জলপথে হামলার ছক! পাকিস্তানে সামুদ্রিক যুদ্ধকৌশলের প্রশিক্ষণ জঙ্গিদের

সবদিক নিউজ:সমুদ্রপথে ফের বড়সড় নাশকতার ছক কষছে পাকিস্তানের (Pakistan) জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar-e-Taiba) গোয়েন্দা সূত্রে উঠে এসেছে, করাচি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে আরব সাগরের বুকে অবস্থিত চরনা দ্বীপে জঙ্গিদের স্কুবা ডাইভিংয়ের (Scuba Diving) প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পর্যটকের ছদ্মবেশে দ্বীপে যাতায়াত করছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জঙ্গিরা। সাধারণ পর্যটকদের ভিড়কে কাজে লাগিয়েই নিরাপত্তারক্ষীদের নজর এড়িয়ে এই গোপন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালানো হচ্ছে বলে দাবি গোয়েন্দাদের।
পাকিস্তানে (Pakistan) সামুদ্রিক যুদ্ধকৌশলের প্রশিক্ষণ জঙ্গিদের
রিপোর্ট অনুযায়ী, লস্কর-ই-তৈবার সামুদ্রিক শাখা ‘দাওয়া মেরিন উইং’ বা ‘সাদা-এ-হুরিয়ত’ এই প্রশিক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে। জঙ্গিদের শুধু স্কুবা ডাইভিং নয়, জলের তলায় বিশেষ অভিযান চালানো, কমব্যাট সুইমিং এবং বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক যুদ্ধকৌশলও শেখানো হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন লস্করের রাজনৈতিক শাখা পাকিস্তান মার্কাজি মুসলিম লিগের সদস্যরাও। বাইরে থেকে যাতে সন্দেহ না হয়, সে কারণে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সাধারণ পর্যটক হিসেবেই পরিচয় করানো হচ্ছে (Pakistan)।
একসময়ে করতেন বাসন মাজার কাজ! আজ ১৫ টি রেস্তোরাঁর মালিক, কীভাবে সফল হলেন নারায়ণ পূজারী?
চরনা দ্বীপে প্রতিদিন বহু পর্যটকের আনাগোনা থাকে। পাশাপাশি, এলাকাটি পাকিস্তানের নৌসেনার ফায়ারিং রেঞ্জ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ফলে এই ব্যস্ততার আড়ালে গোপনে জঙ্গি প্রশিক্ষণ চালানো তুলনামূলক সহজ হচ্ছে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। তাঁদের দাবি, সমুদ্রপথে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি লস্করের কাছে নতুন নয়। এর আগেও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মঙ্গল বাঁধ এলাকায় জঙ্গিদের সামুদ্রিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেখানে লঞ্চপ্যাড ও সুইমিং পুলের মতো পরিকাঠামোও তৈরি করা হয়েছিল।
তবে অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতের নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ওই প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি ধ্বংস হয়ে যায় বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। এরপরই প্রশিক্ষণের পরিকাঠামো গোপনে চরনা দ্বীপে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে আশঙ্কা গোয়েন্দাদের।
জন্মদিনের রাতে অভিষেকের বাড়ির সামনে রণক্ষেত্রের ছবি! দুপক্ষের তুমুল সংঘর্ষে আহত একাধিক
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার সময় সমুদ্রপথ ব্যবহার করেই ভারতে ঢুকেছিল লস্কর জঙ্গিরা। সেই হামলার স্মৃতি এখনও দেশবাসীর মনে তাজা। তাই নতুন করে সমুদ্রপথে নাশকতার প্রস্তুতির খবর সামনে আসতেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং সমুদ্রপথে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে (Pakistan)।



