0%

কম দামে বেশি ফিচার Hyundai Bayon-এ, শক্তিশালী ইঞ্জিনে এগিয়ে Taigun

গুরুগ্রাম: নতুন Hyundai Bayon বাজারে আসার পর মাঝারি আকারের SUV বিভাগে প্রতিযোগিতা আরও জমে উঠেছে। Creta-র সঙ্গে মিল থাকা বেশ কিছু ফিচার এবং পরিচিত ইঞ্জিনের কারণে নতুন Bayon ক্রেতাদের নজর কাড়ছে। অন্যদিকে, Volkswagen Taigun ইতিমধ্যেই এই বিভাগে নিজের জায়গা তৈরি করেছে। ইউরোপীয় ডিজাইন, শক্তিশালী টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিন এবং ড্রাইভিং অভিজ্ঞতার জন্য পরিচিত এই SUV-র সঙ্গে এবার সরাসরি তুলনায় Hyundai-র নতুন মডেল।

দাম, আকার, ফিচার, নিরাপত্তা এবং ইঞ্জিনের পারফরম্যান্সের নিরিখে কোন গাড়িটি বেশি সুবিধা দিচ্ছে, তা দেখে নেওয়া যাক।

দাম: Bayon তুলনায় সস্তা

বিষয়Hyundai BayonVolkswagen Taigun
এক্স-শোরুম দাম১০ লক্ষ থেকে ১৮.১৫ লক্ষ টাকা১১ লক্ষ থেকে ১৯.৪৭ লক্ষ টাকা

দামের দিক থেকে Hyundai Bayon এগিয়ে। এর বেস ভ্যারিয়েন্ট Volkswagen Taigun-এর তুলনায় প্রায় ১ লক্ষ টাকা সস্তা। ফলে যাঁদের বাজেট ১০-১১ লক্ষ টাকার মধ্যে, তাঁদের কাছে Bayon আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে।

অন্যদিকে, Taigun-এর টপ ভ্যারিয়েন্টের দাম Bayon-এর তুলনায় বেশি। তবে শক্তিশালী ১.৫ লিটার টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিনের কথা বিবেচনা করলে পারফরম্যান্সকে অগ্রাধিকার দেওয়া ক্রেতাদের কাছে অতিরিক্ত দাম যুক্তিযুক্ত মনে হতে পারে।

আকার ও মাপ: কোন SUV বড়?

মাপHyundai BayonVolkswagen Taigunপার্থক্য
দৈর্ঘ্য৪,২৪৫ মিমি৪,২২১ মিমিBayon ২৪ মিমি বেশি
প্রস্থ১,৮১০ মিমি১,৭৬০ মিমিBayon ৫০ মিমি বেশি
উচ্চতা১,৬০৫ মিমি১,৬১২ মিমিTaigun ৭ মিমি বেশি
হুইলবেস২,৬০০ মিমি২,৬৫১ মিমিTaigun ৫১ মিমি বেশি
গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স২০৫ মিমি১৮৮ মিমিBayon ১৭ মিমি বেশি

দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের বিচারে Hyundai Bayon বড়। বিশেষ করে ৫০ মিমি বেশি প্রস্থের কারণে গাড়িটির সামগ্রিক উপস্থিতি আরও চওড়া। গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্সও Taigun-এর তুলনায় ১৭ মিমি বেশি।

তবে Volkswagen Taigun-এর হুইলবেস ৫১ মিমি বেশি এবং উচ্চতাও সামান্য বেশি। দীর্ঘ হুইলবেস কেবিনের জায়গা ও পিছনের যাত্রীদের আরামের ক্ষেত্রে সুবিধা দিতে পারে। তাই শুধু বাইরের মাপ দেখে কোনও একটি গাড়িকে সব দিক থেকে বড় বলা যায় না।

রঙের বিকল্প: Taigun এগিয়ে

রঙের পছন্দের ক্ষেত্রে Volkswagen Taigun বেশি বিকল্প দিচ্ছে।

Hyundai Bayon-এর রং:

  • Atlas White
  • Fiery Red
  • Ecotronic Grey
  • Golden Bronze
  • Titanium Black
  • Steel Grey
  • Classy Blue
  • Carbon Steel

Volkswagen Taigun-এর রং:

  • Avocado Pearl
  • Wild Cherry Red
  • Candy White
  • Deep Black Pearl
  • Titanium Black Matte
  • Lava Blue
  • Reflex Silver
  • Classy Blue Matte
  • Carbon Steel Matte

Bayon-এ মোট ৮টি এবং Taigun-এ ৯টি রঙের বিকল্প রয়েছে। দুই মডেলেই ডুয়াল-টোন রঙের ব্যবস্থা আছে। Taigun-এ তিনটি ডুয়াল-টোন বিকল্প থাকলেও Bayon-এ রয়েছে দুটি। ম্যাট রঙের ক্ষেত্রে আবার Hyundai এগিয়ে। Bayon-এ দুটি ম্যাট রঙের বিকল্প রয়েছে, যেখানে Taigun-এ রয়েছে একটি।

ফিচার: প্রযুক্তির দিক থেকে Bayon-এর সুবিধা

দুই SUV-তেই LED হেডল্যাম্প, LED DRL, অ্যালয় হুইল, LED টেলল্যাম্প, লেদারেট সিট, রিয়ার AC ভেন্ট, অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং এবং প্যানোরামিক সানরুফের মতো সুবিধা রয়েছে। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফিচারে পার্থক্য রয়েছে।

