তৃণমূল কার্যালয়ে নগদ টাকা উদ্ধার নিয়ে বিস্ফোরক অভিষেক, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়ো প্রমাণ সাজিয়েছে পুলিশ’

কলকাতা, ৫ নভেম্বর : দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অন্তর্গত সরিষায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয় থেকে ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, পুলিশ প্রশাসনই পরিকল্পিতভাবে ওই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা দলীয় কার্যালয়ে রেখে উদ্ধার হওয়ার নাটক সাজিয়েছে।
ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জানিয়েছিল, একই পুলিশ জেলার কালিতলা-আশুতি থানায় দায়ের হওয়া কোটি কোটি টাকার মাটি চুরির মামলায় ধৃত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেই সরিষার ওই দলীয় কার্যালয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা মজুত থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
তবে পুলিশের এই দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে বুধবার গভীর রাতে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন অভিষেক। সেখানে তাঁর অভিযোগ, ছয় মাস আগে বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীরা ওই তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছিল। পরবর্তীকালে সেটি পুলিশি তদন্তের আওতায় আসে। সেই কার্যালয়েই পরিকল্পিতভাবে ভুয়ো ও সাজানো প্রমাণ হিসেবে নগদ টাকা রাখা হয়েছে।
অভিষেক তাঁর পোস্টে লেখেন, “ছয় মাস আগে বিজেপির দুষ্কৃতীদের দ্বারা ভাঙচুর হওয়া এবং পরবর্তীকালে পুলিশি তদন্তের আওতায় আসা একটি জায়গায় ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়ো ও জাল প্রমাণ সাজিয়ে রাখা বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করা, তদন্তকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং আইন-প্রশাসনের ক্ষমতার অপব্যবহারের নির্লজ্জ প্রচেষ্টা।”
এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের শেষ পর্যন্ত জবাবদিহি করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তাঁর বক্তব্য, যারা এই ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করেছে এবং যারা তাদের নির্দেশে কাজ করছে, প্রত্যেককেই প্রমাণ জাল করা, তদন্তে কারসাজি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ থাকতে হবে।
পুলিশ প্রশাসনকেও সতর্ক করে অভিষেক বলেন, রাজনৈতিক মদত, সরকারি পদ কিংবা পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারকে কখনও আইনি দায়বদ্ধতা থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় বলে মনে করা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, পদমর্যাদা, অবস্থান কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, এই ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের কাছে আইন পৌঁছবে। তাঁদের আইনের সম্পূর্ণ মুখোমুখি হতে হবে। কোনও আপস বা পিছিয়ে আসার প্রশ্ন নেই বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
উল্লেখ্য, সোমবার ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলা নিশ্চিত করেছিল যে, যে দলীয় কার্যালয় থেকে নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে, সেটি তৃণমূল কংগ্রেসের। তবে কারা ওই কার্যালয়টি পরিচালনা করতেন, সে বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি।
এত বিপুল পরিমাণ টাকা কেন তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল এবং সেই অর্থের উৎস কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। টাকার উৎস সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অর্থের সঙ্গে কালিতলা-আশুতি থানায় দায়ের হওয়া মাটি চুরির মামলার যোগসূত্র রয়েছে।
—আইএএনএস (IANS)



