0%

ত্রিপুরায় বিএসএফের উপর হামলা, সীমান্তে স্থানীয়দের সঙ্গে দূরত্বই কি দায়ী?

আগরতলা: ত্রিপুরায় বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পর্কের অবনতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সিপাহীজলা জেলায় বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার ঘটনার পর…

আগরতলা: ত্রিপুরায় বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পর্কের অবনতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সিপাহীজলা জেলায় বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার ঘটনার পর সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, সীমান্তে দীর্ঘদিনের কড়াকড়ি এবং নজরদারির প্রভাব পড়েছে স্থানীয় জনজীবনে। তার জেরেই বাহিনীর সঙ্গে এলাকার মানুষের মধ্যে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরার রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে চাপানউতর। বিরোধী সিপিএমের অভিযোগ, এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী শাসকদল বিজেপি। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলের তরফে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে সীমান্তে কর্তব্যরত জওয়ানদের কেন এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হল, তা নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

পাচার রুখতে গিয়ে হামলার মুখে জওয়ানেরা

সীমান্তবর্তী বক্সানগর ও সোনামুড়া দীর্ঘদিন ধরেই স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বেড়াবিহীন সীমান্ত এবং সহজে পারাপারের সুযোগ থাকায়। এই অঞ্চলে গরু ও মাদক পাচারের পাশাপাশি গাঁজা চাষের মতো বেআইনি কাজের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। পাচার আটকাতে গিয়ে অতীতেও বিএসএফকে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।

সিপাহীজলা জেলা পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, সোমবার সীমান্তে ভারতীয় ও বাংলাদেশি পাচারকারীদের অবৈধ কারবারে বাধা দিতে যান বিএসএফ জওয়ানেরা। সেই সময় এক ভারতীয় পাচারকারীকে আটক করা হয়। বাহিনীর উপস্থিতি বুঝতে পেরে সীমান্তের অন্য দিকে থাকা বাংলাদেশি পাচারকারীরা পালিয়ে যায়।

এর পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, মহিলা-সহ স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি দল বিএসএফের গাড়ি ঘিরে ধরে জওয়ানদের উপর হামলা চালায়। বাঁশ ও লাঠি দিয়ে তাঁদের মারধর করা হয়। খবর পেয়ে বিএসএফ এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেন। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে সাত জন পুরুষ এবং তিন জন মহিলা।

স্থানীয়দের ব্যবহার করছে পাচারচক্র?

স্থানীয় সূত্রের দাবি, সীমান্তের অপরাধচক্রগুলি নিজেদের স্বার্থে অনেক সময় এলাকার বাসিন্দাদের সামনে নিয়ে আসে। পাচার বা অন্য বেআইনি কাজ আটকাতে বিএসএফ সক্রিয় হলে স্থানীয়দের একাংশকে উস্কে দিয়ে বাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। আশাবাড়ির ঘটনাতেও তেমন কোনও কৌশল কাজ করেছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের ৮৫৬ কিলোমিটারেরও বেশি সীমান্ত রয়েছে। দুর্গম ভৌগোলিক পরিস্থিতির কারণে এই বিস্তীর্ণ এলাকায় নজরদারি চালানো নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্য দিকে, সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনেও নানা অসুবিধা তৈরি হতে পারে। পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের এই পরিস্থিতি থেকে বাসিন্দাদের সঙ্গে বিএসএফের দূরত্ব বেড়ে থাকতে পারে। তবে সাম্প্রতিক হামলার পিছনে সেই কারণই কাজ করেছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

বিজেপির বিরুদ্ধে সরব সিপিএম

সীমান্তের অপরাধচক্রের সঙ্গে শাসকদলের একাংশের যোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছে সিপিএম। দলের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরীর দাবি, সোনামুড়া-কলমচৌড়া সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় পাচারচক্রকে বিজেপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একাংশ মদত দেন। অপরাধীদের রাজনৈতিক প্রশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের উপরেও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। ওই জেলায় এক পুলিশ আধিকারিকের খুনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন সিপিএম নেতা।

যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার ঘটনায় জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি সরকারের ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতির কথাও জানিয়েছেন।

২০২৭ থেকে নিট-পিজিতে বড় বদল! পার্সেন্টাইল নয় এবার র‍্যাঙ্কে ভর্তি

সরকারি কাজের সমালোচনায় মানহানির মামলা নয়! সাংবাদিকদের পাশে প্রেস কাউন্সিল

 

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker