0%

বিমানে এবার বাধ্যতামূলক সবুজ জ্বালানি! ২০২৭ থেকেই নতুন নিয়ম

ভারত সরকার বিমান খাতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার (Sustainable Aviation)বাধ্যতামূলক করতে নতুন নীতিমালা প্রস্তাব করেছে। খসড়া নীতিতে বলা হয়েছে, আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে…

ভারত সরকার বিমান খাতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার (Sustainable Aviation)বাধ্যতামূলক করতে নতুন নীতিমালা প্রস্তাব করেছে। খসড়া নীতিতে বলা হয়েছে, আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে সবুজ বিমান জ্বালানি বা সাসটেইনেবল এভিয়েশন ফুয়েল (এসএএফ) মেশানো বাধ্যতামূলক হবে। শুরুতে মিশ্রণের হার থাকবে এক শতাংশ। ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে পাঁচ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে বিশ শতাংশে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

নাগরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এই খসড়া নীতিতে আরও বলা হয়েছে, এয়ারলাইন্সগুলোকে তাদের বার্ষিক বিমান জ্বালানির অন্তত নব্বই শতাংশ ভারতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সংগ্রহ করতে হবে। এর উদ্দেশ্য হলো দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করা এবং বিদেশ থেকে সস্তায় জ্বালানি এনে খরচ বাঁচানোর প্রবণতা রোধ করা।

আরও দেখুনঃ ‘ইতালীয় চশমা খুলুন’, সোনিয়াকে নিশানা তরুণ চুঘের, জরুরি অবস্থা নিয়ে পাল্টা আক্রমণ

সবুজ বিমান জ্বালানি মূলত কৃষি বর্জ্য, ব্যবহৃত রান্নার তেল (Sustainable Aviation)এবং অন্যান্য পুনর্নবীকরণযোগ্য উৎস থেকে তৈরি হয়। সাধারণ অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের তুলনায় এটি কার্বন নিঃসরণ অনেক কমাতে পারে। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের চাপ বাড়ার কারণে অনেক দেশই এ ধরনের জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। ভারতও আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান সংস্থার কার্বন অফসেটিং স্কিমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। সবুজ জ্বালানির দাম সাধারণ জ্বালানির চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি। এতে এয়ারলাইন্সগুলোর খরচ বাড়বে। যাত্রীদের টিকিটের দামেও প্রভাব পড়তে পারে। ছোট ও মাঝারি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য চাপ আরও বেশি হতে পারে।

দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকার বিভিন্ন প্রণোদনার কথা ভাবছে। কর ছাড়, ভর্তুকি এবং বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হতে পারে। তেল কোম্পানিগুলোকে দেশেই এসএএফ উৎপাদনের পরিকাঠামো গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু দেশে উৎপাদিত সবুজ জ্বালানিই মেশানো যাবে বলে নীতিতে উল্লেখ রয়েছে।

এয়ারলাইন্সগুলোকে নির্দিষ্ট হারে জ্বালানি মেশাতে না পারলে বা নিয়ম না মানলে জরিমানারও প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর ওপরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা উৎপাদন কেন্দ্র বা মধ্যবর্তী স্টোরেজে জ্বালানি মিশিয়ে বিমানবন্দরে সরবরাহ করবে।

বিমান খাতের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।(Sustainable Aviation) তাঁরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমাবে। কৃষি বর্জ্য ব্যবহার করে জ্বালানি তৈরি হলে কৃষকদেরও অতিরিক্ত আয়ের পথ খুলবে। তবে সরবরাহ শৃঙ্খল ঠিকমতো গড়ে না উঠলে লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে।

বর্তমানে ভারতে বিমান জ্বালানির চাহিদা বছরে প্রায় আট মিলিয়ন টন। ২০৩০ সালের মধ্যে তা চোদ্দ মিলিয়ন টনে পৌঁছাতে পারে। এর একটা বড় অংশ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ব্যবহৃত হয়। সেখানেই প্রথমে এই নিয়ম প্রয়োগ করা হবে। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট এখনও এর বাইরে রাখা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker