ক্রেতাদের আনাগোনা। পুজোর সামগ্রী, মাটির প্রদীপ, মোমবাতি, রকমারি আলো, পোশাক এবং সাজসজ্জার জিনিস কিনতে সকাল থেকেই বাজারে ভিড় জমান শহর ও শহরতলির মানুষ।

উৎসবের মরশুমে বছরের অন্যতম ব্যস্ত সময়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও। রবিবারের বাজারের ছবি থেকেই স্পষ্ট, দীপাবলি ও কালীপুজোকে ঘিরে শহরে উৎসবের আমেজ ক্রমশ বাড়ছে।

বড়বাজারে পুজোর সামগ্রী থেকে পোশাক, সবেতেই চাহিদা

রবিবার বড়বাজারে সকাল থেকেই ছিল ক্রেতাদের ভিড়। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার-সহ মানুষজন সেখানে কেনাকাটা করতে আসেন। পুজোর প্রয়োজনীয় সামগ্রী, প্রতিমার সাজ, আলোকসজ্জা, মাটির প্রদীপ, শুকনো ফল থেকে শুরু করে নতুন পোশাক, সব কিছুরই খোঁজ চলেছে বাজারজুড়ে।

প্রতি বছর দীপাবলির আগে কালাকার স্ট্রিটে বসে বিশেষ দীপাবলি বাজার। এদিনও সেই বাজারে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ছোট প্রতিমা, মাটির প্রদীপ এবং নানা ধরনের সাজানোর আলো নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন বিক্রেতারা। দিনভর চলেছে কেনাকাটা।

৫ টাকা থেকে ১০০ টাকা, প্রদীপ কিনতে ভিড়

রবীন্দ্র সরণির নূতন বাজার সংলগ্ন এলাকাও এদিন মাটির প্রদীপ ও মোমবাতির কেনাকাটার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে অনেকেই ঐতিহ্যবাহী মাটির প্রদীপ কিনতে আসেন। আকার ও ধরন অনুযায়ী প্রদীপের দাম ছিল ৫ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত।

এলাকার এক দোকানদার পুলক ঘোষ বলেন, “দুর্গাপুজো শেষ হওয়ার পর থেকেই এই এলাকার অধিকাংশ দোকানে কালীপুজোর জন্য প্রদীপ ও মোমবাতি বিক্রি শুরু হয়। একটি প্রদীপ থেকে শুরু করে এক ডজনের প্যাকেট, ক্রেতারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কিনতে পারেন।”

তারাচাঁদ দত্ত স্ট্রিটের বাসিন্দা হিমাংশু রায়ের কথায়, “দীপাবলিতে প্রদীপ জ্বালানো আমাদের ঐতিহ্য। প্রতি বছর এই এলাকা থেকেই আমরা প্রদীপ কিনি।”

এজরা স্ট্রিট ও চাঁদনিতে আলোর বাজার জমজমাট

দীপাবলির আগে আলোর বাজারের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এজরা স্ট্রিট ও চাঁদনি। রবিবার এই দুই এলাকায় ক্রেতাদের ভিড় ছিল যথেষ্ট বেশি। এজরা স্ট্রিটে দোকানের বাইরেও রাস্তার উপর পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন বিক্রেতারা। রবীন্দ্র সরণি এবং নিউ CIT রোডের দিকেও ছড়িয়ে পড়ে আলোর দোকান। কেনাকাটার জন্য অনেকেই গাড়ি থামিয়ে দোকানে ঢুঁ মারেন।

কনভেন্ট রোডের বাসিন্দা নীতা শেঠিয়া বলেন, “কাজের দিনে এই এলাকায় যথেষ্ট ভিড় থাকে। গাড়ি রাখার জায়গা পাওয়াও প্রায় অসম্ভব। রবিবার যানজট ও পার্কিং নিয়ে বেশি চিন্তা না করেই স্বচ্ছন্দে কেনাকাটা করা যায়।”

আলোর দোকানগুলিতে এদিন ভালো বিক্রির খবর মিলেছে। ব্যবসায়ীদের আশা, সপ্তাহজুড়েই ক্রেতাদের ভিড় বজায় থাকবে। ক্যালকাটা ইলেকট্রিক ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের অরবিন্দ তিওয়ারি বাবা জানান, দীপাবলির আগে শনিবার পর্যন্ত বাজারের দোকানগুলি সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত পর্যন্ত খোলা থাকবে।

লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতিতে দোকানেও রং-তুলির কাজ

উৎসবের প্রস্তুতি শুধু কেনাকাটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। রবিবার বেশ কয়েকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানেও নতুন করে রং করার কাজ চলেছে। লক্ষ্মীপুজোর আগে দোকান পরিষ্কার করে সাজিয়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

আর্মেনিয়ান স্ট্রিটের ব্যবসায়ী অমিত সিং বলেন, “আমাদের দোকানেই লক্ষ্মীপুজো হয়। তাই উৎসবের আগে জায়গাটি পরিষ্কার করা এবং নতুন করে রং করানো হয়।”

দীপাবলি ও কালীপুজোর আগে শেষ রবিবারে কলকাতার বাজারে ছিল উৎসবের কেনাকাটার ব্যস্ততা। আগামী কয়েক দিনেও এই ভিড় আরও বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker