0%

চাপের মুখে ব্যর্থ শেহওয়াগ-দ্রাবিড় পুত্র, অর্জুনের সেঞ্চুরিতেও পাকিস্তানের কাছে হার ভারতের

ভারত: ২০৮/১০ (অর্জুন ১০৭, কাব্য ২৩, রিজওয়ানুল্লাহ ২৪/৩, রেজা ২৪/৩)
পাকিস্তান: ২০৯/৭ (হামজা ১০০*, হাসনাইন ৩৮, মনল ৩২/৩, মোহিত ৪৫/২)
৩ উইকেটে জয়ী পাকিস্তান।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। সিনিয়র হোক কিংবা জুনিয়র, দুই দেশ মুখোমুখি হলেই উন্মাদনার পারদ চড়ে। রবিবার ওমানের মাসকটে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের গ্রুপ এ-র ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হল না। ‘ট্র্যাডিশন’ বজায় রেখে হাত মেলালেন না দু’দলের ক্রিকেটাররা। এই ম্যাচে বাড়তি নজর ছিল দুই ক্রিকেট কিংবদন্তি বীরেন্দ্র শেহওয়াগ ও রাহুল দ্রাবিড়ের ছেলেদের দিকে। ভারতের প্রথম একাদশে ছিলেন আর্যবীর শেহওয়াগ ও অন্বয় দ্রাবিড়। কিন্তু বড় ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেন না দু’জনের কেউই। আর্যবীর ফিরলেন ২২ রানে, অন্বয়ের সংগ্রহ মাত্র ১০। অর্জুনের সেঞ্চুরিতে দু’শোর গণ্ডি পেরলেও শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে হার স্বীকার করতে হল লক্ষ্য রাইচান্দানির দলকে। 

নেপালের বিরুদ্ধে আগের ম্যাচে ৫২ বলে ৭০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে নজর কেড়েছিলেন আর্যবীর। ৫২ বলে ৭০ রানের ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও চারটি ছক্কা। কিন্তু পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারলেন না শেহওয়াগ-পুত্র। শুরু থেকেই পাকিস্তানের দুই পেসার আলি রাজা ও সায়মের বোলিংয়ের সামনে ছন্দে দেখায়নি তাঁকে। সবুজ উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ভারতীয় ব্যাটারদের চাপে রাখেন পাকিস্তানের পেসাররা। শেষ পর্যন্ত ৪০ বলে ২২ রান করে ফিরতে হয় আর্যবীরকে। বাঁহাতি স্পিনার নকাব শফিকের বলে সুইপ করতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল একটি চার ও একটি ছক্কা।

দ্রাবিড়-পুত্র অন্বয়েরও দিনটা ভালো গেল না। মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১০ রান করে আউট হন তিনি। নকাব শফিকের বলে ইনসাইড-আউট শট খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় বল লাগান অন্বয়। ডিপ কভারে সহজ ক্যাচ নিতে ভুল করেননি পাকিস্তানের ফিল্ডার। নেপালের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ব্যাট করার সুযোগই পাননি তিনি। ফলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ ছিল অন্বয়ের সামনে। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না দ্রাবিড়-পুত্রও। টসে জিতে ব্যাট করতে নামা ভারতের আর্যবীর-অন্বয় ব্যর্থ হলেও ভারতের ইনিংসের ভরসা হয়ে উঠলেন অর্জুন রাজপুত। ভারত যখন ৪২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিধ্বস্ত, সেখান থেকে দলের ইনিংসের হাল ধরেন তিনি।

৮৫ বলে ১০৭ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন অর্জুন। মাত্র ৮০ বলে সেঞ্চুরি করেন তিনি। ফারহান ইউসুফের বলে সিঙ্গল রান নিয়ে তিন অঙ্কের রান স্পর্শ করেন ভারতীয় ব্যাটার। তাঁর ইনিংসের সুবাদেই লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছয় ভারত। শেষ পর্যন্ত ২০৮ রানে অলআউট হয় ভারত। অর্জুনের সেঞ্চুরি ছাড়া কাব্য প্যাটেল করেন ২৩ রান। পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে সফল আলি রাজা, রিজওয়ানুল্লাহ ও নকাব শফিক। তিনজনেই ৩টি করে উইকেট নেন। আলি রাজা ১০ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে ৩টি এবং রিজওয়ানুল্লাহ ৭ ওভারে ২৪ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন।

২০৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই পাকিস্তানকে চাপে রাখার চেষ্টা করেন ভারতের বোলারেরা। ১৪.৪ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ৬১। বল হাতে নজর কাড়েন মনল চৌহান। দুরন্ত ছিলেন ঈশান সুদ, মোহিত উলভা ও কাব্য প্যাটেল। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখনও ভারতের হাতেই ছিল। ঠিক সেই সময় রুখে দাঁড়ান হামজা জাহুর। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন হাসনাইন আব্বাস দার। ষষ্ঠ উইকেটের জুটিতে তাঁরা যোগ করেন ১০৭ রান। তবে ভারতকে ম্যাচে ফেরান মনল চৌহান। ব্যক্তিগত ৩৮ রানে ফেরেন হাসনাইন। যদিও তাতে জয় আটকায়নি পাক দলের। শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে সেঞ্চুরি হাঁকান হামজা। ১১ বল বাকি থাকতে জয় পায় পাকিস্তান। ভারতের পরবর্তী ম্যাচ মঙ্গলবার, প্রতিপক্ষ আরব আমিরশাহী। 

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker