বারবার খাবার গরম করছেন? নিজেই বাড়াচ্ছেন সংক্রমণের ঝুঁকি!

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ উৎসবের সময়ে বাসি খাবার বারবার গরম করা এবং দুগ্ধজাত মিষ্টি সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করার কারণে মারাত্মক ফুড পয়জনিং বা পেটের সংক্রমণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘরের তাপমাত্রায় দীর্ঘক্ষণ রেখে দেওয়া রান্না করা খাবারে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং এমন কিছু টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদান তৈরি করে যা পরবর্তীতে পুনরায় গরম করলেও ধ্বংস হয় না। বিশেষত দুগ্ধজাত মিষ্টিতে প্রচুর পরিমাণে আর্দ্রতা এবং প্রোটিন থাকে। ফলে এগুলো সঠিকভাবে ফ্রিজে রাখা না হলে তা ব্যাকটেরিয়ার উপযুক্ত বংশ বিস্তারের ক্ষেত্রে পরিণত হয়।
খাদ্যে বিষক্রিয়ার প্রধান লক্ষণসমূহ
বিশেষজ্ঞদের মতে, দূষিত খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে:
- বমি বমি ভাব এবং ক্রমাগত বমি হওয়া
- পেটে তীব্র ব্যথা ও মোচড় দেওয়া
- পাতলা পায়খানা বা মলের সাথে রক্ত পড়া
- উচ্চ মাত্রায় জ্বর এবং ডিহাইড্রেশন
সাধারণত মৃদু সংক্রমণ কয়েক দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে গেলেও শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মৃদু অসুস্থতায় ওআরএস (ORS) বা খাবার স্যালাইন খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক বা ডায়রিয়া প্রতিরোধী ওষুধ খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।
খাবার সুরক্ষিত রাখার জরুরি নিয়মাবলী
উৎসবের দিনগুলোতে পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় চিকিৎসকেরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।রান্না করা খাবার ঘরের তাপমাত্রায় ২ ঘণ্টার বেশি (এবং গরম আবহাওয়ায় ১ ঘণ্টার বেশি) বাইরে ফেলে রাখবেন না।বাসি খাবার পুরোটা একসাথে গরম না করে প্রতিবার খাওয়ার সময় ঠিক যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই আলাদা করে ভালোভাবে গরম (কমপক্ষে ৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়) করে নিন।একই খাবার বারবার ফ্রিজে রাখা এবং পুনরায় গরম করা এড়িয়ে চলুন। একই রান্নার তেলও বারবার গরম করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কোনো মিষ্টি থেকে অন্যরকম গন্ধ আসলে, চটচটে বা পিচ্ছিল হয়ে গেলে কিংবা রঙ বদলে গেলে তা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
The post বারবার খাবার গরম করছেন? নিজেই বাড়াচ্ছেন সংক্রমণের ঝুঁকি! appeared first on Ei Muhurte Breaking News in Bangla, বাংলা খবর, বাংলার আজকের খবর এই মুহূর্তে.



