বিশ্বকাপে খেলাটাই শেষ স্বপ্ন, ভারতীয় দলে ডাক না পেলে আগামী বছর অবসর শামির

গত অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে দলে ফেরা নিয়ে ভীষণ আশাবাদী ছিলেন। যার জন্য বিশেষ বোলিংয়ের জুতো প্রস্তুত করিয়েছিলেন। নিজেকে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু সুযোগ আর আসেনি। যা তাঁর কাছে বড় ধাক্কা ছিল। তবু হাল ছাড়েননি। বরং প্রতিটা সময় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এবার নিউজিল্যান্ড সফর নিয়েও একইভাবে আশা দেখছিলেন। ঘনিষ্ঠমহলে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, তিনি ভেবেছিলেন নিউজিল্যান্ডের দলে হয়তো তাঁকে রাখা হবে। ওখানকার পরিবেশে তিনি এখনও ভয়ংকর। কিন্তু লাভের লাভ কিছু হয়নি। এবং নিউজিল্যান্ড সফরের দল ঘোষণার পর টেস্ট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন মহম্মদ শামি।
আসলে শামি বুঝে গিয়েছিলেন ভারতীয় টেস্ট দলের দরজা তাঁর কাছে চিরতরের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এরপর ভারতের টেস্ট সিরিজ বলতে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া। সেখানে যে তাঁকে রাখা হবে না, বুঝে গিয়েছিলেন। টেস্ট না খেলতে পারা নিয়ে নিয়মিত তাঁর গলায় আক্ষেপ ঝরে পড়ত। রনজিতে দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচে নামার আগে কল্যাণীতে একটা কথা বারবার বলছিলেন। শামি বলেছিলেন, ভারতীয় টিম হয়তো বুঝেছে তাঁকে আর প্রয়োজন নেই। তাঁর দরকার হয়তো ফুরিয়ে গিয়েছে। মহারাষ্ট্র ম্যাচের পর আপাতত লাল বলের ক্রিকেট থেকে ব্রেক। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আর ওয়ানডে রয়েছে। তাই নিজের টেস্ট অভিষেকের দিনটাকেই অবসরের জন্য বেছে নিলেন তিনি।
শামির ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এখনও সামনের বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন রয়েছে ‘লালা’-র। কিন্তু সেই সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ। সেই সুযোগও যে আর পাওয়া মুশকিল, সেটা ভারতীয় তারকা পেসার খুব ভালোভাবে বুঝে গিয়েছেন। তবে শেষ একটা চেষ্টা করতে চান আইপিএলে। যদি হয় ঠিক আছে, না হলে সামনের বছরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ফরম্যাট থেকেই অবসরের ঘোষণা করে দেবেন তিনি। শামির বক্তব্য, ‘”ওদের হয়তো মনে হয়েছে আমি আর ভালো বোলিং করতে পারি না।”
স্বাভাবিকভাবে লাল বলের ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর যে প্রশ্নটা ঘুরে ফিরে চলে আসছে তা হল, বাংলার হয়ে এবার রনজিতে বাকি ম্যাচগুলো কি খেলবেন শামি? বাংলার হয়ে বিভিন্ন সীমিত ওভারের টুর্নামেন্টে খেলবেন, সেটা নিশ্চিত। তবে আপাতত শামির যা ঘোষণা, তাতে রনজি ট্রফিতে তিনি খেলতে চান না। যদিও সূত্রের খবর, যেভাবেই হোক দলের অন্যতম সেরা পেসারকে এ মরশুমে রনজির পরবর্তী পর্যায়ের ম্যাচগুলিতে নামাতে চায় সিএবি। বঙ্গ ক্রিকেট কর্তারা ঠিক করেছেন, দ্রুত শামির সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। জানুয়ারির শেষের আগে রনজিতে আর ম্যাচ নেই বাংলার। ততদিনে শামিকে ঠিক বুঝিয়ে রাজি করাতে পারবেন বলেই বিশ্বাস সিএবি কর্তাদের। আর শামি? তিনিও কি রনজি জেতার একটা শেষ চেষ্টা করবেন না?
শেয়ার
লিংক



