চোট-আঘাতে কাহিল ফুটবলাররা! এবার তারকাদের ফিটনেস বাড়াবে নাসার মহাকাশবিজ্ঞান

ফুটবল কোচদের কাছে প্লেয়ারদের চোট-আঘাত অন্যতম উদ্বেগের কারণ। একজন ফুটবলারের অনুপস্থিতির জন্য নতুন করে ভাবনা-চিন্তা করতে হয় কোচকে। বানাতে হয় ভিন্ন পরিকল্পনা। যা প্রভাবও ফেলে দলের পারফরম্যান্সের উপর। বদলে দেয় ম্যাচের ফলাফল। আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতার পরিস্থিতিও বিশেষ আলাদা নয়। গত কয়েক বছরে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নির্ভরযোগ্য প্লেয়ারের অনুপস্থিতি কঠিন করেছে গানার্স হেডস্যরের কাজ।
এই যেমন বায়ার্ন মিউনিখের বিরুদ্ধে শেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে পায়ে চোট পেয়েছেন বুকায়ো সাকা। এক-দেড় মাস মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাঁকে। গত দু’বছরে সবমিলিয়ে ১১ বার চোট পেয়েছেন ইংল্যান্ড উইঙ্গার। কিংবা উইলিয়াম সালিবা। চোটের জন্য বিশ্বকাপের পর আর মাঠে নামেননি ফরাসি ডিফেন্ডার। ২০২২-‘২৩ মরশুমে তাঁর অনুপস্থিতিকে দলের প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন না হতে পারার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আর্তেতা। আবার ক্রিস্টোস টোলিস প্রায় এক মাস মাঠের বাইরে থাকার পর ফিরেছেন লিভারপুলের বিরুদ্ধে। জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গিয়ে চোট পেয়েছিলেন এই গ্রিক উইঙ্গার। তার আগে ডিফেন্ডার জুরেন টিম্বার কিংবা প্রাক্তন ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল জেসাসকেও ভুগিয়েছে চোট।
এবার প্লেয়ারদের দ্রুত ফিট করতে মহাকাশবিজ্ঞানকে ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে আর্সেনাল। এজন্য ইতিমধ্যে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) সঙ্গে যোগাযোগও করেছে। কিন্তু ফুটবল মাঠের সঙ্গে কোন শর্তে মিলবে বহির্বিশ্বের তত্ত্ব? মূলত ফুটবলারদের চোট দ্রুত সারানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে মহাকাশবিজ্ঞানকে। মহাকাশে মধ্যাকর্ষণ শক্তি কম। ফলে তার প্রভাব ভিন্নভাবে পড়ে মহাকাশচারীদের শরীরে। তাঁদের পেশি এবং হাড়ের বৃদ্ধির হার বদলে যায়। তাই মহাকাশে যাওয়ার আগে অভিযাত্রীদের বিশেষভাবে তৈরি করে নাসা। স্পেস স্টেশন বা শাটলের মতো পরিবেশ তৈরি করে সেখানে রাখা হয় তাঁদের। দেখা হয় বিভিন্ন সময়ে অভিযাত্রীদের শারীরিক পরিস্থিতি।
আবার মহাকাশে থাকাকালীন এবং সেখান থেকে ফেরার পর তাঁদের শরীরের অবস্থা নিয়েও গবেষণা করে নাসা। সেই মতো পরবর্তীতে অভিযাত্রীদের তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়। যাকে বলা হয় মহাকাশ শারীরবিদ্যা। নাসার থেকে সেই বিষয়েই সাহায্য চেয়েছে আর্সেনাল। মূলত এসিএলে চোট পাওয়া প্লেয়াররা রিকভারির কোন পর্যায়ে কতটা ভার তুলবেন, তা নির্ধারণ করা হবে নাসার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে। কম মধ্যাকর্ষণ শক্তিতে প্লেয়ারদের শরীরের প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেটাও দেখা হবে।
অবশ্য শুধু নাসা নয়, প্লেয়ারদের উন্নতিতে অ্যাপল এবং গুগলের মতো সংস্থার প্রযুক্তি ব্যবহারে পদক্ষেপ করছে আর্সেনাল। দুই সংস্থার সঙ্গেই ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে লন্ডনের ক্লাবটির। এরমধ্যে অ্যাপলের প্রযুক্তি তারা কাজে লাগাবে প্লেয়ারদের অনুশীলন এবং রিহ্যাবের তথ্য পাওয়ার জন্য। আবার গুগলের ডেটা অ্যানালিটিক্স কাজে লাগিয়ে প্লেয়ারদের চোটের প্যাটার্ন চিহ্নিত করার পরিকল্পনা রয়েছে আর্সেনালের। যা চোটপ্রবণ প্লেয়ারদের আরও বেশি সময় ফিট রাখতে সাহায্য করবে বনে মনে করছে তারা। আর্তেতাদের এহেন ভাবনার সফল বাস্তবায়ন হলে যে ক্রীড়ায় বিজ্ঞান ব্যবহারের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়ে যাবে, বলাই বাহুল্য।
শেয়ার
লিংক



