সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ভারসাম্য হারিয়ে গিয়েছে! অভিষেককে কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে ছড়িয়েছে উত্তাপ।(Suvendu Adhikari) তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশ আধিকারিকদের প্রতি হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তীব্র পাল্টা আক্রমণ…
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে ছড়িয়েছে উত্তাপ।(Suvendu Adhikari) তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশ আধিকারিকদের প্রতি হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তীব্র পাল্টা আক্রমণ করেছেন। শুভেন্দু অভিষেকের বক্তব্যকে ‘সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন বলে কটাক্ষ করেছেন।
বৃহস্পতিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেছিলেন, পুলিশ যদি তৃণমূল কর্মীদের মিথ্যা মামলায় জড়ায় তাহলে কাউকে ছাড়া হবে না।(Suvendu Adhikari) তিনি দাবি করেন, কিছু পুলিশ আধিকারিক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে খুশি করতে দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করছেন। অভিষেক স্পষ্ট করে বলেন, সরকার বদলালে এসব আধিকারিকদের কেউ বাঁচাবে না। তিনি নামের তালিকা তৈরি করে রাখছেন বলেও জানান।
আরও দেখুনঃ বাংলার পাঠ্যক্রম থেকে বাদ পানি-আম্মা, আব্বা! যোগ হবে শ্যামাপ্রসাদের জীবনী
এই বক্তব্যের পরদিন শুক্রবার সল্টলেকের জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, অভিষেকের সোডিয়াম-পটাশিয়ামের সমস্যা হয়েছে। তাই তিনি এমন অসংলগ্ন কথা বলছেন। শুভেন্দু আরও বলেন, অভিষেক চাইলে নিউইয়র্কে চিকিৎসা নিতে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় এনওসি দিয়ে দেবে।
শুভেন্দু অভিযোগ করেন, অভিষেকের সহযোগী পুলিশের হাতে ধরা পড়ে সব তথ্য ফাঁস করে দিয়েছে। সেই খবর পেয়েই অভিষেক ভারসাম্য হারিয়েছেন। তিনি বলেন, পনেরো বছর সরকারে থাকায় তাদের কয়েকজন লোক এখনও ভিতরে আছে এবং ফেসটাইমে যোগাযোগ রাখে।
এই বাকযুদ্ধে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে শাসকদল মনে করে, অভিষেকের বক্তব্য পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা।
রাজ্যের রাজনীতিতে দুই শিবিরের মধ্যে এই ধরনের কটাক্ষ নতুন নয়। (Suvendu Adhikari)তবে পুলিশকে নিয়ে সরাসরি হুঁশিয়ারি ও পাল্টা ব্যক্তিগত আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। জনতার দরবারে শুভেন্দু এই মন্তব্য করায় তাৎক্ষণিক আলোচনা শুরু হয়। অভিষেক এর আগেও পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কেউ কাজ করতে পারবে না। সরকার পরিবর্তন হলে জবাবদিহি করতেই হবে।
শুভেন্দু তার জবাবে পরিষ্কার করেছেন যে সরকার সবকিছু দেখছে। তিনি অভিষেকের সহযোগীর গ্রেফতারের বিষয়টিও তুলে ধরেন। এতে ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে তদন্ত এগোচ্ছে।
এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচনা চলছে। কেউ মনে করেন এটি রাজনৈতিক রেষারেষি। কেউ বলছেন, পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা উচিত নয়। যাই হোক, দুই নেতার এই বাকবিতণ্ডা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও তীব্র করে তুলেছে। আগামী দিনে এর প্রতিক্রিয়া কী হয়, তা দেখার অপেক্ষায় সবাই।



