নির্বাচনে আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটার হিসাবে ঐতিহাসিক জয়! আব্দুলের সাফল্যের উচ্ছ্বাস পৌঁছল কর্নাটকেও

সবদিক নিউজ:আমেরিকার (America) রাজনীতিতে ঐতিহাসিক সাফল্য ঘিরে হাজার হাজার মাইল দূরে ভারতের (India) কর্নাটকের ভাটকলেও এখন উৎসবের আবহ। ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল এল-সায়েদের (Abdul El-Sayed) জয়কে ঘিরে উচ্ছ্বসিত তাঁর আত্মীয়-পরিজনেরা। বিশেষ করে তাঁর স্ত্রী ডঃ সারা জুকাকুর পৈতৃক শহর ভাটকলের পরিবারের কাছে এই সাফল্য অত্যন্ত আবেগের। তাঁদের কাছে বিষয়টি শুধুমাত্র আমেরিকার রাজনৈতিক জয় নয়, বরং পরিবারের একজন সদস্যের আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্য অর্জনের গর্বের মুহূর্ত। ভোটের ফলাফল প্রকাশের সময় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যথেষ্ট উদ্বেগ ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত জয়ের খবর আসতেই আনন্দে মেতে ওঠেন সকলে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আত্মীয়দের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলিতে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বার্তা উপচে পড়ছে।
আমেরিকায় প্রথম মুসলিম সেনেটার হিসাবে আব্দুলের (Abdul El-Sayed) সাফল্যের উচ্ছ্বাস পৌঁছল কর্নাটকেও
আবদুল এল-সায়েদের (Abdul El-Sayed) এই সাফল্যকে ইসলামবিদ্বেষ এবং বিদ্বেষমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ জয় হিসেবেই দেখছেন ভাটকলের আত্মীয়রা। সারার আত্মীয় জুকাকু শামসুদ্দিন জিয়া এবং বিবি হুসনা জানিয়েছেন, আবদুলের এই রাজনৈতিক সাফল্যে তাঁরা অত্যন্ত গর্বিত। তাঁদের কথায়, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের আদর্শ ও রাজনৈতিক অবস্থানে অবিচল থেকে এই জায়গায় পৌঁছনো সহজ নয়। বিশেষ করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ওঠা সমালোচনা এবং বিদ্বেষের রাজনীতির আবহে এই সাফল্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ। পরিবারের সদস্যদের মতে, আবদুলের জয় শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং সমাজে সমান অধিকার ও গ্রহণযোগ্যতার বার্তাও বহন করছে। তাই আমেরিকা থেকে বহু দূরে থাকলেও এই আনন্দের মুহূর্তে নিজেদের আবেগ ধরে রাখতে পারছেন না ভাটকলের আত্মীয়রা।
‘রাজ্যের সনাতনীরা রিজেক্ট করেছে..’ হুমায়ুনকে সতর্ক করলেন বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ
আবদুলের সঙ্গে ভাটকলের সম্পর্ক অবশ্য আজকের নয়। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সারার বাবা ডঃ সায়েদ সন্তানদের নিজেদের পারিবারিক শিকড় ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত রাখতে নিয়মিত তাঁদের ভাটকলে নিয়ে আসতেন। এক দশকেরও বেশি সময় আগে এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভাটকলে এসেছিলেন আবদুলও। সেখানে তিন-চার দিন কাটিয়েছিলেন তিনি। সেই সময়ের স্মৃতি এখনও ভুলতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের বক্তব্য, এত বড় মাপের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়ার পরেও আবদুলের মধ্যে কোনও অহংকার ছিল না। বরং তাঁর ব্যবহার ছিল অত্যন্ত নম্র, মার্জিত ও আন্তরিক। আত্মীয়দের সঙ্গে সহজেই মিশে যেতেন তিনি। ভাটকলের বিখ্যাত বিরিয়ানি এবং স্থানীয় খাবারের প্রতিও তাঁর বিশেষ আকর্ষণ ছিল। বিশেষ করে স্থানীয় ‘লোনমিরি’ লঙ্কা বাটার স্বাদ তাঁর বেশ পছন্দ হয়েছিল বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
আবদুলের ব্যক্তিত্বের মধ্যে পারিবারিক মূল্যবোধের প্রভাবও দেখতে পাচ্ছেন তাঁর আত্মীয়রা। জুকাকু শামসুদ্দিন জিয়া এই প্রসঙ্গে তাঁর দাদু মরহুম জে এইচ শামসুদ্দিনের কথা স্মরণ করেছেন। একসময় তৎকালীন মহীশূর রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন তিনি। জিয়ার মতে, তাঁর দাদুর সততা, নীতিবোধ এবং মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতার সঙ্গে আবদুলের চিন্তাভাবনার অনেক মিল রয়েছে। ক্ষমতার চেয়ে জনসেবাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়ার যে মানসিকতা আবদুলের মধ্যে রয়েছে, তার মধ্যে পরিবারের পুরনো আদর্শের প্রতিফলন দেখতে পান তাঁরা। সেই কারণেই তাঁর রাজনৈতিক সাফল্যকে শুধু নির্বাচনী জয় হিসেবে দেখছেন না পরিবারের সদস্যরা। বরং তাঁদের কাছে এটি কয়েক প্রজন্ম ধরে বয়ে চলা মূল্যবোধ ও আদর্শেরও এক ধরনের স্বীকৃতি।
কালীপুজোর আগেই বড় সুখবর! SSC-র ইন্টারভিউ তালিকায় নাম উঠল ৩৮ হাজারের, কীভাবে দেখবেন?
ভাটকলের পরিবারের সদস্যদের মতে, আবদুল এল-সায়েদের (Abdul El-Sayed) রাজনৈতিক বার্তা কোনও নির্দিষ্ট দেশ বা ভূখণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিদ্বেষের রাজনীতির বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছেই অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। পরিবারের আশা, রাজনৈতিক জীবনের আগামী দিনগুলিতেও তিনি নিজের আদর্শ বজায় রাখবেন এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করবেন। একসময় যে মানুষটি আত্মীয়ের বিয়েতে যোগ দিতে ভাটকলের বাড়িতে এসেছিলেন, তাঁর সাফল্যের খবর আজ পৌঁছে গিয়েছে আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে। তাই আবদুলের জয়কে ঘিরে ভাটকলের পরিবারে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে এক বিশেষ আবেগও। নিজেদের শহরের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক যোগসূত্র যে আজ আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনায় উঠে এসেছে, তাতেই গর্বিত তাঁরা।



