পাকিস্তানে ‘না’, ‘বন্ধু’ ভারতের জন্য হরমুজ খুলল ইরান! বিরাট স্বস্তি দিল্লির

যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ‘ব্রাত্য’। তবে ‘বন্ধু’ ভারতের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দিল ইরান। অর্থাৎ, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অবাধে চলাচল করতে পারবে দিল্লির সমস্ত জাহাজ। মঙ্গলবার এমনটাই জানিয়েছেন ইরান সরকারের এক শীর্ষ কর্তা। তেহরানের এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তিতে ভারত।
জানা গিয়েছে, ভারত ছাড়াও হরমুজ পারাপারে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে আরও তিন দেশকে। তারা হল – চিন, ইরাক ও কাতার। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এর নেপথ্যে পারস্পরিক স্বার্থ জড়িয়ে থাকতে পারে। যেমন ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে ওষুধ আমদানি করে ইরান। আবার চিনের কাছ থেকে কূটনৈতিক সহায়তা পায় তেহরান। মঙ্গলবার ইরানি সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশ নীতি বিষয়ক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আমির হায়াত মোকাদ্দাম বলেন, “আমরা বর্তমানে ভারত, চিন, ইরাক ও কাতারকে হরমুজ প্রণালি পারাপারে অনুমতি দিয়েছি। এই দেশের জাহাজগুলি অবাধে সেখানে চলাচল করতে পারে। আমেরিকাও বাধা দেবে না।” তবে বাকি দেশের জন্য হরমুজের দরজা এখনও বন্ধই।
একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার ধাক্কা খেয়েছে ইরান। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অর্থনীতিও। দীর্ঘ এই অচলাবস্থার জেরে ইরানজুড়ে বর্তমানে চিকিৎসা সামগ্রী এবং ওষুধের সংকট দেখা গিয়েছে। এই বিপর্যয় কাটাতে ভরসা সেই ‘বন্ধু’ ভারতই। কারণ, ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ওষুধ উৎপাদনকারী দেশ। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির প্রক্রিয়াকে সহজ করতেই হরমুজে অনুমতি পেয়েছে দিল্লি। এদিকে বাণিজ্য ও জ্বালানি ক্ষেত্রে চিন ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ওয়াশিংটন ও অন্যান্য শক্তিগুলির চাপের কারণে বেজিঙের কূটনৈতিক সমর্থন তেহরানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শেয়ার
লিংক



