ভারতের বিরুদ্ধে আইএসআইয়ের দ্বিমুখী ছক! কাশ্মীরে অন্য রাজ্যের যুবকদের নিয়োগ, বাংলাদেশে ভারতবিরোধী প্রচারের পরিকল্পনা

নয়াদিল্লি, ৫ নভেম্বর : ভারতের অভ্যন্তরে অশান্তি ছড়ানোর লক্ষ্যে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই দ্বিমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরে স্থানীয় যুবকদের পরিবর্তে দেশের অন্যান্য রাজ্যের যুবকদের নিয়োগের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে ভারতবিরোধী অপপ্রচার আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, জম্মু ও কাশ্মীরে স্থানীয় যুবকদের উপর নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরদারি বেশি থাকায় আইএসআই এখন দেশের অন্যান্য রাজ্য থেকে নতুন সদস্য সংগ্রহের দিকে নজর দিচ্ছে।
এক গোয়েন্দা আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতেও কেরল থেকে যুবকদের নিয়োগ করে জম্মু ও কাশ্মীরে পাঠানোর কৌশল নিয়েছিল আইএসআই। এবারও সেই কৌশল পুনরায় প্রয়োগের চেষ্টা চলছে।
৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদ এবং হিজবুল মুজাহিদিনের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলির নিয়োগ কৌশল বাধার মুখে পড়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি।
গোয়েন্দা আধিকারিকদের মতে, স্থানীয় যুবকদের মধ্যে হিংসাত্মক কার্যকলাপের প্রতি আগ্রহ কমেছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শান্তিপূর্ণভাবে বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন হওয়াকে এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, পর্যটন শিল্পের বিকাশের ফলে স্থানীয় মানুষের একাংশ জঙ্গি কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, তামিলনাড়ু ও কেরলের যুবকদের উপর নজর রাখছে আইএসআই বলে অভিযোগ। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই রাজ্যগুলিতে আল কায়দা ও ইসলামিক স্টেটের প্রচারে প্রভাবিত কিছু যুবককে নিজেদের কাজে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে।
এক আধিকারিকের দাবি, কাশ্মীর সংক্রান্ত প্রচারকে কাজে লাগিয়ে এই সংগঠনগুলি ইতিমধ্যেই কিছু যুবককে উগ্রপন্থার দিকে আকৃষ্ট করেছে। আইএসআই সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে।
অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীর থেকে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজর ঘোরাতে আইএসআই বাংলাদেশকেও প্রচারের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নিয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি।
এই উদ্দেশ্যে দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ), পিপলস অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট ফ্রন্ট, কাশ্মীর টাইগার্স এবং আল্লাহ টাইগার্স-এর মতো সংগঠনগুলিকে বাংলাদেশকেন্দ্রিক কার্যকলাপে মনোযোগ দিতে বলা হয়েছে বলে অভিযোগ।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত এই সংগঠনগুলি বাংলাদেশে বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় সেনাকর্মী ও সরকারি আধিকারিকদের নামে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের লোগো ব্যবহার করে ভিডিও ছড়িয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানোর অভিযোগও উঠেছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশে কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরই পাকিস্তান এই প্রচার অভিযান জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে ভারতবিরোধী ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের জন্য বাংলাদেশভিত্তিক বিভিন্ন গোষ্ঠীর সহযোগিতা নেওয়া হতে পারে।
গোয়েন্দা সূত্র আরও জানিয়েছে, ২০০৮ সালেও কেরল থেকে চারজনকে জম্মু ও কাশ্মীরে পাঠাতে সক্ষম হয়েছিল আইএসআই। পরে কুপওয়ারার লোলাব জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মুহাম্মদ ফায়াজ, মুহাম্মদ ফাহিজ, আবদুল রহিম এবং মুহাম্মদ ইয়াসিন নিহত হন। পঞ্চম সদস্য আবদুল জবির পালিয়ে কেরলে ফিরে গেলেও পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গোয়েন্দা আধিকারিকদের দাবি, বর্তমানে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের ঘটনা এবং স্থানীয় নিয়োগ কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে যুবকদের সংগ্রহ করে জম্মু ও কাশ্মীরে সক্রিয় করার পরিকল্পনা নিয়েছে আইএসআই।
একইসঙ্গে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী ভুয়ো প্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযান আরও বড় আকারে চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি গোয়েন্দা সূত্রের।



