জ্ঞানেশ হটাতে ‘ইন্ডি’র মহাসমাবেশ, পালটা শিখ-দাঙ্গা নিয়ে রাজপথে বিজেপি!

সবদিক নিউজ:জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) অপসারণ এবং SIR বাতিলের দাবিতে রবিবার দিল্লির (Delhi) রামলীলা ময়দানে বড়সড় সমাবেশের আয়োজন করেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডি’ (INDIA)। ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সরব বিরোধীরা। এই কর্মসূচিকে ঘিরে সকাল থেকেই সরগরম রাজধানী। অন্যদিকে, বিরোধীদের আক্রমণের পালটা জবাব দিতে এদিনই পথে নামছে বিজেপি। ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেসকে নিশানা করার পরিকল্পনা নিয়েছে পদ্মশিবির। ফলে একই দিনে দিল্লির রাজপথে দুই শিবিরের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে।
SIR বাতিলের দাবিতে রবিবার দিল্লির (Delhi) রামলীলা ময়দানে বড়সড় সমাবেশের আয়োজন
বিরোধীদের সমাবেশের আগে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে রাজধানী দিল্লির (Delhi) একাধিক এলাকা। রামলীলা ময়দান এবং সংলগ্ন অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ ও আধাসেনা মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী। নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে অন্তত ২০০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত ক্যামেরা। কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক প্রশাসন। রাজপথে নিরাপত্তাকর্মীদের টহলদারি এবং কড়া নজরদারির মধ্যেই বিরোধীদের সমাবেশ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে এই কর্মসূচিকে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে বিরোধী শিবির।
আলোর উৎসবে নিরামিষ পদেই করুন বাজিমাত, একবার খেলে বারবার বানাবেন মোচার পোলাও
অন্যদিকে, ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার স্মৃতি সামনে এনে কংগ্রেসকে পালটা চাপে ফেলতে চাইছে বিজেপি। ওই দাঙ্গার ৪২ বছর পরেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির যন্ত্রণা যে মুছে যায়নি, সেই বিষয়টিকেই সামনে রাখছে গেরুয়া শিবির। রবিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ বিজেপির মিছিল শুরু হওয়ার কথা হরিনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে। সেখান থেকে মিছিল এগিয়ে শেষ হবে তিলকনগর মেট্রো স্টেশন চত্বরে। কর্মসূচিতে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী, দিল্লি বিজেপির নেতা মলহোত্র-সহ এইচএস ফুলকা, মজিন্দর সিং সিরসা এবং বাঁসুরী স্বরাজের মতো নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা। দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চায় বিজেপি।
বিজেপি নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ বিরোধীদের কর্মসূচির দিনক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার স্মৃতিবিজড়িত দিনেই রামলীলা ময়দানে সমাবেশের আয়োজন করে শিখ সম্প্রদায়ের ক্ষতে নুন ছেটানোর চেষ্টা করছেন রাহুল গান্ধী। বিজেপির দাবি, এই দিনটিকে বেছে নেওয়ার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। যদিও বিরোধীদের সমাবেশের সঙ্গে দাঙ্গার স্মৃতির যোগ নিয়ে বিজেপির এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের আবহে এই পালটা আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ফের ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে টানা ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা! কেমন থাকবে বাংলার আবহাওয়া?
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডাও শিখবিরোধী দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ১৯৮৪ সালের দাঙ্গা ছিল মহাপাপ এবং সেই ঘটনার জন্য কংগ্রেসের ক্ষমা চাওয়া উচিত। একই দিনে দিল্লিতে নতুন করে অশান্তি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে একদিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রতিবাদ, অন্যদিকে ১৯৮৪ সালের দাঙ্গা নিয়ে বিজেপির পালটা কর্মসূচি—দুইয়ের জেরে রবিবারের দিল্লি কার্যত রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। এখন দেখার, দুই শিবিরের কর্মসূচি কতটা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং এই রাজনৈতিক সংঘাত আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে (Delhi)।



