0%

১০ হাজার থেকে ১৮ লক্ষ! রাজ্য সরকারি কর্মীদের অগ্রিম টাকা দেওয়ার নিয়ম জানুন

SOBDIK NEWS: জরুরি প্রয়োজনে টাকার দরকার হলে এবার রাজ্য সরকারি কর্মীরা নিজেদের বেতনের ভিত্তিতে অগ্রিম টাকা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। রাজ্য সরকারের (West Bengal Government) নতুন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্যালারি অ্যাডভান্স স্কিম’-এ স্বল্পমেয়াদি অগ্রিমের পাশাপাশি রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ব্যবস্থাও। মাসিক বেতনের ৩০ গুণ পর্যন্ত ঋণের সীমা রাখা হয়েছে। কিন্তু ২০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা বেতন পাওয়া কর্মীরা কত টাকা পাবেন? কী কী শর্ত মানতে হবে?

West Bengal Government : কারা পাবেন এই সুবিধা?

অর্থ দফতরের ৩ নভেম্বর ২০২৬-এর ৪০৩৫-F(eGov) নম্বরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে স্থায়ী গ্রুপ A, B, C এবং D কর্মীরা এই সুবিধা পাবেন। যাঁদের বেতন ট্রেজারি বা Pay and Accounts Office-এর মাধ্যমে HRMS/WBIFMS পোর্টালে দেওয়া হয়, তাঁরাই আপাতত আবেদন করতে পারবেন। অন্য বিভাগ ও সংস্থার কর্মীদের জন্য পরবর্তী সময়ে এই ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

বেতন অনুযায়ী কত টাকা পাওয়া যাবে?

এই প্রকল্পে হিসাব করা হবে নেট বেতনের ভিত্তিতে, গ্রস স্যালারির উপর নয়। অর্থাৎ GPF, NPS, GIS, প্রফেশনাল ট্যাক্স এবং অন্যান্য টাকা কাটার পর কর্মী হাতে যা পান, সেটিই ধরা হবে। যেমন, মোট বেতন ৩৫ হাজার হলেও হাতে ৩০ হাজার টাকা এলে হিসাব হবে ৩০ হাজার ধরেই।

দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে নেট বেতনের সর্বোচ্চ ৩০ গুণ পর্যন্ত ক্রেডিট লিমিট রাখা হয়েছে।

  • ২০,০০০ টাকা বেতনে সর্বোচ্চ ৬ লক্ষ টাকা।
  • ৩০,০০০ টাকা বেতনে সর্বোচ্চ ৯ লক্ষ টাকা।
  • ৪০,০০০ টাকা বেতনে সর্বোচ্চ ১২ লক্ষ টাকা।
  • ৫০,০০০ টাকা বেতনে সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা।
  • ৬০,০০০ টাকা বেতনে সর্বোচ্চ ১৮ লক্ষ টাকা।

তবে এগুলি সর্বোচ্চ ঋণসীমা। পুরো টাকা পাওয়া নিশ্চিত নয়। কর্মীর আর্থিক অবস্থা ও ঝুঁকি যাচাই করে ব্যাঙ্ক বা NBFC চূড়ান্ত ঋণের অঙ্ক ঠিক করবে।

আরও পড়ুনঃ কালীপুজোর আগেই বড় সুখবর! SSC-র ইন্টারভিউ তালিকায় নাম উঠল ৩৮ হাজারের, কীভাবে দেখবেন?

স্বল্পমেয়াদি অগ্রিমে কত টাকা মিলবে?

যাঁদের অল্প সময়ের জন্য টাকা প্রয়োজন, তাঁরা নেট বেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম নিতে পারবেন।

  • ২০,০০০ টাকা বেতনে ১০,০০০ টাকা।
  • ৩০,০০০ টাকা বেতনে ১৫,০০০ টাকা।
  • ৪০,০০০ টাকা বেতনে ২০,০০০ টাকা।
  • ৫০,০০০ টাকা বেতনে ২৫,০০০ টাকা।
  • ৬০,০০০ টাকা বেতনে ৩০,০০০ টাকা।

এই টাকা একই মাসে অথবা পরবর্তী বেতন চক্রে, সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে ফেরত দিতে হবে। সময়মতো টাকা শোধ করলে কোনও সুদ, প্রসেসিং ফি বা প্ল্যাটফর্ম ফি লাগবে না। তবে দেরি হলে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ লেনদেন ফি নেওয়া হতে পারে। সরকারি দফতর বা DDO-র কারণে টাকা কাটতে দেরি হলে এই ফি দিতে হবে না।

EMI কত হবে, কত দিনে শোধ করতে হবে?

দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে সমস্ত ঋণদাতা মিলিয়ে মাসিক EMI নেট বেতনের ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। সেই হিসাবে ২০ হাজার টাকা বেতনে সর্বোচ্চ EMI ১০ হাজার, ৩০ হাজারে ১৫ হাজার, ৪০ হাজারে ২০ হাজার, ৫০ হাজারে ২৫ হাজার এবং ৬০ হাজার টাকা বেতনে ৩০ হাজার টাকা। ঋণ শোধের সময়সীমা ২ মাস থেকে সর্বোচ্চ ৬০ মাস বা ৫ বছর। তবে কর্মীর অবসরের তারিখ তার আগেই হলে সেই অনুযায়ী ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ঠিক হবে। নির্ধারিত সময়ের আগেই পুরো ঋণ শোধ করলে কোনও ফোরক্লোজার চার্জ দিতে হবে না।

দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুদের হার ও অন্যান্য চার্জ ঋণদাতা সংস্থাই ঠিক করবে। ঋণ দেওয়ার আগে KFS বা Key Fact Statement-এর মাধ্যমে সুদের হার, APR এবং অন্যান্য খরচ জানাতে হবে।

একই সময়ে দু’ধরনের অগ্রিম নেওয়া যাবে?

না। একজন কর্মীর নামে একই সময়ে একটি অগ্রিমই বকেয়া থাকতে পারবে। অর্থাৎ, দীর্ঘমেয়াদি ঋণ চললে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি অগ্রিম নেওয়া যাবে না। আবার স্বল্পমেয়াদি অগ্রিম বকেয়া থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পাওয়া যাবে না। আগের টাকা পুরো শোধ করার পরেই নতুন আবেদন করা যাবে। ঋণদাতা সংস্থা পরিবর্তন করতে হলে আগের ঋণ শোধের পর ৩০ দিনের কুলিং-অফ সময়সীমা মানতে হবে।

কীভাবে অ্যাকাউন্টে আসবে টাকা?

আবেদনের জন্য কর্মীর ডিজিটাল সম্মতি এবং KYC যাচাই বাধ্যতামূলক। অনুমোদন পাওয়ার পর টাকা সরাসরি কর্মীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। পরবর্তী বেতন চক্র থেকে WBIFMS-এর মাধ্যমে EMI কেটে নেওয়া হবে। অর্থাৎ, এই প্রকল্পে স্বল্পমেয়াদি অগ্রিমের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ঋণেরও সুযোগ রয়েছে। তবে ৩০ গুণ বেতনের অঙ্ক নিশ্চিত ঋণ নয়। কত টাকা অনুমোদন হবে, সুদ কত লাগবে এবং EMI কত দাঁড়াবে, তা ঋণদাতা সংস্থার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। তাই আবেদনের আগে KFS-এ দেওয়া সমস্ত শর্ত দেখে নেওয়া জরুরি (West Bengal Government)।

 

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker