দীপাবলির বাণিজ্যিকরণ নয়! সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে দেশ জুড়ে ক্ষোভের জুড়ে

নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও নির্দেশনা নিয়ে সাধারণ (Supreme Court)মানুষের মধ্যে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। দীপাবলির মত প্রাচীন উৎসবকে বাণিজ্যিকীকরণের বাইরে রাখার কথা বলা হয়েছে…
নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও নির্দেশনা নিয়ে সাধারণ (Supreme Court)মানুষের মধ্যে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। দীপাবলির মত প্রাচীন উৎসবকে বাণিজ্যিকীকরণের বাইরে রাখার কথা বলা হয়েছে আদালতের পক্ষ থেকে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, বিচারপতিরা নিজেরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন, প্রিমিয়াম গাড়ি ব্যবহার করেন, কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষকে কেন উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে?
দীপাবলি শুধু একটি উৎসব নয়। এটি আলোর উৎসব, পরিবারের মিলনমেলা, আনন্দ ও আশার প্রতীক। বছরভর কষ্ট করে থাকা সাধারণ মানুষ এই কয়েকদিনের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। বাচ্চারা পটকা ফাটিয়ে আনন্দ করে, পরিবার একসঙ্গে মিষ্টি বিতরণ করে, ঘর সাজায়।
আরও দেখুনঃ দেশ জুড়ে নারী নির্যাতনে জড়িত ১৮৭ বিধায়ক-সাংসদ! সমীক্ষায় উঠল চাঞ্চল্যকর তথ্য
কিন্তু আদালতের নির্দেশনায় পটকা ফোটানোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া, গ্রিন ক্র্যাকারের শর্ত আরোপ করা এবং বাণিজ্যিক দিককে গৌণ করার কথা বলা হচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, এতে উৎসবের মূল আনন্দই ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
সমালোচকরা বলছেন, বিচারপতিদের জীবনযাত্রা সাধারণ মানুষের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।(Supreme Court) তাঁদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সরকারি গাড়ি, বড় বাংলো সবকিছুই প্রদত্ত। তাঁদের সন্তানরা বিদেশে পড়াশোনা করে, তাঁদের পরিবার বিলাসবহুল পরিবেশে থাকে। অথচ সাধারণ মানুষকে বলা হচ্ছে উৎসব সংযতভাবে পালন করতে। কারপুলিং বা পরিবেশ রক্ষার উপদেশ যাঁরা দেন, তাঁরা নিজেরাই কি সেই উপদেশ মানেন? এই প্রশ্ন অনেকের মুখে ঘুরছে।
পরিবেশ দূষণ নিয়ে উদ্বেগ অবশ্যই জরুরি। দিল্লি-এনসিআর-এর বায়ুদূষণের সমস্যা কারও অজানা নয়। কিন্তু শুধু দিওয়ালির পটকাকে দায়ী করে সাধারণ মানুষের উৎসবকে নিয়ন্ত্রণ করা কতটা ন্যায্য? সারা বছর ধরে চলতে থাকা নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পদূষণের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি? অনেকেই মনে করেন, উৎসবের সময় সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা সহজ, কিন্তু মূল সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ কম।
আদালত বলেছে, বাণিজ্যিক স্বার্থ ও উৎসবের আনন্দ পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের কাছে গৌণ হওয়া উচিত। এই কথার পিছনে যুক্তি থাকলেও সাধারণ মানুষের কাছে এটি অনেকটা উপদেশের মতো শোনায়। যাঁরা নিজেরা সুবিধাভোগী অবস্থানে আছেন, তাঁদের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে ত্যাগের কথা বলা অনেকের কাছে দ্বিচারিতা বলে মনে হচ্ছে। উৎসব মানেই আনন্দ। সেই আনন্দকে নিয়ন্ত্রণ করার নামে যদি মানুষের অনুভূতিকে আঘাত করা হয়, তাহলে তা সামাজিক অসন্তোষ বাড়ায়।
দীপাবলি ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলে আসা এই উৎসবকে শুধু দূষণের অজুহাতে সীমিত করা অনেকের কাছে অগ্রহণযোগ্য। (Supreme Court)পরিবেশ রক্ষা জরুরি, কিন্তু তার জন্য সাধারণ মানুষের আনন্দকে বলি দেওয়া উচিত নয়। বরং দূষণের মূল উৎসগুলো চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। শিল্প, যানবাহন ও নির্মাণ খাতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা গেলে দিওয়ালির মতো উৎসব আরও নিরাপদভাবে পালন করা সম্ভব।
সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মূল কথা হল উপদেশ দেওয়ার আগে নিজেদের জীবনযাত্রার দিকে তাকানো উচিত। সুবিধাভোগী অবস্থান থেকে সাধারণ মানুষকে ত্যাগের কথা বলা সহজ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ মানুষের কাছে দিওয়ালি বছরের সবচেয়ে বড় আনন্দের মুহূর্ত। সেই আনন্দকে বাণিজ্যিকীকরণের অজুহাতে বা পরিবেশের নামে খর্ব করা হলে তা সামাজিক বিভাজন আরও বাড়াবে।



