ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষমতা খর্ব করার দাবি ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন কংগ্রেস সদস্য-নির্বাচিত আমিশ শাহের

ওয়াশিংটন, ৭ নভেম্বর : ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করে যুদ্ধ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কর্তৃত্ব কংগ্রেসের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানালেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন কংগ্রেস সদস্য-নির্বাচিত আমিশ শাহ। শুক্রবার তিনি বলেন, যুদ্ধ ঘোষণার সাংবিধানিক দায়িত্ব কংগ্রেসের। তাই এই বিষয়ে প্রেসিডেন্টের একক কর্তৃত্ব থাকা উচিত নয়।
এজিফ্যামিলি-র ‘গুড মর্নিং অ্যারিজোনা’ অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে শাহ বলেন, “এই বিষয়ে প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে ক্ষমতা ফিরিয়ে নিতে হবে, কারণ যুদ্ধ ঘোষণার দায়িত্ব কংগ্রেসের।” মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যোগ দেওয়ার আগে ট্রাম্প প্রশাসনের কার্যকলাপের উপর কড়া নজরদারিরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী শাহ অ্যারিজোনার প্রথম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী জে ফিলিকে পরাজিত করেছেন। তিনি স্কটসডেল এলাকার এই আসনে রিপাবলিকান ডেভিড শোয়েইকার্টের স্থলাভিষিক্ত হবেন। পেশায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এবং অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের প্রাক্তন আইনপ্রণেতা শাহ বলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য প্রতিরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের কাছ থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা ও বিকল্প প্রস্তাব চাওয়া উচিত।
মার্কিন সেনাবাহিনীর কার্যকারিতার প্রশংসা করলেও যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেন তিনি। শাহ স্বীকার করেন, যুদ্ধের অবসান ঘটানো সহজ হবে না। তবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব হলে পেট্রোলের দাম কমতে পারে বলে তাঁর মত।
তাঁর মতে, যুদ্ধ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে কংগ্রেসের নজরদারির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের বিষয়টিও অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। নির্বাচনী প্রচারে ভোটাররা খাদ্যসামগ্রী, জ্বালানি, বাসস্থান এবং স্বাস্থ্যবিমার ক্রমবর্ধমান খরচ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ওয়াশিংটনে দুই দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে সহযোগিতা গড়ে তোলার উপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
ইতিমধ্যে বিদায়ী কংগ্রেস সদস্য শোয়েইকার্টের সঙ্গে দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন শাহ। শুক্রবার সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে তিনি জানান, মসৃণভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর নিশ্চিত করতে আগের দিন দু’জনের বৈঠক হয়েছে। শোয়েইকার্টের কাজের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে শাহ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই তাঁর দপ্তর সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকবে।
অন্য একটি পোস্টে তিনি জীবনযাত্রার খরচ কমানো, স্বাস্থ্য পরিষেবা সুরক্ষিত রাখা এবং অ্যারিজোনার জলসম্পদ রক্ষাকে নিজের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কথা শোনা এবং দলমত নির্বিশেষে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
নির্বাচনী প্রচারে ব্যয়বহুল লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন শাহ। অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের সংবাদমাধ্যম ক্রনকাইট নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের নথি উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, রিপাবলিকান প্রার্থী জে ফিলির জয়ের পক্ষে সুপার পিএসি-গুলি ১ কোটি ৬২ লক্ষ ডলার ব্যয় করেছিল। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী শাহের প্রচারে হাউস মেজরিটি পিএসি ৬৪ লক্ষ ডলার খরচ করে।
বিজয়ী হওয়ার পর শাহ জানিয়েছেন, যাঁরা তাঁকে ভোট দেননি, তাঁদেরসহ গোটা নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। স্বাস্থ্য পরিষেবার আওতা বাড়ানো, জলসংকট মোকাবিলা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোকে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন।
উল্লেখ্য, শাহ এর আগে অ্যারিজোনা হাউসে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালেও তিনি এই কংগ্রেসনাল আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে ডেভিড শোয়েইকার্টের কাছে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন। এবারের নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জে ফিলি একজন প্রাক্তন পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়। অ্যারিজোনার গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য শোয়েইকার্ট আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় এবারের নির্বাচন বিশেষ তাৎপর্য পায়। আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে শাহ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।



