সোনিয়া গান্ধীকে নিশানা গিরিরাজ সিংয়ের, বাতলা হাউস এনকাউন্টার ও অযোধ্যায় রামভক্তদের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে কটাক্ষ

নয়াদিল্লি, ৮ নভেম্বর : বাবরি মসজিদ ধ্বংস এবং বাতলা হাউস এনকাউন্টার নিয়ে সোনিয়া গান্ধীর আবেগপ্রকাশের প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেসের প্রবীণ নেত্রীকে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং। একই সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকেও নিশানা করে তাঁর বিরুদ্ধে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি এবং ধর্মীয় বিষয়কে কেন্দ্র করে বেছে বেছে প্রতিক্রিয়া জানানোর অভিযোগ তুললেন তিনি।
রবিবার সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গিরিরাজ সিং অভিযোগ করেন, বাবরি মসজিদ ধ্বংস এবং বাতলা হাউস এনকাউন্টারের ঘটনায় সোনিয়া গান্ধী দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু অযোধ্যায় রামভক্তদের উপর গুলি চালানোর ঘটনায় তিনি কোনওরকম আবেগ বা সহানুভূতি প্রকাশ করেননি।
গিরিরাজ সিং বলেন, “হ্যাঁ, বাবরি মসজিদ এবং বাতলা হাউস এনকাউন্টারের ঘটনায় সোনিয়া গান্ধী কেঁদেছিলেন। কিন্তু যখন রামভক্তদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, তখন তাঁর চোখে জল আসেনি। সোনিয়া গান্ধী কাঁদেন, এমনকি আজমগড়েও যান। অন্যদিকে, তাঁর ছেলে জেএনইউতে গিয়ে সন্ত্রাসবাদীদের সম্মান জানিয়ে ‘জি’ বলে সম্বোধন করেন। সেখানে ‘আফজল, তোমার হত্যাকারীরা এখনও বেঁচে আছে, আমরা লজ্জিত’—এই ধরনের স্লোগানও ওঠে। সোনিয়া জি, ভোটের স্বার্থে আপনারা সবকিছুই করতে পারেন।”
এরপর সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে আক্রমণ করে গিরিরাজ সিং তাঁকে অযোধ্যার রামমন্দির দর্শনের চ্যালেঞ্জ জানান। তাঁর দাবি, রামমন্দিরে গেলে অখিলেশ যাদবের বোধোদয় হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি অখিলেশের বিরুদ্ধে রামভক্তদের রক্তের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে জড়িয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
গিরিরাজ সিং বলেন, “অখিলেশ যাদবের রামমন্দিরে যাওয়া উচিত। সেখানে গেলে তাঁর জ্ঞানবুদ্ধির উদয় হবে। কিন্তু নিজের গ্রাম থেকে হামাগুড়ি দিয়ে এলেও ভগবান রাম তাঁকে ক্ষমা করবেন না, কারণ তাঁর ডিএনএ রামভক্তদের রক্তে কলঙ্কিত। রামভক্তদের উপর গুলি চালানো হয়েছিল।”
মথুরায় প্রস্তাবিত ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মন্দির নির্মাণের প্রসঙ্গও তোলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি বলেন, অখিলেশ যাদব চাইলে মথুরায় যেতে পারেন এবং মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিন ঘোষণা করতে পারেন। গিরিরাজের কথায়, “অখিলেশ যাদব যদি মথুরায় যেতে চান, তাহলে তাঁকে স্বাগত। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের একটি দিন ঘোষণা করুন, আমরা তাঁর সঙ্গে যাব।”
এছাড়াও অখিলেশ যাদবের বিরুদ্ধে মসজিদে গিয়ে মাথায় টুপি পরে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া এবং সমাজবাদী পার্টির প্রবীণ নেতা আজম খানের মন জয়ের চেষ্টা করার অভিযোগ তোলেন তিনি।
গাজিয়াবাদের সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনায় অখিলেশ যাদবের প্রতিক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন গিরিরাজ সিং। তাঁর অভিযোগ, একটি মুসলিম সংগঠন ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে অখিলেশ যাদব বিষয়টি নিয়ে সরব হননি। জাতীয় স্তর কিংবা উত্তরপ্রদেশের কোনও মুসলিম নেতা ওই ঘটনার নিন্দা করেননি বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসির নীরবতা নিয়েও সমালোচনা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
উল্লেখ্য, গত ৬ নভেম্বর রাতে গাজিয়াবাদের বসুন্ধরা পুলিশ ফাঁড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পুলিশ ফাঁড়ির জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং সেখানে লাগানো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার সময় ফাঁড়ির ভিতরে কোনও পুলিশকর্মী উপস্থিত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
তবে বিস্ফোরণে ২০ বছর বয়সি এক খাদ্য সরবরাহকারী কর্মী আহত হন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য দিল্লির সূর্যনগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ ঘ
টনার তদন্ত চালাচ্ছে।



