‘ভোট চুরি’ সমাবেশে অনুপস্থিত, মধ্যপ্রদেশ যুব কংগ্রেসের ৬০ পদাধিকারীকে সাসপেন্ড

ভোপাল, ৪ নভেম্বর : দিল্লির রামলীলা ময়দানে গত ১ নভেম্বর কংগ্রেসের ‘ভোট চুরি’ সমাবেশে অনুপস্থিত থাকার কারণে মধ্যপ্রদেশ যুব কংগ্রেসের ৬০ জন পদাধিকারীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৯ জন জেলা সভাপতি, ৫ জন রাজ্য সহ-সভাপতি এবং ১৪ জন সাধারণ সম্পাদক।
গত ৩ নভেম্বর ভারতীয় যুব কংগ্রেসের (আইওয়াইসি) জাতীয় নেতৃত্বের নির্দেশ মেনে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সমাবেশে পদাধিকারীদের অনুপস্থিতিকে সংগঠনের শৃঙ্খলাভঙ্গের গুরুতর ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করেছে জাতীয় নেতৃত্ব।
মঙ্গলবার রাতে জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ৬০ জনের সাসপেনশন অবিলম্বে কার্যকর থাকবে। সাসপেন্ড হওয়া পদাধিকারীদের মধ্যে রয়েছেন ৩২ জন রাজ্য সম্পাদক, ১৪ জন সাধারণ সম্পাদক, ৫ জন সহ-সভাপতি এবং ৯ জন জেলা সভাপতি।
যে ৯ জন জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাঁরা মাইহার, আগর, নিমাচ, বুরহানপুর, অনুপপুর, গুনা, বারওয়ানি, ছতরপুর এবং ভিন্দ জেলার দায়িত্বে ছিলেন।
জাতীয় নেতৃত্বের নির্দেশ মেনে চলা এবং সংগঠনের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকায় কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রচার চালাচ্ছে কংগ্রেস। ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলছে দলটি।
গত ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে আয়োজিত ওই সমাবেশে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী দলের একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ থেকে নির্বাচন কমিশনের আরও বেশি জবাবদিহির দাবি জানানোর পাশাপাশি ভোটার তালিকায় কথিত কারচুপির অভিযোগ তোলা হয়।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে এবং ভুয়ো ও অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দিতেই এই সংশোধন প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
জাতীয় স্তরে নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে প্রচার জোরদার করার পাশাপাশি সংগঠনকে সক্রিয় করতে চাইছে কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রদেশ যুব কংগ্রেসের ৬০ জন পদাধিকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ রাজ্য সংগঠনের কার্যকলাপ এবং জাতীয় নেতৃত্বের নির্দেশ পালনের বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।



