পাঁচ গোল খেতেই প্রবল সমালোচনা, সমর্থকদের চাপের মুখে হাবাস বললেন, ‘এই দল আমার নয়’

দল নিয়ে লাগাতার পরীক্ষানিরীক্ষা। কাড়ি কাড়ি টাকা দিয়ে সই করানো বিদেশিদের বসিয়ে রেখে পছন্দের ফুটবলারদের সুযোগ দেওয়া। কোচ হাবাসের কাণ্ডকারখানায় অনেকদিন ধরেই অখুশি ছিলেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের একাংশ। শনিবার চেন্নাইয়িন এফসির বিরুদ্ধে দল পাঁচ গোল হজম করতেই তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ্যে চলে এল। সোশাল মিডিয়ায় চোখ রাখলেই কোচের সমালোচনা। কেউ কেউ হাবাস বিদায়ের দাবিও তুলছেন।
আসলে যে দলটা মরশুমের শুরুতে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের বড় বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। ডুরান্ড জয়ের পর এএফসি নিয়ে আশায় বুক বাঁধতে শিখিয়েছিল, সেই দলটাকেই কেমন যেন অচেনা লাগছে। শুধু সমর্থকরা কেন, কোচ নিজেও নিজের দলকে চিনতে পারছেন না। চেন্নাইয়িন ম্যাচের পর হাবাস বলছিলেন, “আজকের দলটা আমার পরিচিত দল নয়। এটা আমার দল নয়। আজকের পারফরম্যান্স একটা দুর্ঘটনা। আশা করি, এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর হবে না।”
হাবাস মেনে নিয়েছেন শনিবারের পারফরম্যান্স একেবারেই পাতে দেওয়ার যোগ্য নয়। প্রায় সব দিক থেকেই পিছিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল। তিনি বলছেন, ““এই ফলাফলটা মেনে নেওয়া কঠিন। কিন্তু তার থেকেও বড় সমস্যা হল, আমরা কোনও ক্ষেত্রেই জিততে পারিনি, বলের দখল নিয়ে লড়াইয়েও জিততে পারিনি। এভাবে ম্যাচ জেতা অসম্ভব। আমাদের মানসিকতা অত্যন্ত শিথিল ছিল। প্রতিপক্ষকে আমরা অনেক বেশি সুযোগ দিয়েছি।” হারের দায় এড়িয়ে যাননি লাল-হলুদ কোচ। বলছিলেন, “এই হারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমি নিচ্ছি। অবিলম্বে ফুটবলারদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি ঠিক করতে হবে।”
ইস্টবেঙ্গল কোচ মেনে নিয়েছেন, শনিবার তাঁর দল সংগঠিত ছিল না। তাই ডিফেন্ডার, গোলকিপার, মিডফিল্ডার, স্ট্রাইকার সব ফুটবলারকেই খারাপ বলে মনে হয়েছে। তবে হাবাস ঘুরে দাঁড়াতে বদ্ধপরিকর। তাঁর বক্তব্য, প্রচুর জার্নি করতে হয়েছে। পরপর ম্যাচ খেলার ধকল কাজ করেছে। তবে তিনি অজুহাত দিতে চাননি। আনোয়ার আলির না থাকাটা কি ফ্যাক্টর হয়ে গেল? ইস্টবেঙ্গল কোচ বলছিলেন, “দলের ব্যর্থতার জন্য কোনও একজন ফুটবলারের না থাকাটা কারণ হতে পারে না। আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে।”
শেয়ার
লিংক



