0%

বিছানায় শুয়েই ১০ লক্ষ টাকা! মুম্বইয়ের জিনিয়ার ভাগ্যে জুটল বিদেশভ্রমণও

নয়াদিল্লি: টানা আট ঘণ্টা ঘুমিয়ে সাধারণত সকালে শরীর ও মন সতেজ হয়। কিন্তু মুম্বইয়ের বাসিন্দা জিনিয়া চট্টোপাধ্যায়ের (Zinnia Chatterjee) ক্ষেত্রে ঘুমই এনে দিল প্রায় ১০…

নয়াদিল্লি: টানা আট ঘণ্টা ঘুমিয়ে সাধারণত সকালে শরীর ও মন সতেজ হয়। কিন্তু মুম্বইয়ের বাসিন্দা জিনিয়া চট্টোপাধ্যায়ের (Zinnia Chatterjee) ক্ষেত্রে ঘুমই এনে দিল প্রায় ১০ লক্ষ টাকার পুরস্কার। Wakefit-এর ‘Sleep Internship’-এর পঞ্চম সংস্করণে প্রথম স্থান অধিকার করে তিনি পেয়েছেন ৯.৬ লক্ষ টাকা এবং সম্পূর্ণ খরচ বহন করে একটি ছুটির ভ্রমণের সুযোগ। শুনতে সহজ মনে হলেও, এই প্রতিযোগিতায় শুধু বিছানায় শুয়ে ঘুমোলেই চলত না। প্রতিদিনের ঘুমের হিসাব রাখা থেকে শুরু করে নানা মজার চ্যালেঞ্জেও অংশ নিতে হয়েছে প্রতিযোগীদের।

২ লক্ষ আবেদনকারীর মধ্যে বাছাই ১০ জন

ম্যাট্রেস ও ফার্নিচার সংস্থা Wakefit-এর এই বিশেষ উদ্যোগে সারা দেশ থেকে আবেদন জমা পড়েছিল ২ লক্ষেরও বেশি। সেখান থেকে বেছে নেওয়া হয় ১০ জন চূড়ান্ত প্রতিযোগীকে। তাঁদের জন্য ছিল দু’মাসের একটি বিশেষ কর্মসূচি।

প্রতিযোগীদের নিয়মিত রাতে ঘুমানোর অভ্যাস বজায় রাখতে হত। প্রতিদিনের ঘুমের তথ্য নথিভুক্ত করার পাশাপাশি কতটা গভীর ও ভালো ঘুম হচ্ছে, তার স্কোরও নজরে রাখা হত। ৬০ দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে ভালো স্কোর বজায় রাখাই ছিল অন্যতম লক্ষ্য।

তবে প্রতিযোগিতাটি শুধু ঘুমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রতি সপ্তাহে থাকত বেশ কিছু অভিনব মিনি-গেম। ‘Sleep Cinema’ নামে একটি পর্বে জনপ্রিয় সিনেমার দৃশ্য ঘুমের বিষয়বস্তু যোগ করে অভিনয় করতে হত। ‘Sleep Bingo’-তে সপ্তাহের বিভিন্ন অভ্যাসের হিসাব রাখতে হত প্রতিযোগীদের।

আবার ‘Undercover Sleep Mission’-এ ছিল আরও মজার পরীক্ষা। দৈনন্দিন কথাবার্তার মধ্যে কাউকে সন্দেহ করতে না দিয়ে ‘blanket’ অথবা ‘pillow’ শব্দ দুটি ১০ বার ব্যবহার করতে হত। এই ধরনের সাপ্তাহিক সৃজনশীল চ্যালেঞ্জে যাঁরা ভালো ফল করতেন, তাঁদের দেওয়া হত ‘Pro Sleeper of the Week’ খেতাব।

ফাইনালে রিয়্যালিটি শোয়ের আদলে ‘Big Bedd’

দু’মাসের প্রতিযোগিতা শেষে সেরা তিন প্রতিযোগী হিসেবে উঠে আসেন রত্নগিরির মণিকন্দন, মুম্বইয়ের জিনিয়া চট্টোপাধ্যায় এবং মেহেক খোট। সাপ্তাহিক সৃজনশীল চ্যালেঞ্জে সবচেয়ে বেশি জয় পাওয়ায় হায়দরাবাদের করিম খান ওয়াইল্ড কার্ডের মাধ্যমে ফাইনালে জায়গা করে নেন।

চার প্রতিযোগীকে নিয়ে আয়োজন করা হয় শেষ পর্ব। ‘Big Bedd’ নামে রিয়্যালিটি শোয়ের আদলে সাজানো হয়েছিল এই ফাইনাল। সেখানে প্রতিযোগীদের সামনে রাখা হয় একাধিক তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ। এরপর শেষবারের মতো তাঁদের ঘুমের স্কোর পর্যবেক্ষণ করা হয়।

‘Memory Foam Challenge’-এ প্রতিযোগীদের কয়েকটি ঘরের ছবি দেখানো হয়। সেগুলি দেখে স্মৃতি থেকে একই রকম শোবার ঘরের বিন্যাস তৈরি করতে হত। অর্থাৎ ঘুমের পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি ও পর্যবেক্ষণ ক্ষমতারও পরীক্ষা নেওয়া হয়।

বালিশ, কম্বল নিয়ে নিলামেও অংশগ্রহণ

এরপর ছিল ‘Sleep Auction’। এই পর্বে প্রতিযোগীদের শোবার ঘরের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসের জন্য দর হাঁকতে হয়। তালিকায় ছিল এসির নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ ধরনের আলো, White Noise সেটিংস, বালিশ এবং কম্বল। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক অনুজ গুপ্তার Rap Lullaby-র সঙ্গেও চলেছিল এই পর্ব।

প্রতিযোগীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ঘরের ব্যবস্থা চূড়ান্ত করার পর চারজনই শেষ রাতটি কাটান বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মধ্যে। সেই রাতের ঘুমের স্কোর এবং গোটা প্রতিযোগিতায় তাঁদের ধারাবাহিকতা, দুইয়ের ভিত্তিতে চূড়ান্ত ফল নির্ধারিত হয়।

শেষ পর্যন্ত জিনিয়া চট্টোপাধ্যায়ই সবার চেয়ে এগিয়ে থেকে প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতে নেন। পুরস্কার হিসেবে তাঁর হাতে আসে ৯.৬ লক্ষ টাকা এবং সম্পূর্ণ খরচ বহন করে ছুটি কাটানোর সুযোগ।

২০১৯ সাল থেকে চলছে Sleep Internship

Wakefit ২০১৯ সালে এই Sleep Internship কর্মসূচি শুরু করে। সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম চারটি সংস্করণ মিলিয়ে এই উদ্যোগে আবেদনকারীর সংখ্যা ১০ লক্ষ ছাড়িয়েছে। আগের চারটি পর্বে ৬৫ জন ইন্টার্নকে ১ লক্ষ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়েছিল। তবে পঞ্চম সংস্করণে পুরস্কারের অঙ্ক এক ধাক্কায় বেড়ে হয়েছে ৯.৬ লক্ষ টাকা।

ঘুমকে কেন্দ্র করে তৈরি এই অভিনব প্রতিযোগিতা তাই শুধু মজার অভিজ্ঞতাই নয়, বরং নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস ও ঘুমের মানের গুরুত্ব তুলে ধরার একটি প্রচারমূলক উদ্যোগ হিসেবেও নজর কেড়েছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker