নিউজিল্যান্ডের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ভোটারদের প্রধান চিন্তা জীবনযাত্রার ব্যয় ও স্বাস্থ্য পরিষেবা

ওয়েলিংটন, ৬ নভেম্বর : নিউজিল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনের আগে শাসক দল ন্যাশনাল পার্টি এবং বিরোধী লেবার পার্টির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষায়। আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দেশের সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচনের আগে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি।
শুক্রবার প্রকাশিত ‘দ্য পোস্ট/ফ্রেশওয়াটার স্ট্র্যাটেজি’-র সর্বশেষ জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী, লেবার পার্টি ৩০.৭ শতাংশ সমর্থন নিয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, শাসক দল ন্যাশনাল পার্টির সমর্থন ২৬.৪ শতাংশ। সরকারের দুই সহযোগী দল অ্যাক্ট পার্টি এবং নিউজিল্যান্ড ফার্স্টের সমর্থন যথাক্রমে ৯.৮ শতাংশ ও ১২ শতাংশ।
বিরোধী শিবিরের মধ্যে গ্রিন পার্টির সমর্থন ১৩ শতাংশ, মাওরি পার্টির ২ শতাংশ এবং সম্ভাব্য সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে এমন অপরচুনিটি পার্টির সমর্থন ৫.১ শতাংশ বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে।
সমীক্ষার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১২০ আসনবিশিষ্ট সংসদে বর্তমান শাসক জোটের আসনসংখ্যা হতে পারে ৫৯। এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে আরও দুটি আসন প্রয়োজন হবে তাদের। অন্যদিকে, লেবার, গ্রিন এবং মাওরি পার্টি মিলিয়ে পেতে পারে ৫৫টি আসন।
এদিকে, ইপসোসের প্রকাশিত অন্য একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যবৃদ্ধি। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি ১,০০৮ জনের মধ্যে ৬৪ শতাংশ এই বিষয়টিকে তাঁদের প্রধান তিনটি সমস্যার অন্যতম বলে উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্বাস্থ্য পরিষেবা, যার পক্ষে মত দিয়েছেন ৪৫ শতাংশ। অন্যদিকে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ৩১ শতাংশ ভোটার। উল্লেখযোগ্যভাবে, আগের সমীক্ষায় সপ্তম স্থানে থাকা জ্বালানির দাম এবার উঠে এসেছে তৃতীয় স্থানে।
আগামী শনিবার দেশজুড়ে ২,৩০০-রও বেশি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। মিশ্র সদস্য আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে (এমএমপি) এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই ব্যবস্থায় সাধারণত দুই বা তার বেশি রাজনৈতিক দলের সমর্থনে সরকার গঠিত হয়। আগামী ২৭ নভেম্বর নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, আগাম ভোটদানেও এবার উল্লেখযোগ্য সাড়া মিলেছে। ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের প্রথম সাত দিনে ৯ লক্ষ ১৩ হাজারেরও বেশি মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৯,১৩,৭৬২টি ভোট পড়েছে। ২০২৩ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৭,১২,১৯২।
রেডিও নিউজিল্যান্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের আগাম ভোট মোট নথিভুক্ত ভোটারের প্রায় ২৪ শতাংশ। ২০২৩ সালের নির্বাচনে একই সময়ে এই হার ছিল ১৯ শতাংশ। এখনও পর্যন্ত ৩১ অক্টোবর সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে। ওই দিন ১ লক্ষ ৯০ হাজারেরও বেশি ভোট দেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে চলতি সপ্তাহের প্রতিদিন প্রায় ৬০০টি ভোটকেন্দ্র খোলা থাকবে। শনিবার মূল ভোটগ্রহণের দিন দেশজুড়ে ২,৩০০-রও বেশি ভোটকেন্দ্রে ভোট নেওয়া হবে। তবে এবারের আগাম ভোটের সংখ্যা ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় বেশি হলেও ২০২০ সালের নির্বাচনের তুলনায় এখনও পিছিয়ে রয়েছে। ২০২০ সালের নির্বাচনে একই পর্যায়ে ১১ লক্ষ ৬০ হাজার আগাম ভোট পড়েছিল।



