হকিতে এশিয়াশ্রেষ্ঠ ভারত! জাপানকে উড়িয়ে সেরার শিরোপা যুগরাজদের

ম্যাচের বয়স তখন মিনিট তিনেক। ভারতের জালে জড়িয়ে গেল বল। তখন অনেকেই ভেবেছিলেন এই চাপ হয়তো আর সামলে উঠতে পারবেন না হরমনপ্রীত সিংরা। কিন্তু শেষপর্যন্ত দারুণ লড়াই করে জাপানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হল ভারত। গোল করলেন শীলানন্দ লাকরা, দিলপ্রীত সিং, যুগরাজ সিং এবং বিবেক সাগর প্রসাদ। এই নিয়ে ষষ্ঠবার এই প্রতিযোগিতায় জয়ী হল ভারত।
এদিন শুরুতেই গোল খাওয়ার পাশাপাশি জাপানের ক্রমাগত আক্রমণ এবং চমৎকার রক্ষণভাগ ভারতের উপর ক্রমান্বয়ে চাপ বাড়াচ্ছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত তৃতীয় কোয়ার্টারে শীলানন্দ লাকরা গোল করে সমতা ফেরান। এই একটি গোলেই যেন পরিস্থিতি বদলে গেল রাতারাতি। শেষ কোয়ার্টারে ভারতের উপর্যুপরি আক্রমণে কার্যতই দিশাহারা দেখাচ্ছিল ‘উদিত সূর্যের দেশ’কে। পরপর গোল করেন দিলপ্রীত, যুগরাজ ও বিবেক সাগর প্রসাদ।
এবারের প্রতিযোগিতায় ভারত চ্যাম্পিয়নের মতোই খেলেছে শুরু থেকে। এমনিতেও এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল ভারত। এর আগে পাঁচবার এই প্রতিযোগিতার খেতাব জিতেছে ভারতীয় দল। ২০১১, ২০১৬, ২০১৮, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। এবারও ঘরের মাঠে খেতাবজয়ের অন্যতম দাবিদার ছিল তারাই। আর সেটা বোঝা গিয়েছিল প্রথম ম্যাচ থেকেই। বাংলাদেশকে ১৩-০ হারিয়ে প্রতিযোগিতার দৌড় শুরু হয়েছিল তাদের। এরপর সব ম্যাচেই অব্যাহত ছিল সেই আধিপত্য। একটিও ম্যাচে হারেনি ভারত। চিনকে ৫-২, জাপানকে ৪-১, মালয়েশিয়াকে ৪-২ হারানোর পরে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৮-০ গোলে চূর্ণ করে সেমিতে পৌঁছয় ভারত। আর সেমিতেও সেই দক্ষিণ কোরিয়াকেই ফের উড়িয়ে দেয় তারা। ফলাফল হয় ৮-১। এবার ফাইনালেও অব্যাহত থাক যুগরাজদের সোনার দৌড়।
পাঞ্জাবের জলন্ধর ও মোহালিতে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল ছ’টি দল— ভারত, বাংলাদেশ, চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়া। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নবম সংস্করণ ২৭ অক্টোবর শুরু হয়েছিল। প্রতিযোগিতার লিগ পর্বের সব ম্যাচ হয়েছিল জলন্ধরের অলিম্পিয়ান সুরজিৎ সিং হকি স্টেডিয়ামে। এরপর ৪ নভেম্বর সেমিফাইনাল এবং ৫ নভেম্বর পদক নির্ধারণী ম্যাচ আয়োজিত হল মোহালির অলিম্পিয়ান বলবীর সিং সিনিয়র ইন্টারন্যাশনাল হকি স্টেডিয়ামে।
শেয়ার
লিংক



