ক্রীতদাস ব্যবসা, ভারত-সহ ৫৬ দেশের কাছে ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত ব্রিটেন, কিন্তু ক্ষতিপূরণে ‘না’

১০০ বছর আগেও ইউরোপজুড়ে রমরমিয়ে চলত ক্রীতদাসের ব্যবসা। আফ্রিকার দেশগুলি থেকে কালো মানুষদের ধরে এনে গোলামি করানো হত গোটা ইউরোপজুড়ে। তথাকথিত ‘উন্নত, আধুনিক’ ইউরোপীয় দেশগুলির এই কুকর্মের অন্যতম কাণ্ডারি ছিল ব্রিটেনও। নিষ্ঠুর এই ক্রীতদাস বাণিজ্যের জন্য অবশেষে অনুতপ্ত ব্রিটেন। ব্রিটিশ সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, অতীতের কুকীর্তির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত তারা। সম্প্রতি একথা জানিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তবে সেই ঘটনার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি খারিজ করে দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকায় একটি নিবন্ধে বার্নহ্যাম সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান। আগামী সপ্তাহে অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলন। তার এর আগে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সেখানে ক্যারিবিয়ান দেশগুলো ব্রিটেনের কাছে ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণের দাবি তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। ওই নিবন্ধে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, সেই সময় মানুষগুলি যে নরক যন্ত্রণা ভোগ করেছেন তা তিনি বোঝেন এবং সেই ঘটনার জন্য গভীরভাবে মর্মাহত। তিবনি আরও বলেন, অতীতের নৃশংসতার প্রভাব এখনও মুছে যায়নি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তঃআটলান্টিক দাস ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে আমরা একটি গঠনমূলক আলোচনা শুরু করছি। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার দাবি শোনা এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে, এবং আমি সেই দাবি শুনতে প্রস্তুত।’
ব্রিটিশ সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, অতীতের কুকীর্তির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত তারা। সম্প্রতি একথা জানিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
যদিও ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে তার সাফ বক্তব্য, ‘আমি মনে করি না যে আজকের ব্রিটিশ জনগণকে অতীতের সেই অন্যায়ের জন্য দায়ী করা যায়। তা যতই জঘন্য হোক না কেন, তা ঘটেছিল অন্য যুগে, অন্য আইনের অধীনে। যাতে বর্তমান ব্রিটিশ জনগণের বা সরকারের ব্যক্তিগত কোনও ভূমিকা ছিল না।’ উল্লেখ্য, বর্তমানে ব্রিটেনের রাজা চার্লস ক্যারিবিয়ান দেশগুলিতে সফরে রয়েছেন। সেখানেই বাহামাসের ক্রীতদাস প্রথার কথা উল্লেখ করেন চার্লস এবং ব্রিটিশ শাসনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তবে অতীতের সেই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত এভাবে কখনও ক্ষমা চায়নি ব্রিটেন। তবে বিষয়টির সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে ব্রিটেন এখন ক্ষমা চাওয়াটা সমীচীন মনে করেছে।
ব্রিটেনের মতে, এটা অস্বীকার করা যায় না যে তারা দাস ব্যবসা থেকে অর্থ উপার্জন করেছিল। কিন্তু পরে এটি বন্ধ করার ক্ষেত্রেও তারা ভূমিকা পালন করেছিল। ১৮৩৩ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট দাসপ্রথাকে বেআইনি ঘোষণা করেছিল। তবে দাসপ্রথা বন্ধ হলেও অন্যান্য দেশের উপর শাসন বন্ধ করেনি ব্রিটেন। ভারত-সহ একাধিক দেশে অব্যাহত ছিল এই শোষণ। উল্লেখ্য, ১৫ থেকে ১৯ শতকের মধ্যে ইউরোপীয় ব্যবসায়ীরা কমপক্ষে ১ কোটি ২৫ লক্ষ আফ্রিকানকে অপহরণ করে দাস হিসেবে বিক্রি করে। এর মধ্যে ব্রিটেন একাই প্রায় ৩২ লক্ষ মানুষকে পাচার করেছিল।
শেয়ার
লিংক



