পাকিস্তানে তিতিবিরক্ত অধিকৃত কাশ্মীরিরা! ‘এ যেন গাজা’, বিস্ফোরক পিওকের বাসিন্দারা

জ্বলছে পাক অধিকৃত কাশ্মীর। আর এই পরিস্থিতিকে গাজার সঙ্গে তুলনা করছেন সেখানকার বাসিন্দারা। পাশাপাশি পাক সেনার সঙ্গে আইডিএফ তথা ইজরায়েলের সেনার তুলনাও করছেন তাঁরা। বলছেন, পিওকে যেন প্যালেস্টাইন!
বৃহস্পতিবার পাক অধিকৃত কাশ্মীরে হামলা চালায় পাক সেনা। মৃত্যু হয় অন্তত সাতজনের। আহতের সংখ্যা ২৩। পাক ও কাশ্মীরি সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষ যাঁরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছিলেন রাওয়ালপিন্ডিতে, তাঁদের উপরে নির্বিবাদে গুলি চালিয়েছে পাক সেনা। মৃতের সংখ্যা, কোনও কোনও পাক সাংবাদিকের মতে ১২-ও হতে পারে!
ইজরায়েলে গাজা উপত্যকায় আইডিএফের হামলা ঘিরে তোলপাড় হয়েছিল বিশ্ব। এখনও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। ইজরায়েলি সেনার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে হামাস জঙ্গিদের খুঁজতে হাসপাতালে পর্যন্ত হামলা হয়েছে। সেই ঘটনায় যেভাবে সাধারণ মানুষের জীবন বিপণ্ণ হয়েছে তা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে গোটা বিশ্বে। এবার পিওকে-তে পাক সেনার হামলাকে সেই ঘটনার সঙ্গেই তুলনা করছেন বিক্ষুব্ধ কাশ্মীরিরা।
গত ৫ নভেম্বর পাকিস্তানি রেঞ্জার্স, ফ্রন্টিয়ার কোর সদস্য এবং পুলিশের চালানো একটি অভিযানের পরই এমন তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ওই অভিযানে ‘জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি)-এর দখলে থাকা প্রতিবাদস্থলগুলো খালি করে দেওয়া হয়। পাকিস্তানে নিষিদ্ধ এই সংগঠনটি জুন মাস থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। তারা মৌলিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের দাবি জানানোর পাশাপাশি ৩৮ দফা সনদ বাস্তবায়নের দাবি করছে— যা ১৯৪৭ সাল থেকে পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা এই অঞ্চলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
একটি ভিডিওতে জেএএসি নেতা সরদার উমর নাজির কিছু ধ্বংসাবশেষ দেখান, যা তাঁর ভাষ্যমতে আবাসিক এলাকায় ড্রোন হামলার পর উদ্ধার করা বোমার টুকরো। তিনি দাবি করেন যে, ড্রোনগুলো বিভিন্ন দিক থেকে প্রতিবাদ শিবিরগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে। এছাড়া, পাকিস্তানের দমন-পীড়ন তীব্রতর হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের রাওয়ালাকোটে চলে আসার আহ্বান জানান।
শেয়ার
লিংক



