মার্কিন সিদ্ধান্তেই ইরান যুদ্ধ! ট্রাম্পের দল ভোটে হারতেই ‘রং’ বদল ‘বন্ধু’ ইজরায়েলের

আমেরিকার সিদ্ধান্তেই ইরানে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এমনটাই দাবি করলেন রাষ্ট্রসংঘে ইজরায়েলের প্রতিনিধি ড্যানি ড্যানন। তিনি ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল হারতেই ‘রং’ বদল তেল আভিভের।
ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ড্যানন বলেন, “তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে ইজরায়েলকে যুক্ত করা অন্যায্য। ইরানে হামলার সিদ্ধান্তটি ছিল আমেরিকার। আমাদের নয়। আমরা শুধু ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছিলাম। আমাদের মতে, এটি সঠিক সিদ্ধান্তই ছিল।” যোগ করেন, “সবকিছুর জন্য সবসময় ইজরায়েলকে দোষারোপ করা খুব সহজ।” তাৎপর্যপূর্ণভাবে, তাঁর মন্তব্য এমন সময় এল যখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ভোট বিপর্যয়ে আমেরিকা-ইজরায়েল সম্পর্ককে পরোক্ষভাবে দায়ী করেছেন।
বুধবার একটি বার্তায় ভ্যান্স জানান, ভোটে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ ইরান যুদ্ধ। তাঁর বক্তব্য, ভোটারদের একটা বড় অংশ এই সংঘাতকে ভালো চোখে দেখেননি। অনেকেই এর বিরোধিতা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দলকে ফের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে বেশ কিছু জরুরি পরিবর্তন আনতে হবে। তার মধ্যে অন্যতম হল – ইজরায়েলের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের চালচিত্র পরিবর্তন করা। এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন-তেল আভিভ কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন উত্তাপ তৈরি হয়েছে। এদিন ভ্যান্সের মুখে ‘আমেরিকা-প্রধান’ নীতির কথাও শোনা যায়। ভ্যান্সের কথায়, “ইরান যুদ্ধ রিপাবলিকানদের কাছে বোঝা হয়ে উঠেছে। সে কারণেই যাঁরা ২০২৪ সালে ট্রাম্প বা ভ্যান্সকে ভোট দিয়েছিলেন আজ তাঁরা ঝুঁকেছেন ডেমোক্র্যাটদের দিকে।”
উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের জেরে আমেরিকায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জনগণের একটা বিরাট অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। ভোট প্রচারে এই সকল ইস্যুগুলিকেই হাতিয়ার করে ডেমোক্র্যাটরা, যার প্রভাব পড়েছে ভোটবাক্সে।
শেয়ার
লিংক



