0%

প্রথম ভারতীয় হিসাবে নজির, যুব অলিম্পিকে রুপোলি সাফল্য ১৫ বছরের তন্বীর

শেষ পর্যন্ত সোনা জেতা হল না। কিন্তু হার না মানা লড়াইয়ে মন জয় করে নিল তন্বী পাত্রী। মাত্র ১৫ বছর বয়সে যুব অলিম্পিক ব্যাডমিন্টনে রুপো জিতে নজির ওড়িশার এই শাটলারের। সেনেগালের ডাকারে মেয়েদের সিঙ্গলসের ফাইনালে চিনের জুনিয়র বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ঝাং ই জিনের কাছে হারলেও তন্বীর এই লড়াই দীর্ঘ দিন মনে থাকবে।

১ ঘণ্টা ২২ মিনিটের টানটান দ্বৈরথে ১৫-২১, ২১-১৩, ২৬-২৪ ব্যবধানে জিতে সোনা ছিনিয়ে নেন ঝাং। যুব অলিম্পিক ব্যাডমিন্টনে প্রথম ভারতীয় মহিলা খেলোয়াড় হিসাবে পদক জিতল তন্বী। এর আগে এইচএস প্রণয় (২০১০) এবং লক্ষ্য সেন (২০১৮) এই প্রতিযোগিতায় রুপো জিতেছিলেন। ফাইনালের তৃতীয় গেমে একটা সময় ১০-১৯ পিছিয়ে ছিল তন্বী। সেখান থেকে ম্যাচে ফেরা কার্যত অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু হার মানতে রাজি ছিল না ভারতীয় কিশোরী। পরের দশটি পয়েন্টের মধ্যে ন’টি জিতে স্কোর নিয়ে যান ১৯-২০-তে। এরপর ২০-২০। একাধিকবার ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচায়। একটা সময় স্কোর লাইন ছিল ২৪-২৪। যদিও শেষ হাসি হাসেন চিনের শাটলারই। টানা দু’পয়েন্ট জিতে ম্যাচ পকেটে পুরে নেন ঝাং।

প্রথম গেমে অবশ্য শুরু থেকেই দাপট ছিল তন্বীর। ৩-৫ পিছিয়ে পড়েও পরপর সাতটি পয়েন্ট জিতে ১০-৫ এগিয়ে যায় ভারতীয় কিশোরী। তন্বীর নিখুঁত ক্লিয়ার থেকে আক্রমণাত্মক স্ম্যাশে বারবার বিপাকে পড়ছিলেন চিনা প্রতিপক্ষ। মাত্র ২৫ মিনিটের লড়াইয়ে প্রথম গেম জিতে আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে নেন ভারতীয় শাটলার। কিন্তু দ্বিতীয় গেমে ছবিটা বদলে যায়। শুরুতে ৪-০ এগিয়ে গেলেও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেন ঝাং। রক্ষণ সামলে পালটা আক্রমণে পয়েন্ট তুলে নিয়ে ২১-১৩ ব্যবধানে গেম জিতে সমতা ফেরান তিনি।

তৃতীয় গেমে আরও কড়া চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় তন্বী। তার মধ্যে আবার নির্ধারিত সময়ের বেশি বিরতি নেওয়ায় হলুদ কার্ডও দেখতে হয় তাকে। চোখে ধুলো বা পালকের ছোট টুকরো ঢুকে যাওয়ায় সাময়িক অস্বস্তিও হয়েছিল। তার উপর কোর্টের বাতাসের দিক পরিবর্তন! তখন কিছুটা হলেও চাপে পড়ে যায় ভারতীয় শাটলার। সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা। ১০-১৯ থেকে ২০-২০, তার পর ২৪-২৪! তন্বীর লড়াই ছিল চোখে পড়ার মতো। শেষ পর্যন্ত অবশ্য অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাজিমাত করেন চৈনিক প্রতিপক্ষ।

ম্যাচের পরে তন্বী বলেন, “এই সাফল্য আমার কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। এই পদক ভবিষ্যতে আরও ভালো খেলতে উৎসাহ দেবে। ফাইনালটা বেশ জমজমাট হয়েছে। তৃতীয় গেমে তো লড়াই জমে উঠেছিল। অনেকটা পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছি। তবে কোর্টের বাতাসের দিক পরিবর্তন সমস্যায় ফেলেছিল। এর ফলে কয়েকটি শট বাইরে চলে যায়।”

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তন্বীর পরিণতবোধে মুগ্ধ সকলে। গত তিন মাসে এশীয় অনূর্ধ্ব-১৭ প্রতিযোগিতায় সোনাজয়ের পরে এবার যুব অলিম্পিকে রুপো। অল্প সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিতি তৈরি করে ফেলেছে সে। তবে পদকই তন্বীর কাছে এই সফরের একমাত্র প্রাপ্তি নয়। বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে বন্ধুত্ব, অ্যাথলিট হাউসে একসঙ্গে সময় কাটানোর স্মৃতিও তার কাছে স্পেশাল। এবার দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে সেলিব্রেশনের অপেক্ষা। তন্বীর কথায়, “বাড়ি ফিরে সেলিব্রেট করব। মা আমার জন্য ভালো ভালো খাবার বানিয়ে দেবে।”

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker