সেনেগালে ডুবল উদ্বাস্তু বোঝাই বোট, ইউরোপের পথে মৃত্যু ২১ জনের, নিখোঁজ বহু

ইউরোপে নিরাপদ জীবনের স্বপ্ন! সেই স্বপ্ন বুকে করে বোটে আটলান্টিক পাড়ি দিচ্ছিল একাধিক পরিবার। তবে মাঝসমুদ্রেই নামল বিপর্যয়। নৌকা ডুবে মৃত্যু হল ২১ জনের। যার মধ্যে বেশিরভাগই মহিলা ও শিশু। পাশাপাশি এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ২৫ জনের। জানা যাচ্ছে, শনিবার গভীর রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে সেনেগালের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে। রবিবার ভোরেও উদ্ধারকাজ চলছে বলে জানা যাচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, গত শুক্রবার সেনেগালের সেন্ট লুই থেকে স্পেনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন প্রায় ৫২ জন। মাছ ধরার বড় নৌকোয় সওয়ার হয়েছিলেন তাঁরা। শনিবার রাতে ডাকারের উত্তরে লুমপুলের কাছে আচমকাই উল্টে যায় নৌকোটি। সামুদ্রিক ঝড় না কি অন্য কারণে এই দুর্ঘটনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছয় সেনেগালের উপকূলরক্ষী বাহিনী। ২১ জনের মৃতদেহ এখনও পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। জীবন্ত উদ্ধার করা হয়েছে মাত্র ৬ জনকে। বাকিরা এখনও নিখোঁজ। মৃতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তবে অনুমান করা হচ্ছে, মৃতদের অধিকাংশই লেওনা ও থিয়েপ্পের বাসিন্দা।
গত শুক্রবার সেনেগালের সেন্ট লুই থেকে স্পেনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন প্রায় ৫২ জন। মাছ ধরার বড় নৌকোয় সওয়ার হয়েছিলেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, সেনেগাল, গাম্বিয়া, মৌরিতানিয়া, পশ্চিম সাহারা ও মরক্কোর উপকূল থেকে প্রতিবছর অসংখ্য অভিবাসী আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করে। অভিবাসীদের কাছে এটা পশ্চিম আফ্রিকা-আটলান্টিক রুট হিসেবেই পরিচিত। সাধারণ নৌকোয় দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার কারণে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। গত শুক্রবার এই একই রুটে যাওয়ার সময় ১৪২ জন অভিবাসীকে আটক করেছিল সেনেগালের সামরিক বাহিনী। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের শরীরে পোড়ার ক্ষত ছিল। দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগের কর্মীরা প্রাথমিক চিকিৎসার পর আহতদের কেয়ুর মাসারের স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং গুয়েদিয়াওয়ের ডালাল জাম হাসপাতালে পাঠান। বাকিদের নিয়ে যাওয়া হয় কেয়ুর মাসার জেন্ডারমেরি দপ্তরে।
শেয়ার
লিংক



