0%

ভারতের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে’ ধ্বংস পাকিস্তান, জয় দিয়ে সাফ অভিযান শুরু সুহেলদের

ভারত: ৩ (সুহেল ২, কিপগেন)
পাকিস্তান: ২ (নাজিব উল্লাহ, আলমগির) 

ফুটবল মাঠেও এবার ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ ভারতের। যে কোনও খেলাতেই হোক, পাকিস্তানকে হারানোটা যেন অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে ভারত। বৃহস্পতিবার সাফের মঞ্চে (SAFF Championship 2026) পাকিস্তানকে হারিয়ে অভিযান শুরু ভারতের। তবে ৩ গোলে এগিয়ে গিয়েও কঠিন করে জিতল নৌশাদ মুসার দল। খেলার ফলাফল ভারতের পক্ষে ৩-২।

ম্যাচের প্রথম ৩২ মিনিটেই তিন গোল। প্রতিপক্ষ পাকিস্তানকে (Pakistan) কার্যত দিশাহারা করে দিয়েছিল ভারতের (India) অনূর্ধ্ব-২৩ দল। কিন্তু শেষ দিকে পরপর দু’গোল করে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করল পাকিস্তান। শেষ মুহূর্তে গোলরক্ষক অর্শ শেখের তৎপরতায় কোনও রকমে জয় নিশ্চিত করল ‘মেন ইন ব্লু’। ঢাকায় শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে শুরু করে ভারত। ৩ মিনিটে মাংলেনথাং কিপগেনের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৫ মিনিটের মাথায় সুহেল ভাটকে লম্বা পাসে খুঁজে নিয়েছিলেন প্রভু। কিন্তু অফসাইডের ফাঁদে পড়েন মোহনবাগানের এই ফুটবলার। ১১ মিনিটে উভাইসের লম্বা থ্রো থেকেও সুযোগ তৈরি হয়। কোনওক্রমে বিপদ এড়ায় পাকিস্তানের রক্ষণ।

তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি ভারতকে। ১৩ মিনিটে গোলের দরজা খুলে দেন সেই সুহেল। মহম্মদ সুহেলের মাপা পাস ধরে বক্সের মধ্যে ঢুকে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়িয়ে দেন সবুজ-মেরুন স্ট্রাইকার। পাকিস্তানের গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। ছ’মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সুহেল। এবার অভিষেক সূর্যবংশীর নিখুঁত থ্রু পাস ধরে বক্সের বাঁ দিক দিয়ে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন তিনি। জোড়া গোল করে ভারতকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন সুহেল।

২৭ মিনিটের পর থেকে খেলায় ফেরার চেষ্টা করে পাকিস্তান। তবে ভারতের জমাট রক্ষণ ভাঙার মতো আক্রমণ তৈরি করতে পারছিল না তারা। উলটে ৩২ মিনিটে তৃতীয় গোল করে ভারত। নওফল পিএনের বাড়ানো বল ধরে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে জালে বল পাঠান মাংলেনথাং কিপগেন। ৩৪ মিনিটে অবশ্য ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল পাকিস্তান। আবিষেক সূর্যবংশীর ফাউলে পেনাল্টি পায় তারা। কিন্তু স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ শায়াক দস্ত। তাঁর শট উড়ে যায় ক্রসবারের উপর দিয়ে। পরের মিনিটেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন সুহেল। কিপগেনের পাস থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। তাঁর শট চলে যায় ক্রসবারের উপর দিয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণে ধার বজায় রাখার চেষ্টা করে ভারত। ৫৩ মিনিটে পাকিস্তানের গোলরক্ষককে এগিয়ে আসতে দেখে চিপ করার চেষ্টা করেছিলেন কিপগেন। বল অল্পের জন্য ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়। ৬০ মিনিটে আদিসন সিংয়ের শট রুখে দেন পাকিস্তানের গোলরক্ষক ইউসুফ বাট। দু’মিনিট পরে পাকিস্তানের শায়াক দস্তের হেড সহজেই সামাল দেন ভারতের গোলরক্ষক অর্শ শেখ। এর পরেও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ভারত। কিন্তু কিপগেন, অভিষেকদের একাধিক প্রচেষ্টা সফল হয়নি। ৮২ মিনিটে খাইমিনথাং লুংদিমের দূরপাল্লার শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

কিন্তু তখনও যেন টুইস্ট বাকি ছিল। ৮৩ মিনিটে পাকিস্তানের নাজিব উল্লাহ সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন। ফিরতি বল থেকে আলমগির গাজির শটও প্রতিহত হয়। ৯১ (৯০+১) মিনিটে গোল পায় পাকিস্তান। জুনেইদ শাহের ক্রস থেকে দুরন্ত হেডে ব্যবধান কমান নাজিব উল্লাহ। এর পরেও শেষ হয়নি নাটক। সংযুক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে ফের গোল করে পাকিস্তান। ম্যাককিল আবদুল্লার ক্রস থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়িয়ে দেন আলমগির গাজি। শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা চালায় পাকিস্তান। ৯০+৫ মিনিটে ম্যাককিলের দূরপাল্লার শট আটকে ভারতকে স্বস্তি দেন গোলরক্ষক অর্শ শেখ। তবে সংযুক্ত সময়ে যেভাবে গোল খেল ভারত, তাতে পরের ম্যাচে নামার আগে চিন্তায় থাকবেন ভারতীয় কোচ। 

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker