অমৃতসর থেকে নিউ জলপাইগুড়ি চলন্ত কর্মভূমি এক্সপ্রেসে ভয়াবহ আগুন

পঞ্জাব: চলন্ত ট্রেনের কামরা থেকে আচমকাই বেরিয়ে আসছে ঘন কালো ধোঁয়া(Karmabhoomi Express)। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল যাত্রীদের মধ্যে। প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে ট্রেন থেকে…
পঞ্জাব: চলন্ত ট্রেনের কামরা থেকে আচমকাই বেরিয়ে আসছে ঘন কালো ধোঁয়া(Karmabhoomi Express)। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল যাত্রীদের মধ্যে। প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে ট্রেন থেকে নেমে আসছেন যাত্রীরা। উৎসবের মরসুমে এমনই ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী থাকল পঞ্জাবের পাতিয়ালা। কর্মভূমি এক্সপ্রেসের চারটি কামরায় আগুন লাগার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
শুক্রবার এই অগ্নিকাণ্ডের খবর সামনে আসতেই রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। ট্রেনের কামরা থেকে আকাশের দিকে উঠে যাওয়া কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখে পরিস্থিতির ভয়াবহতা সহজেই অনুমান করা যায়।
আরও দেখুনঃ ধ*র্ষ*ণ ও পকসো মামলায় দ্রুত বিচার! ২০৩১ পর্যন্ত বাড়ল বিশেষ আদালতের মেয়াদ!
প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পঞ্জাবের পাতিয়ালা জেলার রাজপুরা এলাকার কাছে সরাই বাঞ্জারা গ্রামের আশপাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সেই সময় কর্মভূমি এক্সপ্রেস চলন্ত অবস্থায় ছিল। ট্রেনটি রাজপুরা এলাকায় পৌঁছনোর পরই কয়েকটি কামরা থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে ট্রেনের চারটি কামরায়। কামরার ভিতরে থাকা যাত্রীরা প্রথমে ধোঁয়া দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এরপর আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত ট্রেন থেকে নেমে আসেন তাঁরা।
চলন্ত ট্রেনে আগুন লাগার মতো ঘটনা যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, এই দুর্ঘটনা ফের তা সামনে এনে দিয়েছে। বিশেষ করে ট্রেনের কামরার ভিতরে যখন বহু যাত্রী একসঙ্গে যাতায়াত করেন, তখন আগুন বা ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে। এই ঘটনায়ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তড়িঘড়ি নিজেদের ব্যাগপত্র ফেলে ট্রেন থেকে নেমে নিরাপদ দূরত্বে চলে যান। দূর থেকে দেখা যায়, একাধিক কামরা থেকে ঘন ধোঁয়া বেরিয়ে আসছে।
ঘটনার বেশ কিছু ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। সেই ভিডিয়োগুলিতে দেখা যাচ্ছে, ট্রেনের কামরাগুলি থেকে অনবরত কালো ধোঁয়া বেরিয়ে আসছে। আগুনের খবর পেয়ে যাত্রীরা কামরা ছেড়ে বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। গোটা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে এই দৃশ্য ছিল যথেষ্ট ভয়াবহ। বিশেষ করে ট্রেনের মধ্যে থাকা যাত্রীদের কাছে কয়েকটি মুহূর্ত রীতিমতো উদ্বেগের হয়ে উঠেছিল। আচমকা এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অনেকেই বুঝে উঠতে পারছিলেন না, কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন।
সংবাদমাধ্যম এবিপি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজপুরার কাছে সরাই বাঞ্জারা গ্রামের আশপাশে এই ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে, টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনেও কর্মভূমি এক্সপ্রেসের চারটি কামরায় আগুন লাগার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ঠিক কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ট্রেনের কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল, নাকি অন্য কোনও কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। রেলের তরফে তদন্তের মাধ্যমে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
এই ঘটনায় কতজন যাত্রী আহত হয়েছেন, কিংবা কারও মৃত্যু হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলিতে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আগুনে চারটি কামরার কতটা ক্ষতি হয়েছে, সেটাও এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে দুর্ঘটনার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে আরও তথ্যের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং তাঁদের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উৎসবের মরসুমে বহু মানুষ ট্রেনে করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করেন। কর্মভূমি এক্সপ্রেসের মতো দূরপাল্লার ট্রেনেও প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী সফর করেন। ফলে চলন্ত ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনা রেলযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রেনের কামরায় আগুন লাগলে দ্রুত সতর্কবার্তা দেওয়া, যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য অসতর্কতাও এমন পরিস্থিতিতে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।



