ওড়িশায় আইটিআই অধ্যক্ষের ফ্ল্যাটে তল্লাশি, উদ্ধার অতিরিক্ত ৫.১৬ লক্ষ টাকা

ভুবনেশ্বর, ৭ নভেম্বর : ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ধৃত সরকারি আইটিআইয়ের অধ্যক্ষ সুরেশ কুমার দালাবেহেরার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে আরও ৫.১৬ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করল ওড়িশা ভিজিল্যান্স দপ্তর। শনিবার রাউরকেলায় তাঁর আবাসিক ফ্ল্যাটে তল্লাশির সময় এই টাকা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
উল্লেখ্য, অতিথি প্রশিক্ষকদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে এর আগে তাঁকে হাতেনাতে ধরে ভিজিল্যান্সের একটি দল। অভিযোগ, তাঁদের চাকরির মেয়াদ অব্যাহত রাখা এবং নিয়মিত বেতন প্রদানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার বিনিময়ে ওই টাকা দাবি করেছিলেন তিনি।
ঘটনার পর অভিযুক্তের সঙ্গে যুক্ত একাধিক জায়গায় তল্লাশি শুরু করেন ভিজিল্যান্স আধিকারিকরা। সেই তল্লাশির ধারাবাহিকতায় রাউরকেলায় তাঁর আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে অতিরিক্ত ৫.১৬ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়। এখনও তল্লাশি ও তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় আরও তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন।
এদিকে, দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখে শুক্রবার আরও এক সরকারি আধিকারিককে ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে ওড়িশা ভিজিল্যান্স। ধৃতের নাম মানিশা মিশ্র। তিনি বালেশ্বর জেলার বালিয়াপাল এলাকার সাব-রেজিস্ট্রার পদে কর্মরত ওড়িশা রেভিনিউ সার্ভিসের (ওআরএস) আধিকারিক।
অভিযোগ, একটি জমির বিক্রয় দলিল ‘বাজেয়াপ্তি স্থিতিবান’ শ্রেণিভুক্ত জমি হিসেবে নিবন্ধনের অনুমতি দেওয়ার জন্য অভিযোগকারীর কাছে প্রথমে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন তিনি। অভিযোগকারী ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ঘুষের পরিমাণ কমিয়ে ৭ হাজার টাকা করেন অভিযুক্ত আধিকারিক।
জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী ০.১৪ একর জমির বিক্রয় দলিল নিবন্ধনের জন্য তাঁর কাছে আবেদন করেছিলেন। ওই জমিটি ‘বাজেয়াপ্তি স্থিতিবান’ হিসেবে নথিভুক্ত ছিল। রাজস্ব ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই ধরনের জমিকে স্থিতিবান হিসেবে গণ্য করে তার নিবন্ধনের অনুমতি দেওয়ার বিধান রয়েছে।
কিন্তু অভিযোগ, দপ্তরের নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও বারবার অনুরোধ করার পরেও অভিযুক্ত আধিকারিক দলিল নিবন্ধনের ব্যবস্থা করেননি এবং ঘুষের টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তি ওড়িশা ভিজিল্যান্স কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান।
অভিযোগের ভিত্তিতে ভিজিল্যান্সের একটি দল ফাঁদ পেতে শুক্রবার ৭ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় মানিশা মিশ্রকে হাতেনাতে ধরে। তাঁর কাছ থেকে ঘুষের সম্পূর্ণ টাকা উদ্ধার করে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
— আইএএনএস



