0%

ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর প্রভাব কমল অন্ধ্রপ্রদেশে, স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি

অমরাবতী, ৫ নভেম্বর: ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বৃহস্পতিবার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি ক্রমশ স্বাভাবিক হচ্ছে বলে প্রশাসনিক আধিকারিকরা জানিয়েছেন।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব অনেকটাই কমে গেলেও নিচু এলাকা, নিকাশি নালা, খাল এবং জলাধারের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পাশাপাশি উপচে পড়া জলস্রোত বা জলমগ্ন কালভার্ট পার না হওয়ার জন্যও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ রাজ্যের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। শুধুমাত্র দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলের কয়েকটি জায়গায় হালকা বৃষ্টির খবর পাওয়া গিয়েছে।

রিয়েল টাইম গভর্ন্যান্স সোসাইটির (আরটিজিএস) স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার মূলত গোদাবরী অঞ্চলের পশ্চিম গোদাবরী, পূর্ব গোদাবরী, কাকিনাড়া, এলুরু এবং পোলাভরম জেলায় ভারী বৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে অতি ভারী বৃষ্টিপাতও রেকর্ড করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে বৃষ্টির প্রভাব নেল্লোর জেলায় সীমাবদ্ধ ছিল। তবে সেখানে বৃষ্টির তীব্রতা হালকা থেকে মাঝারি পর্যায়ে ছিল। রায়ালসীমা-সহ রাজ্যের অধিকাংশ জেলায় সামান্য বৃষ্টি হয়েছে অথবা বৃষ্টির কোনও খবর পাওয়া যায়নি।

শহরাঞ্চলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে কোনও শহরেই ভারী বৃষ্টি বা নতুন করে জল জমার খবর পাওয়া যায়নি।

গত দু’দিনে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয়েছে গোদাবরী অঞ্চলের নিডাদাভোল, কোভুর এবং কাকিনাড়া এলাকায়। এরপর রয়েছে কোনাসীমা জেলার মুম্মিদিভরম এবং অমলাপুরম।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, জলাধার ও নিকাশি ব্যবস্থার পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল। নজরদারিতে থাকা সমস্ত প্রকল্পে জলপ্রবাহ স্থিতিশীল রয়েছে অথবা কমছে। প্রকাশম ব্যারাজে যতটা জল প্রবেশ করছে, ঠিক ততটাই জল ছাড়া হচ্ছে। গত রাতে থাম্মিলেরু ও বুদামেরু নদীর জলস্তর বাড়লেও বর্তমানে তা কমছে। অন্যদিকে, ইয়েরা কালভা নদীর জলস্তরও স্থিতিশীল হয়েছে। জলস্তর নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোন্ডাভিটি ভাগু পাম্প হাউস চালু রাখা হয়েছে।

আগামী কয়েক দিন অন্ধ্রপ্রদেশের বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাজ্যের কোথাও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়নি। সপ্তাহান্তে দক্ষিণ উপকূলীয় নেল্লোর, তিরুপতি এবং বাপটলা জেলায় তুলনামূলক বেশি বৃষ্টি হতে পারে। তবে সেই বৃষ্টিও মাঝারি মাত্রায় সীমাবদ্ধ থাকবে বলে পূর্বাভাস।

রাজ্যের স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার থেকে ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker