এক মাসে পদত্যাগ চতুর্থ বিচারপতির, বাংলার এসআইআর ট্রাইব্যুনালে সদস্য সংখ্যা কমে ১৫

কলকাতা, ৭ নভেম্বর : পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত আপিলের নিষ্পত্তির জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনাল থেকে পদত্যাগ করলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। শনিবার তাঁর পদত্যাগের ফলে গত এক মাসে এই ট্রাইব্যুনাল থেকে সরে দাঁড়ানো বিচারপতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার।
ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র বিঠলরাও ঘুগের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বিশ্বজিৎ বসু।
এর কয়েক দিন আগেই ট্রাইব্যুনাল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়। প্রতিদিন প্রায় ২২ কিলোমিটার যাতায়াত করে ট্রাইব্যুনালের কাজে যোগ দেওয়া তাঁর পক্ষে অসুবিধাজনক হয়ে উঠেছিল বলে তিনি জানিয়েছিলেন। দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে, এমন ধারণা থেকেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু বিপুল সংখ্যক বিচারাধীন মামলার কারণে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বুঝতে পেরেই তিনি পদত্যাগ করেন।
এর আগে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জিত কুমার বাগ। পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনাল ছেড়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমও।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত এই ট্রাইব্যুনালে মোট ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। এসআইআর প্রক্রিয়ার পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের আপিল শুনে পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ করে দেওয়াই এই ট্রাইব্যুনালের মূল উদ্দেশ্য। বিশ্বজিৎ বসুর পদত্যাগের পর বর্তমানে সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। তবে বিচারবিভাগীয় নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো প্রায় ৬০ লক্ষ মামলার বিষয়টি ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, বিচারপ্রক্রিয়া এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
এসআইআর বিজ্ঞপ্তি জারির আগে রাজ্যে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। ডিসেম্বরে প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জনের নাম বাদ পড়ে। পরবর্তী সময়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় মোট বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২।
এই বিপুল সংখ্যক বাদ পড়া নাম সংক্রান্ত মামলার চাপই ট্রাইব্যুনালের কাজের পরিধি বাড়িয়েছে। বিচারবিভাগীয় যাচাইয়ের পর যাঁদের আবেদন গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে, তাঁদের নাম সম্পূরক ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



