0%

খেজুরিতে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে, পবিত্র দাসকে ঘিরে বিক্ষোভ

তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে বিজেপির অন্দরের কোন্দল (BJP Infighting) প্রকাশ্যে আসার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খেজুরি ২ ব্লকের নিজকসবা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার নিমতলায়…

তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে বিজেপির অন্দরের কোন্দল (BJP Infighting) প্রকাশ্যে আসার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খেজুরি ২ ব্লকের নিজকসবা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার নিমতলায় পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ পবিত্র দাসকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগ উঠেছে বিজেপিরই একাংশের বিরুদ্ধে। নিজকসবা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তারাপদ মণ্ডল এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ হয় বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পবিত্র দাসের বিরুদ্ধে টাকা তোলা, নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আর্থিক লেনদেন এবং পুরনো বিজেপি কর্মীদের বঞ্চিত করার মতো একাধিক অভিযোগ তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পবিত্র দাস। তাঁর দাবি, কোনও বিক্ষোভ বা হেনস্থার ঘটনা ঘটেনি, বরং কিছু বিষয় নিয়ে দলের কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তারাপদ মণ্ডল ও তাঁর অনুগামীদের অভিযোগ, খেজুরির ফেরিঘাট থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় এবং তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কাছ থেকেও টাকা তুলছেন পবিত্র দাস। তাঁদের আরও দাবি, অর্থের বিনিময়ে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা ব্যক্তিদের সাংগঠনিক পদ দেওয়া হচ্ছে, অথচ দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের উপেক্ষা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ভিআরপি নিয়োগ এবং জমি সংক্রান্ত কাজেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। যদিও এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি। অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসনিক তদন্ত বা দলীয় তদন্তের কোনও নিশ্চিত তথ্যও এখনও সামনে আসেনি।

বিক্ষোভের সময় পবিত্র দাসকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে অভিযোগ। তাঁকে হেনস্থা ও নিগ্রহ করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ। তারাপদ মণ্ডলের বক্তব্য, ২০২৩ সাল থেকে পবিত্র দাস বন ও ভূমি দপ্তরের কাজে যুক্ত ছিলেন। তাঁর দাবি, আগে পবিত্র দাসকে কাজের জায়গায় নিয়ে যাওয়া এবং কর্মাধ্যক্ষের দপ্তরে বসানোর ব্যবস্থা করতেন তাঁরাই। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বন দপ্তরের কাজের সূত্রে টাকা তোলা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বন দপ্তরের একজনকে সভাপতি করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তারাপদ। তাঁর দাবি, সেই লেনদেন তাঁরা আটকে দিয়েছেন।

তারাপদ মণ্ডল আরও বলেন, খেজুরির বিভিন্ন এলাকায় পবিত্র দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে সরানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাবেন বলেও জানান তিনি। বক্তব্য রাখতে গিয়ে পবিত্র দাসের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন তারাপদ। তবে এই অভিযোগগুলি তাঁর ব্যক্তিগত বক্তব্য হিসেবেই বিবেচ্য। কোনও অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে, এমন তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগ ও প্রমাণিত ঘটনার মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি।

অন্যদিকে, পবিত্র দাস সমস্ত অভিযোগ খারিজ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিক্ষোভ বা হেনস্থার কোনও ঘটনা ঘটেনি। এলাকার কয়েকজন বিজেপি কর্মী কিছু বিষয় জানতে চেয়েছিলেন এবং সেই বিষয়গুলি নিয়েই তাঁদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, জেলা সভাপতির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে দাবি করেন পবিত্র দাস। তাঁর বক্তব্য, কেউ যদি তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা গুজব ছড়ান, তাহলে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। ফলে একই ঘটনাকে ঘিরে দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা। একদিকে আর্থিক অনিয়ম ও দলীয় বঞ্চনার অভিযোগ, অন্যদিকে অভিযুক্ত নেতার দাবি, বিষয়টিকে ভুলভাবে প্রচার করা হচ্ছে।

খেজুরির এই ঘটনা বিজেপির স্থানীয় সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। দীর্ঘদিনের কর্মীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ এবং সাংগঠনিক পদ বণ্টনে আর্থিক লেনদেনের দাবি সত্যি হলে তা দলের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। একইভাবে, বিক্ষোভের সময় হেনস্থা বা নিগ্রহের অভিযোগ থাকলে তারও যথাযথ তদন্ত হওয়া দরকার।

রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যেই নন্দীগ্রামের পাশের খেজুরিতে দলের নেতাদের মধ্যে এই প্রকাশ্য বিরোধের অভিযোগ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সমাজমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে। এখন নজর থাকবে, পবিত্র দাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে বিজেপির জেলা নেতৃত্ব কোনও তদন্ত বা সাংগঠনিক পদক্ষেপ করে কি না। পাশাপাশি, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতাদের বিরুদ্ধেও দল শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ খতিয়ে দেখে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। আপাতত দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই রয়েছে খেজুরির এই রাজনৈতিক বিতর্ক।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker