বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পাঁচটি জাহাজের নাম পরিবর্তন, বাদ ‘জয় বাংলা’ ও ১৯৭১-এর চার জাতীয় নেতার নাম

ঢাকা, ৭ নভেম্বর : বাংলাদেশের কোস্ট গার্ডের পাঁচটি জাহাজের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজের নাম থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চার বিশিষ্ট জাতীয় নেতার নামেও থাকা চারটি জাহাজের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুমোদনের পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘ঢাকা ট্রিবিউন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিসিজিএস জয় বাংলা-র নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘বিসিজিএস অদম্য বাংলা’। অন্যদিকে, চার জাতীয় নেতার নামে থাকা জাহাজগুলিরও নতুন নামকরণ করা হয়েছে।
নাম পরিবর্তনের ফলে বিসিজিএস সৈয়দ নজরুলের নতুন নাম হয়েছে বিসিজিএস ফিরোজ কবির, বিসিজিএস তাজউদ্দিনের নাম হয়েছে বিসিজিএস নুরুল ইসলাম, বিসিজিএস মনসুর আলীর নাম হয়েছে বিসিজিএস এম হুমায়ুন কবির এবং বিসিজিএস কামারুজ্জামানের নতুন নাম হয়েছে বিসিজিএস আশরাফ সিদ্দিকী।
এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আওয়ামি লিগ। দলের অভিযোগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চার জাতীয় নেতার নামে থাকা কোস্ট গার্ডের জাহাজগুলির নাম পরিবর্তন এবং ‘জয় বাংলা’-র পরিবর্তে ‘অদম্য বাংলা’ নামকরণ বাংলাদেশের ঐতিহাসিক পরিচয়ের উপর উদ্বেগজনক আঘাত।
দলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জেলহত্যা দিবসের মাত্র কয়েক দিন পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি শুধুমাত্র জাহাজের নাম পরিবর্তনের বিষয় নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক, ঐতিহ্য এবং মূল্যবোধ মুছে ফেলার একটি প্রচেষ্টা কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ৩ নভেম্বর বাংলাদেশে জেলহত্যা দিবস পালন করা হয়। ১৯৭৫ সালের ওই দিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভিতরে হত্যা করা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও আওয়ামি লিগের চার শীর্ষ নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে।
আওয়ামি লিগের দাবি, জাহাজগুলির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য থেকে দেশকে বিচ্ছিন্ন করার বৃহত্তর প্রচেষ্টারই অংশ। প্রাক্তন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক পদক্ষেপ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামির রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গও বিবৃতিতে তুলে ধরেছে দলটি।
আওয়ামি লিগের বক্তব্য, ১৯৭১ সালের গণহত্যায় সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস থেকে দেশকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার প্রবণতাকে আরও স্পষ্ট করছে।
দলের মতে, ‘জয় বাংলা’ কেবল কোনও রাজনৈতিক দলের স্লোগান নয়। এই শব্দবন্ধ বাংলাদেশের মানুষ, মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশের স্বাধীনতার প্রতীক।
বিবৃতিতে আওয়ামি লিগ আরও দাবি করেছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে দলটি ধারাবাহিকভাবে ভূমিকা পালন করেছে। দেশের ঐতিহাসিক পরিচয় রক্ষার জন্য এখন আরও বেশি করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন।
দলের আহ্বান, বাংলাদেশের ইতিহাস, পরিচয় এবং বহু সংগ্রামের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে মুছে ফেলার বা নতুন করে লেখার কোনও প্রচেষ্টা বরদাস্ত করা যাবে না। ১৯৭১ সালের ঐতিহ্য এবং ‘জয় বাংলা’-র মর্যাদা রক্ষায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামি লিগ।
–আইএএনএস