ফিচারHyundai BayonVolkswagen Taigun
LED হেডল্যাম্পপ্রজেক্টরপ্রজেক্টর
LED DRLআছেআছে
ফগ ল্যাম্পনেইপিছনে আছে
অ্যালয় হুইলআছেআছে
পাওয়ার অ্যাডজাস্টেবল সামনের আসনচালকের জন্য ৮-ওয়েচালক ও সহযাত্রীর জন্য ৬-ওয়ে
প্যানোরামিক সানরুফআছেআছে
টাচস্ক্রিন১২.৩ ইঞ্চি১০.১ ইঞ্চি
ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে১২.৩ ইঞ্চি১০.২৫ ইঞ্চি
AI ফিচারGenerative AIGoogle Voice Assistant
ওয়্যারলেস Android Auto ও Apple CarPlayআছেআছে
ভেন্টিলেটেড সামনের আসনআছেআছে
ওয়্যারলেস চার্জারআছেআছে
অডিও সিস্টেম৮-স্পিকার Bose, সাবউফার-সহ৬-স্পিকার
ড্রাইভিং মোডআছেনেই
ADASLevel 2নেই
৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরাআছেনেই
ড্যাশক্যামআছেনেই
৬টি এয়ারব্যাগআছেআছে
ESCআছেআছে

ফিচারের বিচারে Hyundai Bayon বেশ কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে। এর ১২.৩ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন এবং ১২.৩ ইঞ্চির ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে Taigun-এর স্ক্রিনের তুলনায় বড়। সাউন্ডের ক্ষেত্রেও রয়েছে ৮-স্পিকার Bose সিস্টেম এবং সাবউফার। অন্যদিকে Taigun-এ রয়েছে ৬-স্পিকার অডিও সিস্টেম।

Bayon-এ Level 2 ADAS, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা এবং ড্যাশক্যামের মতো সুবিধা রয়েছে, যা Taigun-এ নেই। তবে সামনের দুটি আসনেই পাওয়ার অ্যাডজাস্টমেন্টের সুবিধা দেয় Volkswagen। Bayon-এ এই সুবিধা রয়েছে শুধু চালকের আসনে।

ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স: Taigun-এর শক্তি বেশি

এই বিভাগেই দুই SUV-র মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য দেখা যায়। Hyundai Bayon-এ রয়েছে একটি ১.৫ লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোল ইঞ্জিন। অন্যদিকে Volkswagen Taigun-এ ১.০ লিটার এবং ১.৫ লিটার, দুটি টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিনের বিকল্প রয়েছে।

স্পেসিফিকেশনHyundai BayonVolkswagen Taigun
ইঞ্জিন১.৫ লিটার NA পেট্রোল১.০ লিটার Turbo TSI
ইঞ্জিন৪-সিলিন্ডার৩-সিলিন্ডার
শক্তি১১৫ PS১১৫ PS
টর্ক১৪৪ Nm১৭৮ Nm
গিয়ারবক্স৬-স্পিড MT, CVT৬-স্পিড MT, ৮-স্পিড AT
স্পেসিফিকেশনVolkswagen Taigun 1.5 TSI
ইঞ্জিন১.৫ লিটার Turbo-Petrol
সিলিন্ডার৪
শক্তি১৫০ PS
টর্ক২৫০ Nm
গিয়ারবক্স৭-স্পিড DCT

Bayon-এর ১.৫ লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড ইঞ্জিন ১১৫ PS শক্তি উৎপাদন করে। Taigun-এর ছোট ১.০ লিটার টার্বো ইঞ্জিনও একই শক্তি দেয়। কিন্তু টর্কের ক্ষেত্রে Volkswagen এগিয়ে। Bayon-এর ১৪৪ Nm-এর তুলনায় Taigun-এর ১.০ লিটার ইঞ্জিন ১৭৮ Nm টর্ক উৎপাদন করে।

আরও বেশি পারফরম্যান্স চাইলে Taigun-এর ১.৫ লিটার TSI ইঞ্জিন রয়েছে। এটি ১৫০ PS শক্তি এবং ২৫০ Nm টর্ক দেয়। সঙ্গে রয়েছে ৭-স্পিড DCT গিয়ারবক্স।

অন্যদিকে, শহরের যানজটে নিয়মিত গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে Bayon-এর CVT গিয়ারবক্স সুবিধাজনক হতে পারে। Taigun-এর ৭-স্পিড DSG দ্রুত গিয়ার পরিবর্তন এবং স্পোর্টি ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা দিতে পারে।

কোন SUV কিনবেন?

দুই গাড়ির মধ্যে নির্বাচন নির্ভর করবে ক্রেতার প্রয়োজনের উপর।

  • কম বাজেট ও বেশি ফিচার: Hyundai Bayon তুলনায় সস্তা এবং বড় টাচস্ক্রিন, Bose অডিও, Level 2 ADAS, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরার মতো সুবিধা দেয়।
  • শহরের যানজটে নিয়মিত যাতায়াত: Bayon-এর CVT গিয়ারবক্স এবং ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড ইঞ্জিন বিবেচনা করা যেতে পারে।
  • শক্তিশালী পারফরম্যান্স: Volkswagen Taigun-এর ১.৫ লিটার TSI ইঞ্জিন ১৫০ PS শক্তি ও ২৫০ Nm টর্কের কারণে এগিয়ে।
  • আরও বেশি ইঞ্জিন বিকল্প: Taigun-এ ১.০ ও ১.৫ লিটার টার্বো-পেট্রোলের বিকল্প রয়েছে।

বেশি ফিচার এবং তুলনামূলক কম দাম অগ্রাধিকার হলে Hyundai Bayon আকর্ষণীয়। কিন্তু গাড়ি চালানোর আনন্দ, বেশি টর্ক এবং শক্তিশালী ইঞ্জিন চাইলে Volkswagen Taigun বেশি উপযুক্ত হতে পারে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker