0%

বৃষ্টি সহায়! ব্যাটিং বিপর্যয় সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ডকে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে হারাল ভারত

নিউজিল্যান্ড: ১৩৪/১০ (মিচেল ৫৫, স্যান্টনার ৩১, ব্রার ৩০/৪, কম্বোজ ২৫/২)
ভারত: ১১৩/৭ (শ্রেয়স ৩০, রাহুল ২৬, ডাফি ৩৫/৩, জেমিসন ৩৫/৩)
ডিএলএস পদ্ধতিতে ৪ রানে জয়ী ভারত।

ভারতের সামনে লক্ষ্য ছিল ‘নামমাত্র’। কিন্তু কে জানত, সেই ১৩৫ রানের ‘পুকুর’কেও ‘মহাসাগর’ মনে হবে! ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও (India VS New Zealand) ব্যাটিং বিপর্যয়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখল নিউজিল্যান্ড। আকিব নবির সুইং, গুর্নুর ব্রারের পেস-বাউন্সে বেসামাল হয়ে মাত্র ১৩৪ রানে গুটিয়ে গেলেন মিচেল স্যান্টনাররা। সেই রান রোহিত-শুভমান-কোহলি সমৃদ্ধ ভারতীয় ব্যাটিং হেসেখেলে টপকে যাবে, এমন প্রত্যাশা থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু ক্রিকেটে একটা কথা আছে, ‘ইটস নট ওভার আনটিল দ্য লাস্ট বল ইজ বোলড’। শেষ বল হওয়ার আগে কিছুই বলা যায় না ক্রিকেটে। অন্তত এই ম্যাচ সেটাই প্রমাণ দিল। রো-কো ব্যর্থ। ক্যাপ্টেন গিল ব্যর্থ। কিছুটা শ্রেয়স। তারপর ‘স্থিতধী’ কেএল রাহুল একটা দিক ধরে না রাখলে লজ্জার সমাপতন অপেক্ষা করছিল ভারতের সামনে। আর হ্যাঁ, বৃষ্টিও এদিন আশীর্বাদ শুভমানদের সামনে। ডিএলএস পদ্ধতিতে এগিয়ে থেকে ৪ রানে জিতে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ‘মেন ইন ব্লু’। 

এদিনও বৃষ্টি পিছু ছাড়ল না। এক ঘণ্টারও বেশি সময় পর শুরু হল ম্যাচ। ওভার কমে দাঁড়ায় ৪৭-এ। এই আবহাওয়ায় টসে জিতে খুব স্বাভাবিকভাবেই বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক গিল। আর তাদের ঘরের মাঠে, তাদের অস্ত্রেই নিউজিল্যান্ড ঘায়েল। পছন্দসই আবহাওয়ায় খেল দেখালেন কাশ্মীরি পেসার আকিব নবি। বলে খুব একটা গতি নেই। তবে এত দেরিতে সুইং ভাঙে যে, কিউয়ি ব্যাটাররা বোকা বনে গেলেন। তার সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের পিচের বাড়তি বাউন্স। যেভাবে উইল ইয়ংয়ের উইকেট পেলেন। প্রথম বলটা বাউন্সে বিভ্রান্ত করলেন, পরের বল সুইংয়ে খোঁচা দিতে বাধ্য করলেন। পরে যখন ড্যারিল মিচেল সামান্য আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন, তখন গিল উইকেটকিপার কেএল রাহুলকে এগিয়ে নিয়ে আসেন। ফলে সুইং ভাঙার আগে পিচের সামনে গিয়ে খেলার রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। অধৈর্য হয়ে চালাতে গিয়ে অক্ষর প্যাটেলের বলে ৫৫ রানে ক্যাচ আউট হন। শেষ পর্যন্ত ৩১ রান দিয়ে নবির সংগ্রহ ২ উইকেট।

নবির যদি অস্ত্র সুইং হয়, তাহলে গুর্নুরের শক্তি পেস ও বাউন্স। উচ্চতা কাজে লাগিয়ে পিচ থেকে বাড়তি বাউন্স পান। সঙ্গে প্রতি ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতি। ৩০ রান দিয়ে ৪ উইকেট পেলেন। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৩৪ রানে অলআউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ড্যারিল মিচেলের ৫৫ এবং মিচেল স্যান্টনারের ৩১ রান না হলে আরও বড় লজ্জা অপেক্ষা করছিল কিউয়িদের সামনে।

ভারত এই রান সহজে তুলে ফেলবে, এটাই আশা করছেন ভক্তরা। কিন্তু ভাবনার উলটো পথে হাঁটলেন টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটাররা। শুরুতেই ধাক্কা। দ্বিতীয় ওভারেই জেকব ডাফির বলে শূন্য রানে ফিরলেন শুভমান গিল। ক্রিজে তখন রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। তিন ওভারের শেষে ভারতের স্কোর ১৪/১। কোহলি রানের খাতা খুললেন ‘ভিন্টেজ’ কভার ড্রাইভ দিয়ে। মনে হচ্ছিল, প্রথম ম্যাচের ফর্ম ওয়েলিংটনেও বজায় থাকবে। কিন্তু বিপদ আরও বাড়ল পরের ওভারেই। ডাফির বলেই কভারে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন কোহলি (৭)। এর পরেও স্বস্তি পেল না ভারত। রোহিতের একটি ক্যাচ পড়েছিল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না হিটম্যান। কাইল জেমিসনের বলে ১২ রান করে ফিরলেন তিনি।

এর পর ম্যাথু ফিশারের বলে ৭ রান করে আউট অক্ষর প্যাটেল। জয়ের জন্য তখন প্রয়োজন ৫৩ রান। হাতে ৬ উইকেট। ক্রিজে শ্রেয়স আইয়ার ও কেএল রাহুল। বোলারদের বদ্ধভূমি হয়ে ওঠা বাইশ গজে ভালোই লড়ছিলেন। কিন্তু ৩০ রান করে জেমিসনের শিকার শ্রেয়সও। ডাফিকে ছক্কা মেরে পালটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেন রাহুল। ২৩ ওভারের শেষে ভারতের স্কোর ১০৩। জয়ের জন্য তখনও দরকার ৩২ রান। তখনও ক্লাইম্যাক্স বাকি। নমন ধীর ১২ রান করে সাজঘরে। তাঁকে ফেরান ডাফি। এর পর মাত্র ১ রান করে জেমিসনের বলে আউট কম্বোজ। ২৬ ওভারের শেষে ভারতের স্কোর ১১৩/৭। জয়ের জন্য ১২৬ বলে প্রয়োজন আর ২২ রান। হাতে মাত্র ৩ উইকেট।

এর মধ্যেই ফের বৃষ্টি নামল ওয়েলিংটনে। বন্ধ হয়ে গেল খেলা। তবে বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার সময় ডিএলএস নিয়মে এগিয়ে ভারত। ২৬ ওভার শেষে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান ১০৯। সেখানে ভারতের রান ১১৩। অর্থাৎ ডিএলএসের হিসাবে চার রানে এগিয়ে রোহিতেরা। শেষ পর্যন্ত শুরু করা যায়নি ম্যাচ। ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে এগিয়ে থাকায় জয়ী ঘোষণা করা হয় ভারতকে। রাহুল অপরাজিত থাকেন ৩৮ বলে ২৬ রানে। 

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker