তারেক ভারতে না এলে গঙ্গার জল বন্টনে অনিশ্চয়তা স্পষ্ট করল মোদী সরকার

নয়াদিল্লি: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা জল বণ্টন চুক্তির(Water Treaty) মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হতে চলেছে। এই চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে…
নয়াদিল্লি: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা জল বণ্টন চুক্তির(Water Treaty) মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হতে চলেছে। এই চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে কিনা তা নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ভারতীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, নয়াদিল্লি হয়তো চুক্তিটি আগের মতোই চালিয়ে যেতে চাইছে না।
চুক্তি অনুযায়ী শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জল পায়। বিশেষ করে যখন নদীর প্রবাহ কমে যায়, তখন বাংলাদেশের জন্য ৩৫ হাজার কিউসেক জলের নিশ্চয়তা রয়েছে। এই সূত্রটি পুরনো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ১৯৪৯ থেকে ১৯৮৮ সালের নদীর প্রবাহের ডেটা ব্যবহার করা হয়েছিল।
আরও দেখুনঃ হিন্দু ছাত্রীদের ধর্মান্তরের চেষ্টা! লখনউ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তোলপাড়
ভারতের নিজস্ব চাহিদা এখন অনেক বেড়ে গেছে। সেচ, পানীয় জল এবং শিল্পক্ষেত্রে জলের প্রয়োজন বাড়ছে। বিহার থেকে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যে এই চাহিদা অনুভূত হচ্ছে। তাই ভারত নতুন করে চুক্তির শর্তাবলী পর্যালোচনা করতে চাইছে। কিছু মহল থেকে চুক্তির মেয়াদ কমানো বা নতুন শর্ত যোগ করার কথাও উঠছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়টিও এই আলোচনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। সফরের কোনো স্পষ্ট সময়সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি। (Water Treaty)সূত্রগুলো বলছে, তারেক রহমানের সফর না হলে চুক্তি নবায়নের বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চুক্তি নবায়নের জন্য চাপ অব্যাহত রয়েছে।
ফারাক্কা ব্যারেজের মাধ্যমে শুষ্ক আবহাওয়ায় জল বণ্টন নিয়ন্ত্রিত হয়। এই চুক্তি দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং বাড়তি চাহিদার কারণে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
ভারতের জলশক্তি মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। বিহারসহ অন্যান্য রাজ্যের স্বার্থ রক্ষার দাবিও উঠেছে। বাংলাদেশ চায় ন্যূনতম জলের নিশ্চয়তা ধরে রাখতে। দুই দেশের মধ্যে যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে আলোচনা চলছে।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্ত না হলে জল বণ্টন নিয়ে নতুন করে সমস্যা দেখা দিতে পারে। (Water Treaty)উভয় দেশই এখন পর্যালোচনা করছে কীভাবে ভবিষ্যতের চাহিদা মেটানো যায়। তারেক রহমানের সফরের বিষয়টি স্পষ্ট হলে আলোচনা আরও এগিয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গঙ্গার জল বণ্টন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা জোরদার হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে তা এখনো অপেক্ষার বিষয়।



