0%

৬,২৭,০০,০০,০০০ কোটি টাকা! ভারতের সফর না থাকায় বিপুল লোকসানের মুখে ইংল্যান্ড ক্রিকেট 

বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের প্রভাব কতটা, তা আরও একবার প্রমাণিত হল। ২০২৭ সালে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ মিলিয়ন পাউন্ড। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৬২৭ কোটি টাকা। ঘরের মাঠে ভারতের বিরুদ্ধে কোনও ম্যাচ না থাকায় সম্প্রচার স্বত্ব এবং বাণিজ্যিক চুক্তি থেকে প্রত্যাশিত আয় অনেকটাই কমতে পারে ইসিবির। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঐতিহ্যবাহী অ্যাশেজ সিরিজ আয়োজন করেও সেই ঘাটতি পূরণ করা কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য লোকসানের নেপথ্যে রয়েছে মূলত দু’টি কারণ। প্রথমত, সম্প্রচার স্বত্ব থেকে ইসিবির রোজগার। যার বড় অংশই নির্ভর করে কোন দেশ ইংল্যান্ড সফরে আসছে, তার উপর। বিশেষ করে ভারতীয় দল ইংল্যান্ডে খেলতে এলে সম্প্রচারকারী সংস্থা ও বিজ্ঞাপনদাতাদের আগ্রহ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ভারতীয় দর্শকদের বিপুল বাজারের কথা মাথায় রেখে সম্প্রচার স্বত্বের মূল্যও বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ২০২৭ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতের কোনও ম্যাচ না থাকায় এই খাতে বড় অঙ্কের আয়ের সম্ভাবনা থাকছে না।

দ্বিতীয় কারণ আইসিসি সিদ্ধান্ত। ২০২৭ সালে সদস্য দেশগুলিকে সম্প্রচার স্বত্ব থেকে প্রাপ্য অর্থের একটি অংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। ফলে ইসিবির মতো পূর্ণ সদস্য দেশগুলিও আগামী বছর পুরো অর্থ পাবে না। যদিও অতিরিক্ত বাণিজ্যিক চুক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট প্রশাসনের সামনে।

ভারতীয় টেলিভিশন বাজার এবং সেদেশের দর্শকদের উপর ইংল্যান্ডের ক্রিকেটের আর্থিক নির্ভরতা কতটা, তা বোঝা যায় সম্প্রচার স্বত্বের চুক্তির দিকে তাকালেই। বর্তমানে সোনি পিকচার্সের সঙ্গে ইসিবির ছ’বছরের চুক্তি রয়েছে। যার আর্থিক মূল্য ১৮৫ মিলিয়ন পাউন্ড। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৩২৩ কোটি টাকা। ২০২৮ সালে সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। তার পরে নতুন চুক্তিতে একই রকম বিপুল অর্থ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সংশয় তৈরি হয়েছে।

আর্থিক সংকটের প্রভাব পড়তে পারে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটেও। দেশের ১৮টি কাউন্টি ক্লাবের মধ্যে ১০টিই বর্তমানে লোকসানে চলছে। এই ক্লাবগুলির আয়ের বড় অংশ আসে ইসিবির আর্থিক সহায়তা থেকে। ফলে বোর্ডের আয় কমলে তার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে কাউন্টি ক্রিকেটে। অর্থাৎ, কেবল ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজ না হওয়ার বিষয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে ইংল্যান্ডের গোটা ‘ক্রিকেট অর্থনীতি’র হিসাব।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker