পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলতেই পারে! বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে গম্ভীরের পাশে গাভাসকর

মাত্র ১৩৫ রানের লক্ষ্য। অথচ সেই রান তাড়া করতে নেমেই হুড়মুড়িয়ে উইকেট খুইয়ে প্রবল চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারত। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে শুভমান গিলের দল। সাজঘরে ফিরে যান শুভমান, বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মারা। সেই সময় কেএল রাহুলের আগে নামানো হয় অক্ষর প্যাটেলকে। সেই সিদ্ধান্ত কাজে লাগেনি। অনেকে গিল-গম্ভীরদের এ হেন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেও পাশে দাঁড়াচ্ছেন সুনীল গাভাসকর।
ম্যাথু ফিশারের বলে ৭ রান করে আউট হন অক্ষর। জয়ের জন্য তখন প্রয়োজন ৫৩ রান। তবে শেষ পর্যন্ত বিপদ সামাল দেন রাহুল ও শ্রেয়স আইয়ার। বোলারদের বদ্ধভূমি হয়ে ওঠা বাইশ গজে ভালোই লড়ছিলেন তাঁরা। তাঁদের জুটিই ভারতকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। রাহুলের আগে অক্ষরকে ব্যাট করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেক ক্রিকেটপ্রেমী। কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল কোচ গৌতম গম্ভীর এবং অধিনায়ক শুভমান গিলকে। তবে গাভাসকরের যুক্তি আলাদা।
ম্যাচের পর সম্প্রচারকারী চ্যানেলকে তিনি বলেন, “বাঁ হাতি ব্যাটার ক্রিজে এলে বোলারদের কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়। ডান হাতি ব্যাটারের জন্য যে লাইন ও লেংথে বল করার পরিকল্পনা থাকে, বাঁ হাতি ব্যাটার আসায় তা বদলাতে হয়। সেই পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে পরের ডান হাতি ব্যাটারের বিরুদ্ধেও। ফলে সেই সময় রানও ওঠে। এই ভাবনায় কোনও ভুল ছিল না। অক্ষর রান পেলে তখন তো নেতৃত্বের প্রশংসা করা হত। এ ধরনের পরিকল্পনা কখনও সফল হয়, কখনও হয় না। এবার সেটা কাজে লাগেনি। তাছাড়া অক্ষরের পরেই রাহুলের মতো নির্ভরযোগ্য ব্যাটার ছিল। সে কারণেই মাঝেমধ্যে এমন পরীক্ষা করা হয়।” অর্থাৎ অক্ষরকে আগে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে ভুল বলতে নারাজ সানি।
চাপের মুখে অক্ষরকে উপরের দিকে ব্যাট করতে আগেও পাঠানো হয়েছিল। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। সেদিন বিরাট কোহলির সঙ্গে দুর্দান্ত জুটি গড়েছিলেন অক্ষর। কেবল তা-ই নয়, গতবছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও রাহুলের আগে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করেছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বৃষ্টির জন্য খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ২৬ ওভারে ভারতের রান ছিল ৭ উইকেটে ১১৩। শেষ পর্যন্ত ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ৪ রানে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। এমন কম রানের ম্যাচে গাভাসকরের মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
শেয়ার
লিংক



