কপালে ‘তিলক’, লন্ডনের স্কুলে বহিষ্কৃত হিন্দু ছাত্র! ২৫ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণের মামলা বাবার

ছোটবেলা থেকেই প্রভু স্বামীনারায়ণের ভক্ত ছেলে। হিন্দু ধর্মচর্চার অঙ্গ হিসেবে কপালে তিলক-চন্দন পরত। কিন্তু স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলের তাতে আপত্তি ছিল। একটা সময়ে পরিস্থিতি এমনই হয় যে ছেলেকে স্কুল ছাড়িয়ে নিতে বাধ্য হন বাবা-মা। এবার পশ্চিম লন্ডনের সেই প্রাইমারি স্কুলের বিরুদ্ধেই স্বাধীনভাবে ধর্মাচরণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে মামলা করলেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত ব্যক্তি। ২৫ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। আইনজীবীর দাবি, সে দেশের আইন অনুযায়ী স্কুলপড়ুয়াদের নিজস্ব ধর্মাচরণে বাধা দেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। হিন্দু ছাত্রকে পরোক্ষে বহিষ্কার করা স্কুলের কাছে তাই ওই মোটা অঙ্কের অর্থ চাওয়া হয়েছে। এখনও মামলাটির নিষ্পত্তি হয়নি।
পশ্চিম লন্ডনের ভাইকারস গ্রিন প্রাইমারি স্কুলে পড়ত ৯ বছরের হিন্দু ছাত্রটি। তারা ভারতীয় বংশোদ্ভুত এবং ছেলেটি স্বামীনারায়ণের ভক্ত। বাড়িতেও সে চন্দন, তিলক পরে থাকত। স্কুল যাওয়ার সময়েও সেই অভ্যাস ছাড়তে পারেনি। কিন্তু ছাত্রের কপালে তিলক অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষের। অভিযোগ, তাকে লাগাতার এনিয়ে নানা প্রশ্ন, কটূক্তির মুখে পড়তে হয়। যার জেরে তার অভিভাবকরা ছেলেকে ভাইকারস গ্রিন প্রাইমারি স্কুল থেকে সরিয়ে অন্যত্র ভর্তি করান। এই ঘটনা ২০২৫ সালের। এই ঘটনার জেরে এবছর স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেন ওই ছাত্রের বাবা। আদালতে হলফনামা দিয়ে তাঁর অভিযোগ, ছেলে তিলক পরার কারণে স্কুল কাউন্সিল তাকে ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছিল। তাতে ছেলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। তাই তাঁরা বাধ্য হন ছেলেকে ওই স্কুল ছাড়াতে। বাবার দাবি, এই ঘটনায় সন্তানের পড়াশোনার খরচ বাবদ ২৫ হাজার পাউন্ড ফেরাতে হবে ভাইকারস গ্রিন প্রাইমারি স্কুলকে।
আইনজীবী অ্যামব্রিশ লিম্বাচিয়া এনিয়ে জানান, ‘‘এটা একটি স্কুল বা একজন ছাত্রের নির্দিষ্ট মামলা নয়। আসলে এই ঘটনা এদেশে স্বাধীনভাবে ধর্মাচরণের পরিপন্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আইনবিরুদ্ধ। বিশেষত একজন ছাত্র পড়াশোনা করাকালীন তার কোনও বিশ্বাসেই বাধা দেওয়া যায় না।”
লন্ডনের ‘আশ্রয়’ নামে এক আইনি পরামর্শদাতা সংস্থার মাধ্যমে ওই মামলাটি করেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত ব্যক্তি। আইনজীবী অ্যামব্রিশ লিম্বাচিয়া এনিয়ে জানান, ‘‘এটা একটি স্কুল বা একজন ছাত্রের নির্দিষ্ট মামলা নয়। আসলে এই ঘটনা এদেশে স্বাধীনভাবে ধর্মাচরণের পরিপন্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আইনবিরুদ্ধ। বিশেষত একজন ছাত্র পড়াশোনা করাকালীন তার কোনও বিশ্বাসেই বাধা দেওয়া যায় না। ব্রিটেনে প্রতি শিশুর স্বাধীনভাবে বড় হওয়ার অধিকার আছে। কোনও ভেদাভেদ নেই। গোটা দেশে প্রায় লাখ দশেক হিন্দু নাগরিক। তাঁদের ধর্মবিশ্বাসকে আঘাত করা হয়েছে। আশা করি, আদালত আমাদের বাচ্চাদের স্বাধীনতা রক্ষার দিকটি ভেবেই রায় দেবে।”
শেয়ার
লিংক



