৯০৪ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে কিশোর বিয়ানির বিরুদ্ধে সিবিআই মামলা

নয়াদিল্লি: প্রায় ৯০৪.৩২ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতির অভিযোগে Future Retail Limited এবং সংস্থার প্রোমোটার কিশোর লক্ষ্মীনারায়ণ বিয়ানি (Kishore Biyani) ও রাকেশ গোপীকিষণ বিয়ানির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI। State Bank of India (SBI)-এর অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় সরকারি কর্মী এবং আরও কয়েকজনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার মুম্বইয়ে সংস্থার প্রোমোটার ও ডিরেক্টরদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় CBI। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তল্লাশিতে তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু নথি উদ্ধার করে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
CBI-এর FIR অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৪ নভেম্বর মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। তার আগে ৯ অক্টোবর SBI এই অভিযোগ দায়ের করেছিল। ব্যাঙ্কের দাবি, Future Retail এবং সংস্থার প্রোমোটাররা বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে পাওয়া ঋণ ও ক্রেডিট সুবিধার অপব্যবহার করেছেন। ঋণের উল্লেখযোগ্য অংশ অন্য সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে SBI-এর আনুমানিক ৯০৪.৩২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ।
একাধিক সংস্থার মাধ্যমে অর্থ সরানোর অভিযোগ
SBI-এর অভিযোগ অনুযায়ী, Future Retail-এর ডিরেক্টররা ঋণ হিসেবে পাওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং অন্যান্য সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করেছিলেন। এই সংস্থাগুলির কয়েকটির আর্থিক সক্ষমতা এবং প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যকলাপের সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণের সামঞ্জস্য ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে।
CBI এখন তদন্ত করে দেখছে, ঋণের টাকা কোন কোন অ্যাকাউন্টে গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির ভূমিকা কী ছিল এবং এই অর্থ স্থানান্তরের পিছনে কোনও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল কি না। পাশাপাশি সরকারি কর্মী বা অন্য কোনও ব্যক্তির যোগসাজশ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রতারণা এবং Prevention of Corruption Act-এর আওতায় অপরাধের অভিযোগ তদন্ত করছে CBI।
ফরেনসিক অডিটে উঠে এসেছে একাধিক আর্থিক অনিয়ম
SBI-এর অভিযোগের অন্যতম ভিত্তি ২০২৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর BDO India LLP-র করা একটি ফরেনসিক অডিট। ২০১৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের আর্থিক লেনদেন ও হিসাবপত্র পরীক্ষা করা হয়েছিল এই অডিটে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অডিট রিপোর্টে সংস্থার আর্থিক নথিতে একাধিক অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে হিসাবের নথিতে অসঙ্গতি, অ্যাকাউন্টে কারসাজি, একাধিক সংস্থার স্তর ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেন পরিচালনা এবং সংস্থার প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি আড়াল করার চেষ্টা।
SBI-এর মুম্বইয়ের Commercial Branch থেকে Future Retail-কে ঋণ ও অন্যান্য ক্রেডিট সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়াও সংস্থাটি মোট ন’টি ব্যাঙ্কের কনসোর্টিয়ামের কাছ থেকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল-সহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা নিয়েছিল।
তদন্তকারীরা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছেন, ঋণের টাকা কীভাবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কাছে পৌঁছেছিল এবং সেই অর্থের প্রকৃত ব্যবহার কী হয়েছিল।
২০২১ সালে NPA, ২০২৫ সালে জালিয়াতির তকমা
ঋণের কিস্তি ও অন্যান্য আর্থিক দায় মেটাতে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল Future Retail-এর অ্যাকাউন্টকে Non-Performing Asset (NPA) হিসেবে চিহ্নিত করে SBI।
পরবর্তী সময়ে ফরেনসিক অডিটের রিপোর্টের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ অ্যাকাউন্টটিকে Fraud Account হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে ব্যাঙ্ক। এরপর ২০২৬ সালের অক্টোবরে SBI-এর অভিযোগের ভিত্তিতে CBI-তে মামলা দায়ের হয়।
এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য ঋণের অর্থের গতিপথ চিহ্নিত করা, টাকা পাওয়া সংস্থাগুলির ভূমিকা নির্ধারণ করা এবং প্রোমোটার, ডিরেক্টর-সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা।
একসময় দেশের বড় রিটেল সংস্থাগুলির অন্যতম ছিল Future Retail
Future Retail Limited একসময় ভারতের সংগঠিত খুচরো বিপণন ক্ষেত্রের অন্যতম বড় সংস্থা ছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংস্থাটির বিস্তৃত স্টোর নেটওয়ার্ক ছিল। Big Bazaar, Fashion at Big Bazaar, Foodhall এবং Hypercity-র মতো পরিচিত ব্র্যান্ড ছিল তাদের রিটেল পোর্টফোলিওতে।
হাইপারমার্কেট, সুপারমার্কেট এবং গৃহস্থালির পণ্যের বিপণনের পাশাপাশি FMCG ও ফ্যাশন পণ্যের ব্যবসাতেও যুক্ত ছিল সংস্থাটি।
আর্থিক সমস্যার জেরে Future Retail-এর ব্যবসায় বড় ধাক্কা লাগে। এবার ঋণের টাকা অন্য সংস্থায় সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে CBI। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কিশোর বিয়ানি, রাকেশ বিয়ানি বা অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business



