বাংলাদেশে চিনের যুদ্ধবিমানে ট্রেনিং দেবে পাকিস্তান! পড়শি দেশের কর্মকাণ্ডে কেন চিন্তিত ভারত?

সবদিক নিউজ: ভারতকে (India) ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক সমীকরণে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে চিন (China), পাকিস্তান (Pakistan) ও বাংলাদেশের (Bangladesh) ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী বছর বাংলাদেশকে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা মূল্যের চিনা জে-সিরিজের যুদ্ধবিমান সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এই যুদ্ধবিমান চালানোর জন্য বাংলাদেশের পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিতে পারে পাকিস্তান বিমান বাহিনী। এমনকি ভারতের সীমান্ত থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশের যশোর বিমানঘাঁটিতে পাক প্রশিক্ষকদের মোতায়েনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই সামরিক সমীকরণের দিকে নজর রাখছে ভারত।
ভারত (India) সীমান্তের কাছে বাংলাদেশে চিনের যুদ্ধবিমানে ট্রেনিং দেবে পাকিস্তান!
পাকিস্তান বিমান বাহিনী ২০২২ সাল থেকেই চিনের তৈরি জে-সিরিজের যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে। চিনের পর এই ধরনের যুদ্ধবিমানের সবচেয়ে বড় বহর রয়েছে পাকিস্তানের হাতে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই বাংলাদেশের পাইলটদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে খবর। এই বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে আগামী ডিসেম্বরে ঢাকায় চিন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর আধিকারিকদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা। শুধু পাইলট নয়, রাডার অপারেটর এবং গ্রাউন্ড স্টাফদের জন্যও আলাদা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হতে পারে। ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের এয়ার ভাইস মার্শাল আওরঙ্গজেব আহমেদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল বাংলাদেশ সফর করেছে বলে জানা গিয়েছে (India)।
দীপাবলিতে একাধিক রাজ্যে বন্ধ মদের দোকান! কোথায় কোথায় ড্রাই ডে ঘোষণা?
এই সহযোগিতা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের অন্যতম কারণ চিনের উন্নত সামরিক প্রযুক্তি। বিশেষ করে বাংলাদেশের রাডার ব্যবস্থার সঙ্গে চিনের সামরিক নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য সংযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। চিনের ট্যাকটিক্যাল ডেটা লিঙ্ক প্রযুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং স্থলভিত্তিক সামরিক কমান্ডের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদানপ্রদান সম্ভব। পাশাপাশি XS-3 নামে উচ্চগতির ডেটা লিঙ্ক ব্যবস্থার সাহায্যে একাধিক সামরিক সরঞ্জামকে একই নেটওয়ার্কে যুক্ত করা যায়। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণ বদলাতে পারে বলে আশঙ্কা।
ভারতের কাছে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা। প্রায় ২০-২২ কিলোমিটার প্রশস্ত এই গুরুত্বপূর্ণ স্থলপথটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। বাংলাদেশের লালমনিরহাট ও কুর্মিটোলার মতো বিমানঘাঁটিতে আধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হলে সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক তৎপরতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে চিকেন নেকের কৌশলগত গুরুত্বের কথা মাথায় রেখেই বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ভারত।
অভিবাসন নীতিতে একাধিক রদবদল! পাকিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য কী পদক্ষেপ কেন্দ্রের?
এ ছাড়াও উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গি সংগঠনগুলির কাছে অতীতে বাংলাদেশ হয়ে অস্ত্র ও যোগাযোগের সরঞ্জাম পৌঁছনোর অভিযোগ উঠেছে। ফলে নতুন এই সামরিক সমঝোতা নিয়ে ভারতের নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। যদিও সম্ভাব্য সামরিক সহযোগিতার সব দিক এখনও স্পষ্ট নয়, তবুও চিন-পাকিস্তান-বাংলাদেশের এই ঘনিষ্ঠতা ভারতের পূর্ব সীমান্তে নতুন কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। আগামী দিনে এই পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের (India)।



