0%

আমেরিকা নয়, চলুন ঘুরে আসি ভারতের ‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে’

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বাঙালি আর ভ্রমণ যেন একে অপরের পরিপূরক। হাতে কয়েক দিনের ছুটি পেলেই মন উড়ু উড়ু করে, মনে হয় কোথাও একটা ঘুরে আসলে ভাল হত। কখনও পাহাড়ের হাতছানি, কখনও সমুদ্রের টান, আবার কখনও ইতিহাসের অলিগলি ঘুরে দেখার ইচ্ছে। তবে চেনা পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে একটু অন্য রকম অভিজ্ঞতা খুঁজলে ঘুরে আসতে পারেন অন্ধ্রপ্রদেশের গান্ডিকোটা থেকে। প্রকৃতির এমন এক বিস্ময়, যার সৌন্দর্য মনে করিয়ে দেবে আমেরিকার বিখ্যাত গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের কথা। তাই অনেকেই একে ভারতের ‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’ বলে থাকেন।

অন্ধ্রপ্রদেশের ওয়াইএসআর কডপা জেলায় অবস্থিত গান্ডিকোটা। পেন্নার নদীর দীর্ঘদিনের প্রবাহে তৈরি হয়েছে এখানকার গভীর গিরিখাত। লালচে পাথুরে পাহাড়, খাড়া পাহাড়ি দেওয়াল আর নীচে বয়ে চলা নদী, সব মিলিয়ে জায়গাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। জানুয়ারি মাস গান্ডিকোটা ভ্রমণের জন্য বেশ উপযোগী। শীতের মনোরম আবহাওয়ায় দুর্গ, মন্দির, নদী ও গিরিখাত ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা হবে অন্য রকম।

কীভাবে পৌঁছবেন গান্ডিকোটায়?

কলকাতা থেকে ট্রেনে অন্ধ্রপ্রদেশে পৌঁছনোই সবচেয়ে সুবিধাজনক। হাওড়া থেকে রেণিগুন্টা হয়ে ইয়রাগুন্টলা যাওয়ার ট্রেন ধরতে হবে। ইয়রাগুন্টলা থেকে গান্ডিকোটার দূরত্ব প্রায় ৪৭ কিলোমিটার। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে পৌঁছনো যাবে গন্তব্যে। বিকল্প হিসেবে শালিমার থেকে মার্কাপুর রোড পর্যন্ত কোনও ট্রেন থাকলে   তার সময়সূচীও দেখে নিতে পারেন। 

আরও পড়ুনঃ সাবধান! ভুল টুথপেস্ট আর এই খাবারগুলির জন্যই হতে পারে দাঁতের ক্ষতি

কোথায় থাকবেন?

গান্ডিকোটায় থাকার জন্য রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ পর্যটন দফতরের এপিটিডিসি হরিথা রিসর্ট। এ ছাড়াও গান্ডিকোটা তেজা রিসর্ট এবং বালাজি টুরিস্ট স্পট ক্যাম্পিংয়ের মতো থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তুলনামূলক বেশি হোটেলের সন্ধান পেতে পারেন কাছের জম্মালামাডুগু শহরে। সেখানে রয়্যাল প্যালেস রেসিডেন্সি ও নন্দকম রেসিডেন্সির মতো থাকার জায়গা রয়েছে। জানুয়ারি মাসে পর্যটকের ভিড় থাকতে পারে, তাই আগে থেকে হোটেল বুক করে রাখাই ভাল।

গান্ডিকোটায় কী কী দেখবেন?

গান্ডিকোটার প্রধান আকর্ষণ এখানকার প্রাচীন দুর্গ। ইতিহাসের সাক্ষী এই দুর্গের স্থাপত্য এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ পাথুরে প্রান্তর পর্যটকদের মুগ্ধ করে। দুর্গের ভিতরে রয়েছে মাধবরায় মন্দির, রঘুনাথ স্বামী মন্দির এবং জামা মসজিদ। পাশাপাশি দেখা যায় প্রাচীন শস্যাগার ও ছোট চারমিনারের মতো স্থাপত্য।

তবে এখানকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ পেন্নার নদীর গিরিখাত। পাহাড়ের উপর থেকে নীচে নদীর আঁকাবাঁকা গতিপথ এবং দু’পাশের বিশাল পাথুরে দেওয়াল দেখার অভিজ্ঞতা মনে রাখার মতো। বিশেষ করে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ে এখানকার দৃশ্য আরও মনোরম হয়ে ওঠে। তবে ছবি তুলতে গিয়ে পাহাড়ের কিনারার কাছে অসতর্ক হওয়া চলবে না।

গান্ডিকোটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ইতিহাস ঘুরে দেখার পর যাত্রার পরবর্তী গন্তব্য হতে পারে বেলুম গুহা। মাটির গভীরে লুকিয়ে থাকা এই গুহার রহস্যময় জগৎ দেখতে কেমন? সেই অভিজ্ঞতার কথাই থাকছে এই মুহূর্তের ভ্রমণপর্বের দ্বিতীয় ভাগে। 

 

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker